১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন পক্ষের টানাটানিতে গদাইপুর কুরবানির পশুর হাট বন্ধ; খামারিরা বিপাকে ও এলাকায় চরম ক্ষোভ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ১৯৬ Time View

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ

খুলনার পাইকগাছার ঐতিহ্যবাহী গদাইপুর কুরবানির পশুর হাট তিনপক্ষের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০ বছর পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নিজেদের প্রভাব বিস্তারে ও গরুর হাটের খাজনা আদায়ের নামে অর্থ বাণিজ্যের লক্ষ্যে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গদাইপুর বাজারে পশুর হাট বসাতে তিনটি পক্ষ আবেদন করে। কোন পক্ষই নিজেদের ছাড় দিতে নারাজ। ত্রিমুখী টানা হেছড়া এবং কয়েকজন ব্যক্তির কারণে বিভিন্ন এলাকার গরুর খামারি, ব্যাপারী, ফড়িয়া, খুচরা গরু লালনপালনকারী ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিগত সময়ে কুরবানির ঈদের ১০-১৫ দিন আগেই কুরবানির পশু বিকিকিনি শুরু হয়ে যেত। সকাল থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত কুরবানির পশুর হাটে লোক ও পশুতে জমজমাট থাকত। কিন্তু চলতি বছর পশুর হাট না বসায় ফাঁকা অবস্থা বিরাজ করছে। এতে সবার মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গদাইপুরের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক বাবর আলী গোলদার বলেন, কোনো ঝামেলা ও চাঁদাবাজি ছাড়াই গদাইপুর হাটে অসংখ্য গরু-ছাগল বিক্রি হতো। এ হাটের একটা ঐতিহ্য ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মিলন মেলা বসত।

খুলনার পাইকগাছা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত সব থেকে বড় কোরবানির পশুর হাট এই গদাইপুর। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ও সুন্দর পরিবেশ থাকায় পশুর বাজারে বিক্রেতা ও ক্রেতা সাচ্ছান্দের সাথে পশু বেচা- কেনা করতে পারত। কিন্তু একেবারে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে তিনটি পক্ষ হাটের ইজারা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দপ্তরে আবেদন করেন। তিন পক্ষই অনড় থাকায় বিষয়টি জেলা প্রশাসক দপ্তর পর্যন্ত গড়ায়। শেষমেশ জেলা প্রশাসক ইজারা বন্ধ করে দেওয়ায় এ হাটে পশু বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়।

উপজেলার চাঁদখালী, কাসিমনগর স্থায়ী পশুর হাট আর বাঁকা, পৌরসভার সরল ও আগড়ঘাটা নামক স্থানে পশুর হাট বসছে; যা উপজেলার তিন দিকের শেষপ্রান্তে অবস্থিত। এতে বিক্রেতা ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

এ বিষয়ে গদাইপুর বাজারের ইজারাদার সাবেক ইউপি সদস্য জবেদ আলী গাজী বলেন, আমি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ কুরবানির পশুর হাটটি ইজারা নিয়ে যে খাজনা আদায় করেছি তা স্থানীয় মসজিদের উন্নয়ন কাজে লাগিয়েছি। একটি দুষ্টচক্রের অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেল। তবে আমি আশা করছি কর্তৃপক্ষ সর্বসাধারণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, হাট ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসক স্যারের। তিনি অনুমোদন দিলে হাট বসবে আর না দিলে আমার কিছু করার নেই।
ৃ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মোংলায় প্রটোকল ভেঙে জনতার মাঝে প্রধানমন্ত্রী

তিন পক্ষের টানাটানিতে গদাইপুর কুরবানির পশুর হাট বন্ধ; খামারিরা বিপাকে ও এলাকায় চরম ক্ষোভ

Update Time : ০২:০৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ

খুলনার পাইকগাছার ঐতিহ্যবাহী গদাইপুর কুরবানির পশুর হাট তিনপক্ষের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০ বছর পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নিজেদের প্রভাব বিস্তারে ও গরুর হাটের খাজনা আদায়ের নামে অর্থ বাণিজ্যের লক্ষ্যে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গদাইপুর বাজারে পশুর হাট বসাতে তিনটি পক্ষ আবেদন করে। কোন পক্ষই নিজেদের ছাড় দিতে নারাজ। ত্রিমুখী টানা হেছড়া এবং কয়েকজন ব্যক্তির কারণে বিভিন্ন এলাকার গরুর খামারি, ব্যাপারী, ফড়িয়া, খুচরা গরু লালনপালনকারী ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিগত সময়ে কুরবানির ঈদের ১০-১৫ দিন আগেই কুরবানির পশু বিকিকিনি শুরু হয়ে যেত। সকাল থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত কুরবানির পশুর হাটে লোক ও পশুতে জমজমাট থাকত। কিন্তু চলতি বছর পশুর হাট না বসায় ফাঁকা অবস্থা বিরাজ করছে। এতে সবার মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গদাইপুরের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক বাবর আলী গোলদার বলেন, কোনো ঝামেলা ও চাঁদাবাজি ছাড়াই গদাইপুর হাটে অসংখ্য গরু-ছাগল বিক্রি হতো। এ হাটের একটা ঐতিহ্য ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মিলন মেলা বসত।

খুলনার পাইকগাছা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত সব থেকে বড় কোরবানির পশুর হাট এই গদাইপুর। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ও সুন্দর পরিবেশ থাকায় পশুর বাজারে বিক্রেতা ও ক্রেতা সাচ্ছান্দের সাথে পশু বেচা- কেনা করতে পারত। কিন্তু একেবারে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে তিনটি পক্ষ হাটের ইজারা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দপ্তরে আবেদন করেন। তিন পক্ষই অনড় থাকায় বিষয়টি জেলা প্রশাসক দপ্তর পর্যন্ত গড়ায়। শেষমেশ জেলা প্রশাসক ইজারা বন্ধ করে দেওয়ায় এ হাটে পশু বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়।

উপজেলার চাঁদখালী, কাসিমনগর স্থায়ী পশুর হাট আর বাঁকা, পৌরসভার সরল ও আগড়ঘাটা নামক স্থানে পশুর হাট বসছে; যা উপজেলার তিন দিকের শেষপ্রান্তে অবস্থিত। এতে বিক্রেতা ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

এ বিষয়ে গদাইপুর বাজারের ইজারাদার সাবেক ইউপি সদস্য জবেদ আলী গাজী বলেন, আমি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ কুরবানির পশুর হাটটি ইজারা নিয়ে যে খাজনা আদায় করেছি তা স্থানীয় মসজিদের উন্নয়ন কাজে লাগিয়েছি। একটি দুষ্টচক্রের অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেল। তবে আমি আশা করছি কর্তৃপক্ষ সর্বসাধারণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, হাট ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসক স্যারের। তিনি অনুমোদন দিলে হাট বসবে আর না দিলে আমার কিছু করার নেই।
ৃ