সবুজদিন ডেস্ক।।
জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ ১২ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
আহতরা হলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের (২২); ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক (২৩), ঢাবি শিক্ষার্থী তানজিম (২১), আলভি (২২) ও এহসান (২৩) এবং ঢাবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সিফাত (২০), লিটন (২১), খালিদ (২১)।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের মধ্যে সাংবাদিকসহ ১২ জন আহত হলে তাদের হাসপাতাল নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে জরুরি বিভাগের ৪নং ওয়ার্ডে তাদের চিকিৎসা চলছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
এদিকে আহত সাংবাদিকরা হলেন কালের কণ্ঠের মানজুর হোছাঈন মাহি, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খান, ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন এবং দেশ রূপান্তরের খালিদ হাসান।
তাদের মধ্যে ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে ছাত্রশিবির অভিযোগ করেছে। এদিকে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার জরুরি সাংগঠনিক সভা ডেকেছে ছাত্রদল।
ঘটনার সূত্রপাতে জানা যায়, ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তবে আবদুল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা পোস্ট দিলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্ষান্ত হননি। ফেসবুকের মাধ্যমে তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হলে নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।
তার সঙ্গে অমর একুশে হল ছাত্র সংসদের জিএস উবায়দুর রহমান হাসিবসহ আরও দুজন ছিলেন। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে।
এসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. সাদ্দাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ‘শিবির-সাংবাদিক একসাথে চলে না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
কিছুক্ষণ পর অন্যান্য সাংবাদিকরা থানায় উপস্থিত হলে সামিথ এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে, এর কিছুক্ষণ পরই হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজার গিফারী ইফাত হঠাৎ চিৎকার করে ‘এই ভাইরে মারছে, ভাইরে মারছে’ বলে একটি মব সৃষ্টি করেন। তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তখন সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন।
পরবর্তীতে থানায় গিয়ে হামলার শিকার হন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। একপর্যায়ে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম শাহবাগ থানায় গেলে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাবির শহীদ ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর ওবায়দুর রহমান সামিথ সাংবাদিক মানজুর হোছাঈন মাহিকে ফোন করে বারবার দুঃখ প্রকাশ করেন। অন্য সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আগে সাংবাদিক মাহির সঙ্গে কথা বলে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।’
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। বিষয়টি আমি শুনেছি, আমি দেখছি।’
কিছু সময় পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবসহ অন্যরা শাহবাগে এসে থানা থেকে মোসাদ্দেক ও জুবায়েরকে বের করে গাড়িতে তুলে দেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে চিকিৎসা নেন তারা।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঢাবি সাংবাদিক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক সমিতির নেতারা ৩ দফা দাবি জানান।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। জড়িত যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে। সারাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ছাত্রশিবিরের নিন্দা ও প্রতিবাদ: ডাকসুর একাধিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে থানার ভেতর এ ধরনের হামলা প্রমাণ করে দেশের জনগণ কতটা অনিরাপদ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নতজানু ও ভঙ্গুর। তারা আরও বলেন, অবিলম্বে শাহবাগ থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে দাবি আদায়ে বাধ্য করবে।
জরুরি সভা ডেকেছে ছাত্রদল: বিভিন্ন ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার জরুরি সাংগঠনিক সভা ডেকেছে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাদের এ সভা দুপুর আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে থাকবেন সাধারণ সম্পাদক নাহিদ উদ্দিন নাহিদ।
Reporter Name 





















