০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে ভবন থেকে পড়ে দুই নারীর মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ০ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

রাজধানীর ধানমন্ডি ও বাড্ডায় পৃথক দুই ঘটনায় ভবন থেকে নিচে পড়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে তাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

নিহতরা হলেন- ধানমন্ডির আসমা আক্তার (৩০) এবং বাড্ডার মোছা. মনিকা আক্তার (২৭)।

ধানমন্ডি থানার এসআই তুলি মণ্ডল জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অষ্টম তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনের বারান্দা থেকে নিচে পড়ে আসমা আক্তারের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

তিনি বলেন, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের ছোট বোন রেশমি আক্তারের ভাষ্য, প্রায় তিন বছর আগে সম্পর্কের মাধ্যমে শফিউল্লাহর সঙ্গে আসমার বিয়ে হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, শফিউল্লাহর আগের সংসারে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে আসমাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, তিন দিন আগে পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শফিউল্লাহকে ঘটনার দিন ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ওই সময় স্বামী-স্ত্রী দুজনই হাসপাতালের একই কেবিনে ছিলেন। বিকেলে তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে আসমাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে স্বজনদের সন্দেহ।

এ ঘটনায় আসমার স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তাকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে পরিবার। আসমা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি এলাকার বাসিন্দা মুক্তার হোসেনের মেয়ে। তিনি আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন।

অন্যদিকে, বাড্ডা থানার এসআই ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা জানান, আফতাবনগরের ব্লক-ই, সেক্টর-২, রোড-১ এলাকার একটি আটতলা ভবনের সামনে থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মনিকা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মানসিক হতাশা থেকে তিনি ভবনের ওপর থেকে লাফ দিয়েছিলেন। তবে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের চাচাতো ভাই আমিরুল ইসলাম জানান, মনিকা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার আগের দিন তার স্বামী লিটন মিয়া জমিজমা-সংক্রান্ত কাজে গ্রামের বাড়িতে যান। লিটন ওই ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিচতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

মনিকা আক্তার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রামপুরা সরকারপাড়া গ্রামের মহির উদ্দিনের মেয়ে। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেটের সমালোচনা করা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, এতে রাগ করার কিছু নেই

রাজধানীতে ভবন থেকে পড়ে দুই নারীর মৃত্যু

Update Time : ০৬:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

রাজধানীর ধানমন্ডি ও বাড্ডায় পৃথক দুই ঘটনায় ভবন থেকে নিচে পড়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে তাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

নিহতরা হলেন- ধানমন্ডির আসমা আক্তার (৩০) এবং বাড্ডার মোছা. মনিকা আক্তার (২৭)।

ধানমন্ডি থানার এসআই তুলি মণ্ডল জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অষ্টম তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনের বারান্দা থেকে নিচে পড়ে আসমা আক্তারের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

তিনি বলেন, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের ছোট বোন রেশমি আক্তারের ভাষ্য, প্রায় তিন বছর আগে সম্পর্কের মাধ্যমে শফিউল্লাহর সঙ্গে আসমার বিয়ে হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, শফিউল্লাহর আগের সংসারে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে আসমাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, তিন দিন আগে পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শফিউল্লাহকে ঘটনার দিন ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ওই সময় স্বামী-স্ত্রী দুজনই হাসপাতালের একই কেবিনে ছিলেন। বিকেলে তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে আসমাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে স্বজনদের সন্দেহ।

এ ঘটনায় আসমার স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তাকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে পরিবার। আসমা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি এলাকার বাসিন্দা মুক্তার হোসেনের মেয়ে। তিনি আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন।

অন্যদিকে, বাড্ডা থানার এসআই ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা জানান, আফতাবনগরের ব্লক-ই, সেক্টর-২, রোড-১ এলাকার একটি আটতলা ভবনের সামনে থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মনিকা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মানসিক হতাশা থেকে তিনি ভবনের ওপর থেকে লাফ দিয়েছিলেন। তবে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের চাচাতো ভাই আমিরুল ইসলাম জানান, মনিকা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার আগের দিন তার স্বামী লিটন মিয়া জমিজমা-সংক্রান্ত কাজে গ্রামের বাড়িতে যান। লিটন ওই ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিচতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

মনিকা আক্তার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রামপুরা সরকারপাড়া গ্রামের মহির উদ্দিনের মেয়ে। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।