আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষযাত্রাকে ঘিরে রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে বিশাল শোক র্যালি। রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের দাবি, আধুনিক ইরানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় জনসমাগমের শোকযাত্রা, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন।
আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ছয়টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্স থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। এর আগে দুই দিন ধরে সেখানে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল।
তেহরানে খামেনির শোক র্যালি শুরু, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগম
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই শোভাযাত্রা শেষ হতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। নির্ধারিত পথে এটি দামাভান্দ স্ট্রিট, ইমাম হুসেইন স্কয়ার, এনকেলাব স্ট্রিট ও স্কয়ার, আজাদি স্ট্রিট ও স্কয়ার অতিক্রম করে মেহরাবাদ বিমানবন্দরের কাছের শহিদ লাশগারি মহাসড়ক পর্যন্ত যাবে।
রোববার অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে ইমামতি করেন গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। ওই জানাজায় খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের জন্যও দোয়া করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাঘেরি-কানি, মেয়ে জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি-গোলপায়েগানি এবং সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি-খামেনি।
গত শুক্রবার রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, তাজিকিস্তান ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা তেহরানে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শোকানুষ্ঠানের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামীকাল মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে আরেকটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বুধবার ইরাকের নাজাফে ইমাম আলী (আ.)-এর মাজার এবং কারবালায় ইমাম হুসেইন (আ.) ও হজরত আব্বাস (আ.)-এর মাজারে স্মরণানুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে। খামেনির ইচ্ছা অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, তেহরানের মোসাল্লা মসজিদে শত শত হাজার মানুষ খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিনের পাশে হেঁটে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানীতে এসেছেন
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ইরানের নেতৃত্বের কাছে এই শোকানুষ্ঠান শুধু একজন নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন নয়; বরং দীর্ঘ সময় দেশ পরিচালনা করা নেতার হত্যার পর রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার বার্তা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
অন্যদিকে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া কিছু মানুষের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবিযুক্ত প্ল্যাকার্ডও বহন করতে দেখা গেছে। কয়েকটি প্ল্যাকার্ডে ‘রক্ত ঝরবেই’ স্লোগান লেখা ছিল।
Reporter Name 

























