নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের অমর লগ্নে লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী। আজ শনিবার সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বর্তমানে প্রচলিত ‘মব কালচার’ বা গণ-উন্মাদনার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একটি সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ গড়ার পথে মব কালচার অন্যতম প্রধান বাধা। যারা এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের অনতিবিলম্বে এই পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী মনে করেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রতিটি নাগরিককে নিজস্ব অবস্থান থেকে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
বক্তব্য চলাকালে মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী দেশের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এখন সবার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তবে সেই অপকর্মের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে ঊর্ধ্বে না রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখার প্রধান শর্ত।
সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ফলাফল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ার ফলে তা ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের বিষয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। অন্যদিকে, যেসব ক্ষেত্রে ‘না’ ভোট এসেছে, সেখানে নিয়ম অনুযায়ী সংসদে আলোচনা হবে এবং নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আইনবিদদের সঠিক ব্যাখ্যার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি সাধারণ জনগণকে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে জানার ও বোঝার অনুরোধ করেন।
সবশেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী রাজনৈতিক ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও একটি ঐক্যের ডাক দেন। তিনি বলেন, ভিন্ন মতপথ থাকাটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, তবে সব ইস্যুতে কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশকে স্থিতিশীল রাখা এবং সরকারের গঠনমূলক কাজে সহায়তা করা সকল রাজনৈতিক শক্তির নৈতিক দায়িত্ব। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর ও পৌর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ দল ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শহীদ মিনারের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়ার শপথ নেওয়ার মাধ্যমেই তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
Reporter Name 
























