১১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জলবায়ু ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মেলায় চরম অব্যবস্থাপনা:

বৃষ্টির জলে ভিজল শিক্ষার্থী ও অতিথিরা, আয়োজকদের বাজেট সংকটের অজুহাত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ Time View

ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা,মোংলা।।
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা পরিষদের সামনে এনজিও ‘জেজেএস’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মেলায় চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। দুর্যোগ মোকাবিলা ও সচেতনতার এই মেলাটিতে রোদ বা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষায় কোনো ধরনের সুরক্ষার ব্যবস্থা না রাখায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেলায় আগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই মেলায় প্রায় ৫০০ মানুষের সমাগম হওয়ার কথা থাকলেও যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে অনুষ্ঠানস্থল ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। মেলা চলাকালে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বিপাকে পড়েন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও স্টল প্রতিনিধিরা। দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে তাদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায় এবং অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে চরম ভোগান্তির শিকার হন। আয়োজকদের দেখা যায় আগতদের ধরে ধরে হাজিরা সিটে স্বাক্ষর নিচ্ছেন।

​মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জলবায়ু ও দুর্যোগ প্রস্তুতির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে “অস্থায়ী কাপড়ের শামিয়ানা” দেওয়া হয়েছে, যা বৃষ্টি আটকাতে পারে না। এভাবে মেলার আয়োজন করা জেজেএস-এর ঠিক হয়নি। দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে তড়িঘড়ি করে এমন আয়োজন না করে, মেলাটি আরও সুশৃঙ্খল ও সঠিকভাবে করা উচিত ছিল।”

​বৃষ্টিতে ভেজা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, “বৃষ্টিতে ভিজে জামাকাপড় ভিজে যাওয়ার পর তা গায়ে শুকাচ্ছে। এভাবে ভিজে যদি আমরা ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বর বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে পড়ি, তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার কে নেবে?”

​সার্বিক বিষয়ে মেলা আয়োজক এনজিও জেজেএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নব কুমার সাহা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাজেট স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে জানান, সীমিত বাজেটের কারণেই তারা এই অপ্রতুল পরিস্থিতিতে মেলাটি করতে বাধ্য হয়েছেন।

জেজেএস ক্লাইমেট চেঞ্জ এডুকেটার মোঃ তারিকুল ইসলাম জানান, সরকারি সহায়তায় ছাড়াই জেজেএস এই অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছে। বৃষ্টি মাঝে মাঝে আসছে, এতে তাদের করার কিছু নেই। মেলাতো করতে হবে। আমাদের এর বেশি কিছু করার নেই।

মেলা উদ্বোধন কালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, বৃষ্টি কারনে মেলার অধিকাংশ চেয়ার ফাঁকা। যদিও এই মেলাটির গুরুত্বপূর্ণ।

মেলায় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী,মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নুর আলম শেখ, জেজেএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নব কুমার সাহা, ক্লাইমেট চেঞ্জ এডুকেটার মোঃ তারিকুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন।

​উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই মেলায় মোট ৮টি স্টল অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১টি ফায়ার সার্ভিস এবং ১টি সিপিপি (ঈচচ) স্টল ছিল । মেলাটিতে প্রায় ১৮০ জন ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অতিথিদের নিয়ে প্রায় ৫০০ মানুষের সমাগম হওয়ার কথা থাকলেও এমন চরম অব্যবস্থাপনার কারণে অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ফাঁকা চিত্র।

সচেতন মহল মনে করছেন, দুর্যোগ মোকাবিলার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এ ধরনের অপরিকল্পিত আয়োজন জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।#

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

জলবায়ু ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মেলায় চরম অব্যবস্থাপনা:

বৃষ্টির জলে ভিজল শিক্ষার্থী ও অতিথিরা, আয়োজকদের বাজেট সংকটের অজুহাত

Update Time : ০৯:১২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা,মোংলা।।
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা পরিষদের সামনে এনজিও ‘জেজেএস’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মেলায় চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। দুর্যোগ মোকাবিলা ও সচেতনতার এই মেলাটিতে রোদ বা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষায় কোনো ধরনের সুরক্ষার ব্যবস্থা না রাখায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেলায় আগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই মেলায় প্রায় ৫০০ মানুষের সমাগম হওয়ার কথা থাকলেও যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে অনুষ্ঠানস্থল ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। মেলা চলাকালে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বিপাকে পড়েন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও স্টল প্রতিনিধিরা। দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে তাদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায় এবং অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে চরম ভোগান্তির শিকার হন। আয়োজকদের দেখা যায় আগতদের ধরে ধরে হাজিরা সিটে স্বাক্ষর নিচ্ছেন।

​মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জলবায়ু ও দুর্যোগ প্রস্তুতির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে “অস্থায়ী কাপড়ের শামিয়ানা” দেওয়া হয়েছে, যা বৃষ্টি আটকাতে পারে না। এভাবে মেলার আয়োজন করা জেজেএস-এর ঠিক হয়নি। দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে তড়িঘড়ি করে এমন আয়োজন না করে, মেলাটি আরও সুশৃঙ্খল ও সঠিকভাবে করা উচিত ছিল।”

​বৃষ্টিতে ভেজা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, “বৃষ্টিতে ভিজে জামাকাপড় ভিজে যাওয়ার পর তা গায়ে শুকাচ্ছে। এভাবে ভিজে যদি আমরা ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বর বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে পড়ি, তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার কে নেবে?”

​সার্বিক বিষয়ে মেলা আয়োজক এনজিও জেজেএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নব কুমার সাহা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাজেট স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে জানান, সীমিত বাজেটের কারণেই তারা এই অপ্রতুল পরিস্থিতিতে মেলাটি করতে বাধ্য হয়েছেন।

জেজেএস ক্লাইমেট চেঞ্জ এডুকেটার মোঃ তারিকুল ইসলাম জানান, সরকারি সহায়তায় ছাড়াই জেজেএস এই অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছে। বৃষ্টি মাঝে মাঝে আসছে, এতে তাদের করার কিছু নেই। মেলাতো করতে হবে। আমাদের এর বেশি কিছু করার নেই।

মেলা উদ্বোধন কালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, বৃষ্টি কারনে মেলার অধিকাংশ চেয়ার ফাঁকা। যদিও এই মেলাটির গুরুত্বপূর্ণ।

মেলায় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী,মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নুর আলম শেখ, জেজেএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নব কুমার সাহা, ক্লাইমেট চেঞ্জ এডুকেটার মোঃ তারিকুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন।

​উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই মেলায় মোট ৮টি স্টল অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১টি ফায়ার সার্ভিস এবং ১টি সিপিপি (ঈচচ) স্টল ছিল । মেলাটিতে প্রায় ১৮০ জন ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অতিথিদের নিয়ে প্রায় ৫০০ মানুষের সমাগম হওয়ার কথা থাকলেও এমন চরম অব্যবস্থাপনার কারণে অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ফাঁকা চিত্র।

সচেতন মহল মনে করছেন, দুর্যোগ মোকাবিলার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এ ধরনের অপরিকল্পিত আয়োজন জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।#