১২:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসির ভাগ্য সুপ্রসন্ন কিন্তু বালোগান লাল কার্ড, সমালোচনার মুখে ফিফা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১২ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও পুরো ফুটবল বিশ্ব এখন বুঁদ হয়ে আছে দলটির ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের বিতর্ক নিয়ে। সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৪৫ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ম্যাচের ৬৪ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এই মার্কিন তারকা। তবে এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ফুটবল পাড়ায় নতুন বিতর্ক উসকে উঠেছে, যেখানে সমান্তরালভাবে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রায় একই ধরনের ফাউল করে পার পেয়ে যাওয়া লিওনেল মেসি কেন কোনো শাস্তি পেলেন না?

ম্যাচের দ্বিতীয়র্ধে বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ যখন বল ক্লিয়ার করতে যান, ঠিক তখনই পেছন থেকে বাধা দিতে গিয়ে বালোগানের ডান পা মুহারেমোভিচের গোড়ালির পেছনের অংশে আঘাত করে। ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস প্রথমে ফাউল না দিলেও, পরে ভিএআরের পরামর্শে সাইডলাইন মনিটর দেখে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। রেফারিদের এমন দ্বিমুখী আচরণে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাবেক তারকা ও ফুটবল বিশ্লেষকরা। ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড সরাসরি ভিএআরের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির ট্যাকলটি সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও সেটি খতিয়ে দেখা হয়নি, অথচ বালোগানের বেলায় নিয়ম বদলে গেল। এই বৈষম্যই মূলত ফুটবলার ও সমর্থকদের হতাশ করে।

একই সুর শোনা গেছে সাবেক নারী ফুটবলার সু স্মিথ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসির কণ্ঠেও। স্মিথের মতে, ভিডিও রিপ্লে জমিয়ে রাখলে ক্ষতিকর মনে হলেও স্বাভাবিক গতিতে দেখলে বোঝা যায় বালোগান কেবল বল রক্ষা করতে চেয়েছিলেন এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে তার পা ভুল জায়গায় পড়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে ডেম্পসি মনে করেন, এত বড় ম্যাচে এমন একটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বড্ড বেশি শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও বালোগানের পাশে দাঁড়িয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এটি কোনোভাবেই লাল কার্ড ছিল না এবং প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য তার শিষ্যের ছিল না। এমনকি মেসির করা ফাউলটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুটির কোনোটিই আসলে লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল না।

১০ জনের দলে পরিণত হলেও অবশ্য মাঠের লড়াইয়ে তার প্রভাব পড়তে দেয়নি স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৮২ মিনিটে মালিক টিলম্যানের দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে জয় নিশ্চিত করে তারা। তবে এই জয়ের আনন্দের মাঝেও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা। শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠের বাইরে থাকতে হবে এই ফরোয়ার্ডকে। উপরন্তু, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চাইলে এই নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়াতে পারে এবং নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগও নেই যুক্তরাষ্ট্রের সামনে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেসির ভাগ্য সুপ্রসন্ন কিন্তু বালোগান লাল কার্ড, সমালোচনার মুখে ফিফা

Update Time : ০২:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও পুরো ফুটবল বিশ্ব এখন বুঁদ হয়ে আছে দলটির ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের বিতর্ক নিয়ে। সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৪৫ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ম্যাচের ৬৪ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এই মার্কিন তারকা। তবে এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ফুটবল পাড়ায় নতুন বিতর্ক উসকে উঠেছে, যেখানে সমান্তরালভাবে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রায় একই ধরনের ফাউল করে পার পেয়ে যাওয়া লিওনেল মেসি কেন কোনো শাস্তি পেলেন না?

ম্যাচের দ্বিতীয়র্ধে বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ যখন বল ক্লিয়ার করতে যান, ঠিক তখনই পেছন থেকে বাধা দিতে গিয়ে বালোগানের ডান পা মুহারেমোভিচের গোড়ালির পেছনের অংশে আঘাত করে। ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস প্রথমে ফাউল না দিলেও, পরে ভিএআরের পরামর্শে সাইডলাইন মনিটর দেখে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। রেফারিদের এমন দ্বিমুখী আচরণে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাবেক তারকা ও ফুটবল বিশ্লেষকরা। ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড সরাসরি ভিএআরের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির ট্যাকলটি সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও সেটি খতিয়ে দেখা হয়নি, অথচ বালোগানের বেলায় নিয়ম বদলে গেল। এই বৈষম্যই মূলত ফুটবলার ও সমর্থকদের হতাশ করে।

একই সুর শোনা গেছে সাবেক নারী ফুটবলার সু স্মিথ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসির কণ্ঠেও। স্মিথের মতে, ভিডিও রিপ্লে জমিয়ে রাখলে ক্ষতিকর মনে হলেও স্বাভাবিক গতিতে দেখলে বোঝা যায় বালোগান কেবল বল রক্ষা করতে চেয়েছিলেন এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে তার পা ভুল জায়গায় পড়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে ডেম্পসি মনে করেন, এত বড় ম্যাচে এমন একটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বড্ড বেশি শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও বালোগানের পাশে দাঁড়িয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এটি কোনোভাবেই লাল কার্ড ছিল না এবং প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য তার শিষ্যের ছিল না। এমনকি মেসির করা ফাউলটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুটির কোনোটিই আসলে লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল না।

১০ জনের দলে পরিণত হলেও অবশ্য মাঠের লড়াইয়ে তার প্রভাব পড়তে দেয়নি স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৮২ মিনিটে মালিক টিলম্যানের দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে জয় নিশ্চিত করে তারা। তবে এই জয়ের আনন্দের মাঝেও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা। শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠের বাইরে থাকতে হবে এই ফরোয়ার্ডকে। উপরন্তু, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চাইলে এই নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়াতে পারে এবং নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগও নেই যুক্তরাষ্ট্রের সামনে।