০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে না খাইয়ে রাখতেন ভারতীয় ক্রিকেটার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ১৩২ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ভারতের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলেছেন অমিত মিশ্র। ভারতীয় এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে কানপুরের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী গরিমা তিওয়ারি।
৩৫ বছর বয়সী গরিমা তিওয়ারি একজন মডেল। তিনি কানপুরের অতিরিক্ত সিভিল জজ (সিনিয়র ডিভিশন) আদালতে অভিযোগটি দায়ের করেন। তার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী মিশ্র ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। মামলায় মিশ্রর পাশাপাশি তার মা বীনা মিশ্র, বাবা শশীকান্ত মিশ্র, ভাই অমর মিশ্র, ভাবি রিতু মিশ্র এবং বোন স্বাতী মিশ্রকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গরিমা গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৯ সালে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে মিশ্রর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রায় তিন বছর সম্পর্কের পর ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল কানপুর ক্লাবে তাদের বিয়ে হয়।
গরিমার অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তার পরিবারের কাছে যৌতুক হিসেবে একটি হোন্ডা সিটি গাড়ি এবং ১০ লাখ রুপি দাবি করতে শুরু করেন। বিয়ের সময় তার পরিবার ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি দিতে পারলেও পরে আরও অর্থের জন্য চাপ দিতে থাকে মিশ্রর পরিবার।
গরিমার দাবি, মদ্যপ অবস্থায় মিশ্র তাকে প্রায়ই মারধর করতেন, গালাগালি করতেন এবং অনেক সময় খেতেও দিতেন না। এমনকি মডেলিং করে যে অর্থ উপার্জন করতেন, সেটাও স্বামী কেড়ে নিতেন এবং প্রায়ই তাকে তালাকের হুমকি দিতেন।
স্বামীর নির্যাতনের কারণেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত মডেলিং ক্যারিয়ার ছেড়ে দিতে বাধ্য হন বলে জানান গরিমা। এক পর্যায়ে হতাশায় তিনি ফিনাইল পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
গরিমা আরও জানান, তিনি একাধিকবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও অমিত মিশ্রার প্রভাবের কারণে কোনো এফআইআর গ্রহণ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। তার আইনজীবী করিম আহমেদ সিদ্দিকি বলেন, ‘পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করা হয়েছে।’
এটি অমিত মিশ্রর বিরুদ্ধে গরিমা তিওয়ারির করা তৃতীয় মামলা। এর আগে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল তিনি গার্হস্থ্য সহিংসতার মামলা করেন এবং দুই দিন পর ভরণপোষণের আবেদন করেন। সেখানে মাসিক ৫০ হাজার রুপি ভাতা এবং ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন গরিমা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে না খাইয়ে রাখতেন ভারতীয় ক্রিকেটার

Update Time : ০৪:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ভারতের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলেছেন অমিত মিশ্র। ভারতীয় এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে কানপুরের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী গরিমা তিওয়ারি।
৩৫ বছর বয়সী গরিমা তিওয়ারি একজন মডেল। তিনি কানপুরের অতিরিক্ত সিভিল জজ (সিনিয়র ডিভিশন) আদালতে অভিযোগটি দায়ের করেন। তার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী মিশ্র ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। মামলায় মিশ্রর পাশাপাশি তার মা বীনা মিশ্র, বাবা শশীকান্ত মিশ্র, ভাই অমর মিশ্র, ভাবি রিতু মিশ্র এবং বোন স্বাতী মিশ্রকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গরিমা গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৯ সালে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে মিশ্রর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রায় তিন বছর সম্পর্কের পর ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল কানপুর ক্লাবে তাদের বিয়ে হয়।
গরিমার অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তার পরিবারের কাছে যৌতুক হিসেবে একটি হোন্ডা সিটি গাড়ি এবং ১০ লাখ রুপি দাবি করতে শুরু করেন। বিয়ের সময় তার পরিবার ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি দিতে পারলেও পরে আরও অর্থের জন্য চাপ দিতে থাকে মিশ্রর পরিবার।
গরিমার দাবি, মদ্যপ অবস্থায় মিশ্র তাকে প্রায়ই মারধর করতেন, গালাগালি করতেন এবং অনেক সময় খেতেও দিতেন না। এমনকি মডেলিং করে যে অর্থ উপার্জন করতেন, সেটাও স্বামী কেড়ে নিতেন এবং প্রায়ই তাকে তালাকের হুমকি দিতেন।
স্বামীর নির্যাতনের কারণেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত মডেলিং ক্যারিয়ার ছেড়ে দিতে বাধ্য হন বলে জানান গরিমা। এক পর্যায়ে হতাশায় তিনি ফিনাইল পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
গরিমা আরও জানান, তিনি একাধিকবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও অমিত মিশ্রার প্রভাবের কারণে কোনো এফআইআর গ্রহণ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। তার আইনজীবী করিম আহমেদ সিদ্দিকি বলেন, ‘পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করা হয়েছে।’
এটি অমিত মিশ্রর বিরুদ্ধে গরিমা তিওয়ারির করা তৃতীয় মামলা। এর আগে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল তিনি গার্হস্থ্য সহিংসতার মামলা করেন এবং দুই দিন পর ভরণপোষণের আবেদন করেন। সেখানে মাসিক ৫০ হাজার রুপি ভাতা এবং ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন গরিমা।