১০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বগুড়ায় থামছে না স্বার্থান্বেষী মহলের নাম ব্যবহারের অপচেষ্টা

নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে ডিও লেটার দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ১ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ–মোকামতলা) আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের উদ্যোগ না নিতে শিক্ষা সচিবের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়েছেন তিনি।

পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে ও স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তার নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন, যা তার কাছে অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখাই অধিকতর সমীচীন।

তিনি আরও জানান, শিবগঞ্জ মোকামতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি দান, নিজ অর্থে জমি ক্রয়, প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যয় বহন ও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে আসছেন। তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত বা উন্নয়ন করা হয়েছে।

এসবের মধ্যে রয়েছে-মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৯৭), বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি এতিমখানা (২০০৪), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (২০০১), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বিএম মহাবিদ্যালয় (২০০৪), তিয়াইল মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০১২), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম মৎস্য ও কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (২০১৩), বেতগাড়ি মীর মাহাতাব শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা (২০২৩), মোকামতলা মীর শাহে আলম-ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয় (২০২৩), কিচক মীর শাহে আলম কলেজ (২০২৩) এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট (২০২৫)।

পত্রের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেন, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব যেন গ্রহণ বা অনুমোদন না করা হয়। একইসঙ্গে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্বের নাম ও পরিচিতি সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

চিঠির অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের প্রেস সচিব আতিক রহমান জানান, স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের জন্য অনেকে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহারের এমন অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাই তিনি নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষাসচিবকে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী ডিও লেটার দিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল, আজ থেকেই কার্যকর

বগুড়ায় থামছে না স্বার্থান্বেষী মহলের নাম ব্যবহারের অপচেষ্টা

নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে ডিও লেটার দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৯:০৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ–মোকামতলা) আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের উদ্যোগ না নিতে শিক্ষা সচিবের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়েছেন তিনি।

পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে ও স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তার নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন, যা তার কাছে অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখাই অধিকতর সমীচীন।

তিনি আরও জানান, শিবগঞ্জ মোকামতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি দান, নিজ অর্থে জমি ক্রয়, প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যয় বহন ও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে আসছেন। তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত বা উন্নয়ন করা হয়েছে।

এসবের মধ্যে রয়েছে-মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৯৭), বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি এতিমখানা (২০০৪), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (২০০১), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বিএম মহাবিদ্যালয় (২০০৪), তিয়াইল মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০১২), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম মৎস্য ও কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (২০১৩), বেতগাড়ি মীর মাহাতাব শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা (২০২৩), মোকামতলা মীর শাহে আলম-ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয় (২০২৩), কিচক মীর শাহে আলম কলেজ (২০২৩) এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট (২০২৫)।

পত্রের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেন, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব যেন গ্রহণ বা অনুমোদন না করা হয়। একইসঙ্গে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্বের নাম ও পরিচিতি সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

চিঠির অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের প্রেস সচিব আতিক রহমান জানান, স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের জন্য অনেকে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহারের এমন অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাই তিনি নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষাসচিবকে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী ডিও লেটার দিয়েছেন।