১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দুলাভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ১৪ Time View

আলী আজীম, মোংলা (বাগেরহাট):

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাথে কথিত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাখওয়াত সরদার (৬০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে (৫০) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে কোস্ট গার্ড।

এছাড়া ইস্রাফিল হাওলাদার (২৭) নামে গুলিবিদ্ধ আরো এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে সুন্দরবনের কয়রা কোস্ট গার্ড টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাখওয়াত সরদার নিহত হন। তিনি কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের এজাহার সরদারের ছেলে।

একই অভিযানে মহেশ্বরীপুর এলাকার মানিক গাজীর ছেলে ও কথিত দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাবুরাবাদ গ্রাম থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইস্রাফিল হাওলাদারকে স্থানীয়রা আটক করে মঠবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেন। তিনি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ইসমাইল হাওলাদারের ছেলে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, গোলাগুলির ঘটনাটি আমাদের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন সুন্দরবনের ময়দাফেসা খাল এলাকায় ঘটেছে বলে বনরক্ষীদের কাছ থেকে জেনেছি। বর্তমানে ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, তেঁতুলতলার চর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কয়রা নদী। নদীর ওপারেই সুন্দরবন। গ্রামের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা বননির্ভর। মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহের জন্য তাঁদের নিয়মিত সুন্দরবনে যেতে হয়।

এ ব্যাপারে কোস্টগার্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। অভিযান এখনো চলমান থাকায় এই মুহূর্তে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। পরবর্তীতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানানো হবে।

কোস্ট গার্ডের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহিনে কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের সঙ্গে রাতব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বোটে অবস্থানরত ডাকাতদল কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে এবং আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। চলমান এ অভিযানে এখন পর্যন্ত তিনজন ডাকাত সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বাহিনীর পলাতক ডাকাতদের আটকের জন্য কোস্ট গার্ডের অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযান শেষ হলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

বর্তমানে ওই এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ জনগণকে কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচল করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দুলাভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধ

Update Time : ০৬:৫১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

আলী আজীম, মোংলা (বাগেরহাট):

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাথে কথিত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাখওয়াত সরদার (৬০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে (৫০) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে কোস্ট গার্ড।

এছাড়া ইস্রাফিল হাওলাদার (২৭) নামে গুলিবিদ্ধ আরো এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে সুন্দরবনের কয়রা কোস্ট গার্ড টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাখওয়াত সরদার নিহত হন। তিনি কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের এজাহার সরদারের ছেলে।

একই অভিযানে মহেশ্বরীপুর এলাকার মানিক গাজীর ছেলে ও কথিত দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাবুরাবাদ গ্রাম থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইস্রাফিল হাওলাদারকে স্থানীয়রা আটক করে মঠবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেন। তিনি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ইসমাইল হাওলাদারের ছেলে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, গোলাগুলির ঘটনাটি আমাদের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন সুন্দরবনের ময়দাফেসা খাল এলাকায় ঘটেছে বলে বনরক্ষীদের কাছ থেকে জেনেছি। বর্তমানে ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, তেঁতুলতলার চর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কয়রা নদী। নদীর ওপারেই সুন্দরবন। গ্রামের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা বননির্ভর। মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহের জন্য তাঁদের নিয়মিত সুন্দরবনে যেতে হয়।

এ ব্যাপারে কোস্টগার্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। অভিযান এখনো চলমান থাকায় এই মুহূর্তে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। পরবর্তীতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানানো হবে।

কোস্ট গার্ডের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহিনে কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের সঙ্গে রাতব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বোটে অবস্থানরত ডাকাতদল কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে এবং আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। চলমান এ অভিযানে এখন পর্যন্ত তিনজন ডাকাত সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বাহিনীর পলাতক ডাকাতদের আটকের জন্য কোস্ট গার্ডের অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযান শেষ হলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

বর্তমানে ওই এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ জনগণকে কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচল করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।