১০:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সরকারের ইতিবাচক সাড়ায় ঘুরতে পারে হতভাগাদের ভাগ্যের চাকা

পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাবে চাঙ্গা হচ্ছে না খুলনাঞ্চলের শিল্প সেক্টর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ১৪ Time View

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা:

একসময়কার কর্মব্যস্ত খুলনা শিল্পাঞ্চল এখন মনে হয় ধূ ধূ মরুভুমি। নেই কোন কর্মযজ্ঞ্য নেই কোন প্রাণচাঞ্চল্য। হতাশার বালুচরে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারের এখন নিত্য বসবাস। তবে সরকারের ইতিবাচক সাড়ায় ঘুরতে পারে হতভাগাদের ভাগ্যের চাকা। পদ্মা সেতু ইকনোমিক জোন ইপিজেড এবং দুই স্থল বন্দর ও মংলা সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে যে নতুন সোনালী দিনের বীজ বোনা হচ্ছে তা বাস্তবায়িত হলে কষ্টের দীর্ঘ রাত্রির হয়তো অবসান হবে। এসব অমিত সম্ভাবনা থাকা স্বত্ত্বেও সঠিক পরিকল্পনার ও উদ্যোগের অভাবে চাঙ্গা হচ্ছে না এ অঞ্চলের শিল্প সেক্টর।

একদিকে মংলা সমুদ্রবন্দর অন্যদিকে দুই স্থলবন্দর বেনাপোল ও ভোমরা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ২০১৫ সালে খুলনার বটিয়াঘাটা ও তেরখাদায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সালে বটিয়াঘাটার ৫৯৪ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় জেলা প্রশাসন। জমির উচ্চ মূল্যের কারণে পরবর্তীতে রূপসা ও তেরখাদায় আরও দু’টি জমি বাছাই করা হয়। কিন্তু প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্রমতে, খুলনা হচ্ছে শিল্প ও বন্দর শহর। একসময় শিল্প ও বন্দর নগরী হিসেবে এর নামডাকও ছিল। তবে এখন সে অবস্থা নেই। অঞ্চলগত ভৌগোলিক সীমানার কারণে বন্দর পড়েছে বাগেরহাট জেলার মধ্যে। আর শিল্পকারখানা বলতে ছিল প্রধানত সরকারি মালিকানার জুট মিল, নিউজপ্রিন্ট মিল ও হার্ডবোর্ড মিল। সরকারি জুট মিলগুলো ২০২০ সালের জুনে বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় বেশ আগে, ২০০১ সালে। সুন্দরবনের গেওয়া কাঠ (কাঁচামাল)-নির্ভর ছিল নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিল। নিউজপ্রিন্ট মিলের বিশাল জায়গার একটি অংশ বর্তমানে ব্যক্তি-মালিককে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেখানে বরাদ্দপ্রাপক বিদ্যুৎ কারখানা গড়ে তুলবেন। সেখানকার উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ সরকার কিনে নেবে। প্রয়োজন না হলেও কারখানাটির উৎপাদনক্ষমতার সমপরিমাণ বিদ্যুতের দাম সরকার পরিশোধ করবে। অবশ্য, ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের দিকে খুলনায় কিছু টোয়াইন ও স্পিনিং মিল গড়ে উঠেছে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে গড়ে ওঠে শতাধিক মৎস্য হিমায়িতকরণ কারখানা, অবশ্য যার অর্ধেকের বেশি বন্ধ থাকে। সে হিসেবে ভারী শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না।

অন্যদিকে বন্ধ ঘোষণার এক যুগের বেশি সময় পরও চালু হয়নি খুলনার দাদা ম্যাচ কারখানা। খুলনা নগরের রূপসা এলাকায় রূপসা নদীর তীরে ১৯৫৫ সালে ১৭ দশমিক ৭৯ একর জায়গার ওপর বেসরকারি উদ্যোগে কারখানাটি চালু হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কারখানাটি জাতীয়করণ করা হয়। পরিচালনার দায়িত্ব পায় বিসিআইসি। ১৯৮৪ সালে বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতির আওতায় ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেড গঠন করা হয়। এ কোম্পানির অধীনে দেয়া হয় কারখানাটি। কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ মালিকানা বিসিআইসির হাতে রেখে ৭০ শতাংশ বিক্রি করা হয় সুইডেনের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। ১৯৮৯ সালে সুইডেন কোম্পানি কারখানা দুটিতে তাদের মালিকানার অংশ বিক্রি করে দেয়। এরপর তা কিনে নেয় ভাইয়া গ্রুপ। তারা ১৯৯৩ সালে আবার কারখানা দুটি চালু করলেও ২০০৫ সালে ঢাকা ম্যাচ ও ২০১০ সালে টারমিনেশন পদ্ধতিতে দাদা ম্যাচ বন্ধ করে দেয়। শিল্প মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে কারখানা দুটি সিলগালা করে দাদা ম্যাচের দেখভালের দায়িত্ব দেয় জেলা প্রশাসনকে। আর ঢাকা ম্যাচ কারখানার নিয়ন্ত্রণ এখনো কোম্পানির কাছেই রয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুটি কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক চাকরি হারান।

খুলনা বিসিক শিল্প এলাকায় গ্যাস সংযোগের জন্য ব্যবসায়ীদর দাবি বহু বছরের। সে লক্ষ্যে আড়ংঘাটা গ্যাস স্টেশন থেকে বিসিক শিল্প নগরীতে সরাসরি গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২০২৪ সালে। এরপর ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন স্থাপন করে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি। গত আগস্টেই কাজ শেষ হয়। কিন্তু চূড়ান্ত মুহূর্তে গ্যাস সংযোগ হয়নি এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে। পেট্রোবাংলার আপত্তিতে থমকে যায় বহু প্রতীক্ষিত সংযোগ কার্যক্রম।

সূত্রমতে, খুলনা অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক ও নদীকেন্দ্রিক শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলো শুধু স্থানীয় কর্মসংস্থানই নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, ব্যাংক ঋণের জটিলতা এবং বাজার সৃষ্টির অভাবে উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়ছেন। সঠিক নীতি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ এবং নির্ধারিত মার্কেটের ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করলে খুলনা অঞ্চলের অর্থনীতিতে এই খাত নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারবে। এছাড়া দুই বিশ্ববিদ্যালয়, ইকোনোমিক জোন, বিমান বন্দর নির্মাণসহ খুলনাঞ্চলে স্থবির হয়ে আছে অন্তত ১০ প্রকল্প। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ এ অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলোও দেখছে না আলোর মুখ। বাড়ছে না দেশি বিদেশি বিনিয়োগ। দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি আঞ্চলিক নেতাদের। যদিও প্রশাসনের দাবি সব প্রকল্প নিয়েই কাজ চলছে। অপরদিকে, খান জাহান আলী বিমান বন্দরের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হলেও পিপিপি’র মাধ্যমে প্রকল্প বাতিল হয়েছে।

বৃহত্তর উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতা মিনা আজিজুর রহমান জানান, দুইটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার জন্য সবকিছু প্রস্তুত হওয়ার পরও অজানা কারণে এটা নিয়ে কারও কোন ভাবনা নেই। খুলনাকে এক সময় শিল্পনগরী বলা হলেও এখন শিল্পের কিছুই নেই। গত তিন দশকে এ অঞ্চল থেকে বিনিয়োগ শুধু কমেছে, নতুন কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়েও ওঠেনি। খুলনার অর্থনীতিকে আবারও আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে অবশ্যই দ্রুত ইকোনমিক জোন করা প্রয়োজন। তাই বর্তমান সরকার প্রধান তারেক রহমান খুলনার শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের শিল্প সেক্টর আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের ইতিবাচক সাড়ায় ঘুরতে পারে হতভাগাদের ভাগ্যের চাকা

পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাবে চাঙ্গা হচ্ছে না খুলনাঞ্চলের শিল্প সেক্টর

Update Time : ০৪:৫৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা:

একসময়কার কর্মব্যস্ত খুলনা শিল্পাঞ্চল এখন মনে হয় ধূ ধূ মরুভুমি। নেই কোন কর্মযজ্ঞ্য নেই কোন প্রাণচাঞ্চল্য। হতাশার বালুচরে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারের এখন নিত্য বসবাস। তবে সরকারের ইতিবাচক সাড়ায় ঘুরতে পারে হতভাগাদের ভাগ্যের চাকা। পদ্মা সেতু ইকনোমিক জোন ইপিজেড এবং দুই স্থল বন্দর ও মংলা সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে যে নতুন সোনালী দিনের বীজ বোনা হচ্ছে তা বাস্তবায়িত হলে কষ্টের দীর্ঘ রাত্রির হয়তো অবসান হবে। এসব অমিত সম্ভাবনা থাকা স্বত্ত্বেও সঠিক পরিকল্পনার ও উদ্যোগের অভাবে চাঙ্গা হচ্ছে না এ অঞ্চলের শিল্প সেক্টর।

একদিকে মংলা সমুদ্রবন্দর অন্যদিকে দুই স্থলবন্দর বেনাপোল ও ভোমরা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ২০১৫ সালে খুলনার বটিয়াঘাটা ও তেরখাদায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সালে বটিয়াঘাটার ৫৯৪ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় জেলা প্রশাসন। জমির উচ্চ মূল্যের কারণে পরবর্তীতে রূপসা ও তেরখাদায় আরও দু’টি জমি বাছাই করা হয়। কিন্তু প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্রমতে, খুলনা হচ্ছে শিল্প ও বন্দর শহর। একসময় শিল্প ও বন্দর নগরী হিসেবে এর নামডাকও ছিল। তবে এখন সে অবস্থা নেই। অঞ্চলগত ভৌগোলিক সীমানার কারণে বন্দর পড়েছে বাগেরহাট জেলার মধ্যে। আর শিল্পকারখানা বলতে ছিল প্রধানত সরকারি মালিকানার জুট মিল, নিউজপ্রিন্ট মিল ও হার্ডবোর্ড মিল। সরকারি জুট মিলগুলো ২০২০ সালের জুনে বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় বেশ আগে, ২০০১ সালে। সুন্দরবনের গেওয়া কাঠ (কাঁচামাল)-নির্ভর ছিল নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিল। নিউজপ্রিন্ট মিলের বিশাল জায়গার একটি অংশ বর্তমানে ব্যক্তি-মালিককে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেখানে বরাদ্দপ্রাপক বিদ্যুৎ কারখানা গড়ে তুলবেন। সেখানকার উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ সরকার কিনে নেবে। প্রয়োজন না হলেও কারখানাটির উৎপাদনক্ষমতার সমপরিমাণ বিদ্যুতের দাম সরকার পরিশোধ করবে। অবশ্য, ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের দিকে খুলনায় কিছু টোয়াইন ও স্পিনিং মিল গড়ে উঠেছে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে গড়ে ওঠে শতাধিক মৎস্য হিমায়িতকরণ কারখানা, অবশ্য যার অর্ধেকের বেশি বন্ধ থাকে। সে হিসেবে ভারী শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না।

অন্যদিকে বন্ধ ঘোষণার এক যুগের বেশি সময় পরও চালু হয়নি খুলনার দাদা ম্যাচ কারখানা। খুলনা নগরের রূপসা এলাকায় রূপসা নদীর তীরে ১৯৫৫ সালে ১৭ দশমিক ৭৯ একর জায়গার ওপর বেসরকারি উদ্যোগে কারখানাটি চালু হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কারখানাটি জাতীয়করণ করা হয়। পরিচালনার দায়িত্ব পায় বিসিআইসি। ১৯৮৪ সালে বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতির আওতায় ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেড গঠন করা হয়। এ কোম্পানির অধীনে দেয়া হয় কারখানাটি। কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ মালিকানা বিসিআইসির হাতে রেখে ৭০ শতাংশ বিক্রি করা হয় সুইডেনের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। ১৯৮৯ সালে সুইডেন কোম্পানি কারখানা দুটিতে তাদের মালিকানার অংশ বিক্রি করে দেয়। এরপর তা কিনে নেয় ভাইয়া গ্রুপ। তারা ১৯৯৩ সালে আবার কারখানা দুটি চালু করলেও ২০০৫ সালে ঢাকা ম্যাচ ও ২০১০ সালে টারমিনেশন পদ্ধতিতে দাদা ম্যাচ বন্ধ করে দেয়। শিল্প মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে কারখানা দুটি সিলগালা করে দাদা ম্যাচের দেখভালের দায়িত্ব দেয় জেলা প্রশাসনকে। আর ঢাকা ম্যাচ কারখানার নিয়ন্ত্রণ এখনো কোম্পানির কাছেই রয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুটি কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক চাকরি হারান।

খুলনা বিসিক শিল্প এলাকায় গ্যাস সংযোগের জন্য ব্যবসায়ীদর দাবি বহু বছরের। সে লক্ষ্যে আড়ংঘাটা গ্যাস স্টেশন থেকে বিসিক শিল্প নগরীতে সরাসরি গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২০২৪ সালে। এরপর ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন স্থাপন করে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি। গত আগস্টেই কাজ শেষ হয়। কিন্তু চূড়ান্ত মুহূর্তে গ্যাস সংযোগ হয়নি এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে। পেট্রোবাংলার আপত্তিতে থমকে যায় বহু প্রতীক্ষিত সংযোগ কার্যক্রম।

সূত্রমতে, খুলনা অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক ও নদীকেন্দ্রিক শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলো শুধু স্থানীয় কর্মসংস্থানই নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, ব্যাংক ঋণের জটিলতা এবং বাজার সৃষ্টির অভাবে উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়ছেন। সঠিক নীতি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ এবং নির্ধারিত মার্কেটের ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করলে খুলনা অঞ্চলের অর্থনীতিতে এই খাত নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারবে। এছাড়া দুই বিশ্ববিদ্যালয়, ইকোনোমিক জোন, বিমান বন্দর নির্মাণসহ খুলনাঞ্চলে স্থবির হয়ে আছে অন্তত ১০ প্রকল্প। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ এ অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলোও দেখছে না আলোর মুখ। বাড়ছে না দেশি বিদেশি বিনিয়োগ। দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি আঞ্চলিক নেতাদের। যদিও প্রশাসনের দাবি সব প্রকল্প নিয়েই কাজ চলছে। অপরদিকে, খান জাহান আলী বিমান বন্দরের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হলেও পিপিপি’র মাধ্যমে প্রকল্প বাতিল হয়েছে।

বৃহত্তর উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতা মিনা আজিজুর রহমান জানান, দুইটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার জন্য সবকিছু প্রস্তুত হওয়ার পরও অজানা কারণে এটা নিয়ে কারও কোন ভাবনা নেই। খুলনাকে এক সময় শিল্পনগরী বলা হলেও এখন শিল্পের কিছুই নেই। গত তিন দশকে এ অঞ্চল থেকে বিনিয়োগ শুধু কমেছে, নতুন কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়েও ওঠেনি। খুলনার অর্থনীতিকে আবারও আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে অবশ্যই দ্রুত ইকোনমিক জোন করা প্রয়োজন। তাই বর্তমান সরকার প্রধান তারেক রহমান খুলনার শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের শিল্প সেক্টর আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠবে।