০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানকে ব্যাপক সংবর্ধনার প্রস্তুতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৭০ Time View

স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরবেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকায় জনস্রোতের মধ্যদিয়ে তার এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় বিএনপি। এদিন শুধু সারা দেশ থেকে দলীয় নেতাকর্মী নয়, সর্বস্তরের লাখ লাখ জনসাধারণও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে বিমানবন্দরে যাবেন বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা। তার দেশে ফেরার ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীরা নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তুতি এখনো নেয়া হয়নি। কোনো কমিটিও গঠন হয়নি। শিগগিরই প্রস্তুতি নেয়া হবে। তবে কোনো প্রস্তুতি নেয়ার ও নির্দেশনা দেয়ার দরকার নেই বলে নেতারা মনে করছেন। তাদের ভাষ্য, জিয়া পরিবারের প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসার জন্য সেদিন সাধারণ মানুষের ঢল নামবে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের ৭ জন নেতার সঙ্গে কথা হয় । তারা জানিয়েছেন, ২৫শে ডিসেম্বর ঢাকায় আসার জন্য এখনো কোনো নির্দেশনা কেন্দ্র থেকে দেয়া হয়নি। নির্দেশনা দেয়া না হলেও তারা সেদিন ঢাকায় আসবেন। তারা আরও জানান, তারেক রহমান এখন শুধু বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নন, তিনি সারা দেশের মানুষের নেতা, তিনি সবার কাছে একজন প্রিয় ব্যক্তি। এজন্য তারেক রহমান যেদিন দেশের মাটিতে পা রাখবেন সেদিন দল-মত-নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ সমাগম ঘটবে বিমানবন্দরে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পরে আগামী ২৫শে ডিসেম্বর তিনি আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হবেন। এটা আমাদের জন্য অনেক অনুপ্রেরণার বিষয়। আমরা ২৫ তারিখে তাকে এমন এক সংবর্ধনা জানাবো, যেটা অতীতে কখনো কোনো নেতা বাংলাদেশে পায়নি। আমরা সবাই প্রস্তুত আছি।

ওদিকে তারেক রহমান দেশের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান। তাদের ফেরার দিন বড় জনসমাগমের কারণে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে কিনা- এমন প্রশ্নও উঠছে। এ বিষয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা সেদিন আমাদের নেতাকে স্বাগত জানাতে যাবো। এখানে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ার কথা না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এদিন সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা আসবেন। আর তারেক রহমান তো সেদিন নির্বাচনী প্রচারণা করতে আসছেন না। সুতরাং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের তো কিছু নেই। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, এখনো আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পাওয়ার পর অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আর এটা শুধু দলীয় ব্যবস্থার বিষয় নয়, তারেক রহমান যেদিন আসবেন সেদিন সারা দেশ থেকে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে যাবেন।

গাজীপুর জেলা বিএনপি আহ্বায়ক এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে আমাদের এখনো কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। নির্দেশনা দেয়ার পর আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। দেশে ফিরে তারেক রহমান গুলশান-২ এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে উঠবেন বলে বিএনপি’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটি জানায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের থাকার জন্য বাড়িটি উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। করা হচ্ছে সাজসজ্জা। লাগানো হয়েছে সিসিটিভি। বাড়ির নিরাপত্তায় রয়েছেন সিএসএফ। এ ছাড়া দেশে ফিরে তারেক রহমান ধানমণ্ডির ৫ নম্বর সড়কের ‘মাহবুব ভবন’-এ উঠতে পারেন বলেও দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তারেক রহমানের শ্বশুর সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়াল এডমিরাল মাহবুব আলী খানের বাসভবন এটি।

সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার গুলশান-২ এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়ির নামজারি সম্পন্ন করে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র বেগম খালেদা জিয়ার হাতে হস্তান্তর করেছে। এই বাড়ির পাশেই ‘ফিরোজা’য় থাকেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি বৃটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ-এর কাছে ভাড়া দেয়া ছিল। ১৯৮১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর তৎকালীন সরকার তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই বাড়িটি বরাদ্দ দেন। দেশে ফিরে তারেক রহমান এই বাড়িতে থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর (সিএসএফ) সদস্যরা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দেখভাল করবেন। ওদিকে নির্বাচনী প্রচারণাকে সামনে রেখে দু’টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নিরাপত্তায় এই গাড়ি কেনার অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশ্নফাঁসের প্রচারণাটি স্রেফ গুজব: শিক্ষামন্ত্রী

তারেক রহমানকে ব্যাপক সংবর্ধনার প্রস্তুতি

Update Time : ০৯:২২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরবেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকায় জনস্রোতের মধ্যদিয়ে তার এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় বিএনপি। এদিন শুধু সারা দেশ থেকে দলীয় নেতাকর্মী নয়, সর্বস্তরের লাখ লাখ জনসাধারণও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে বিমানবন্দরে যাবেন বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা। তার দেশে ফেরার ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীরা নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তুতি এখনো নেয়া হয়নি। কোনো কমিটিও গঠন হয়নি। শিগগিরই প্রস্তুতি নেয়া হবে। তবে কোনো প্রস্তুতি নেয়ার ও নির্দেশনা দেয়ার দরকার নেই বলে নেতারা মনে করছেন। তাদের ভাষ্য, জিয়া পরিবারের প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসার জন্য সেদিন সাধারণ মানুষের ঢল নামবে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের ৭ জন নেতার সঙ্গে কথা হয় । তারা জানিয়েছেন, ২৫শে ডিসেম্বর ঢাকায় আসার জন্য এখনো কোনো নির্দেশনা কেন্দ্র থেকে দেয়া হয়নি। নির্দেশনা দেয়া না হলেও তারা সেদিন ঢাকায় আসবেন। তারা আরও জানান, তারেক রহমান এখন শুধু বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নন, তিনি সারা দেশের মানুষের নেতা, তিনি সবার কাছে একজন প্রিয় ব্যক্তি। এজন্য তারেক রহমান যেদিন দেশের মাটিতে পা রাখবেন সেদিন দল-মত-নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ সমাগম ঘটবে বিমানবন্দরে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পরে আগামী ২৫শে ডিসেম্বর তিনি আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হবেন। এটা আমাদের জন্য অনেক অনুপ্রেরণার বিষয়। আমরা ২৫ তারিখে তাকে এমন এক সংবর্ধনা জানাবো, যেটা অতীতে কখনো কোনো নেতা বাংলাদেশে পায়নি। আমরা সবাই প্রস্তুত আছি।

ওদিকে তারেক রহমান দেশের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান। তাদের ফেরার দিন বড় জনসমাগমের কারণে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে কিনা- এমন প্রশ্নও উঠছে। এ বিষয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা সেদিন আমাদের নেতাকে স্বাগত জানাতে যাবো। এখানে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ার কথা না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এদিন সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা আসবেন। আর তারেক রহমান তো সেদিন নির্বাচনী প্রচারণা করতে আসছেন না। সুতরাং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের তো কিছু নেই। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, এখনো আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পাওয়ার পর অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আর এটা শুধু দলীয় ব্যবস্থার বিষয় নয়, তারেক রহমান যেদিন আসবেন সেদিন সারা দেশ থেকে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে যাবেন।

গাজীপুর জেলা বিএনপি আহ্বায়ক এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে আমাদের এখনো কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। নির্দেশনা দেয়ার পর আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। দেশে ফিরে তারেক রহমান গুলশান-২ এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে উঠবেন বলে বিএনপি’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটি জানায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের থাকার জন্য বাড়িটি উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। করা হচ্ছে সাজসজ্জা। লাগানো হয়েছে সিসিটিভি। বাড়ির নিরাপত্তায় রয়েছেন সিএসএফ। এ ছাড়া দেশে ফিরে তারেক রহমান ধানমণ্ডির ৫ নম্বর সড়কের ‘মাহবুব ভবন’-এ উঠতে পারেন বলেও দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তারেক রহমানের শ্বশুর সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়াল এডমিরাল মাহবুব আলী খানের বাসভবন এটি।

সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার গুলশান-২ এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়ির নামজারি সম্পন্ন করে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র বেগম খালেদা জিয়ার হাতে হস্তান্তর করেছে। এই বাড়ির পাশেই ‘ফিরোজা’য় থাকেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি বৃটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ-এর কাছে ভাড়া দেয়া ছিল। ১৯৮১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর তৎকালীন সরকার তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই বাড়িটি বরাদ্দ দেন। দেশে ফিরে তারেক রহমান এই বাড়িতে থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর (সিএসএফ) সদস্যরা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দেখভাল করবেন। ওদিকে নির্বাচনী প্রচারণাকে সামনে রেখে দু’টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নিরাপত্তায় এই গাড়ি কেনার অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।