০৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাসির-তামিমার বিয়ে বৈধ ছিল: আদালত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ৮ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তামিমার বিয়ে বৈধ ছিল মর্মে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত। আসামি পক্ষ তা আদালতে প্রমাণ করতে পারায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে বলা হয়।

আজ বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম খালাসের এই রায় ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়, ২০১৬ তে তালাক দেওয়ার পর ২০২১ সালে নাসির-তামিমার বিয়েতে কোনো আইনগত বাধা ছিল না- মর্মে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।

রায়ে আরও বলা হয়, আসামি তামিমার বিরুদ্ধে ৪৯৪ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়। ৪৯৪ ধারা প্রমাণ করতে গেলে প্রমাণ করতে হবে যে, তার দ্বিতীয় বিয়েটা অবৈধ। সে ক্ষেত্রে তামিমা তার আগের স্বামী রাকিবকে যে তালাক দিয়েছেন তা কার্যকর নয় মর্মে গণ্য করতে হবে। তামিমা যে রাকিবকে তালাক দিয়েছে তার তালাকনামা রয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন বইয়ে তার স্বাক্ষর রয়েছে।

বাদীকে তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়নি মর্মে বাদী দাবি করেন। আসামিপক্ষ ডাক বিভাগের চিঠি পোস্ট করার রশিদ আদালতে দাখিল করেছেন। ডাক বিভাগের পোস্ট বিলিকারক আদালতে এসে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি নোটিশ নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু বাদী তা গ্রহণ করেননি।

রায়ে বলা হয়, ২০১৬ সালে তামিমা মামলার বাদী রাকিবকে তালাক দেওয়ার পর থেকে ২০২১ সালে নাসিরকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত বাদীর সঙ্গে তামিমার মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এটা থেকে অনুমেয় যে তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একই বাড়িতে বসবাস করে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন এটা প্রমাণ হয় না। এ ছাড়া তাদের শিশু সন্তান আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছে যে, তার মা তাকে সঙ্গে করে হোটেল লা মেরিডিয়ানে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে দেখা করেছিল।

আদালত উল্লেখ করেন যে, যেহেতু বাদী আসামি তামিমাকে তালাকে তাফউইজ প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সেই ক্ষমতা প্রদান করে তিনি ২০১৬ তালাক দিয়েছেন এবং তা রেজিস্ট্রিও হয়েছে। ফলে তালাক দেওয়ার দীর্ঘদিন পরে অর্থাৎ ২০২১ সালের নাসির-তামিমার দ্বিতীয় বিয়ে করতে আইনগত কোনো বাধা নাই। আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অন্যান্য ধারাও বাদী প্রমাণ করতে পারেননি। সেহেতু আসামি তামিমা ও নাসির হোসেনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।

গত ৬ মে বাদী ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছিলেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান। সেদিন আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের প্রার্থনা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন। রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের করে নিয়েছেন নাসির।

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক (নি.) শেখ মো. মিজানুর রহমান তিনজনকে দোষী উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

পরের বছরে ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে এ মামলার অপর আসামি তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেবে ইসি

নাসির-তামিমার বিয়ে বৈধ ছিল: আদালত

Update Time : ০৩:৪৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তামিমার বিয়ে বৈধ ছিল মর্মে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত। আসামি পক্ষ তা আদালতে প্রমাণ করতে পারায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে বলা হয়।

আজ বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম খালাসের এই রায় ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়, ২০১৬ তে তালাক দেওয়ার পর ২০২১ সালে নাসির-তামিমার বিয়েতে কোনো আইনগত বাধা ছিল না- মর্মে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।

রায়ে আরও বলা হয়, আসামি তামিমার বিরুদ্ধে ৪৯৪ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়। ৪৯৪ ধারা প্রমাণ করতে গেলে প্রমাণ করতে হবে যে, তার দ্বিতীয় বিয়েটা অবৈধ। সে ক্ষেত্রে তামিমা তার আগের স্বামী রাকিবকে যে তালাক দিয়েছেন তা কার্যকর নয় মর্মে গণ্য করতে হবে। তামিমা যে রাকিবকে তালাক দিয়েছে তার তালাকনামা রয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন বইয়ে তার স্বাক্ষর রয়েছে।

বাদীকে তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়নি মর্মে বাদী দাবি করেন। আসামিপক্ষ ডাক বিভাগের চিঠি পোস্ট করার রশিদ আদালতে দাখিল করেছেন। ডাক বিভাগের পোস্ট বিলিকারক আদালতে এসে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি নোটিশ নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু বাদী তা গ্রহণ করেননি।

রায়ে বলা হয়, ২০১৬ সালে তামিমা মামলার বাদী রাকিবকে তালাক দেওয়ার পর থেকে ২০২১ সালে নাসিরকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত বাদীর সঙ্গে তামিমার মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এটা থেকে অনুমেয় যে তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একই বাড়িতে বসবাস করে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন এটা প্রমাণ হয় না। এ ছাড়া তাদের শিশু সন্তান আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছে যে, তার মা তাকে সঙ্গে করে হোটেল লা মেরিডিয়ানে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে দেখা করেছিল।

আদালত উল্লেখ করেন যে, যেহেতু বাদী আসামি তামিমাকে তালাকে তাফউইজ প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সেই ক্ষমতা প্রদান করে তিনি ২০১৬ তালাক দিয়েছেন এবং তা রেজিস্ট্রিও হয়েছে। ফলে তালাক দেওয়ার দীর্ঘদিন পরে অর্থাৎ ২০২১ সালের নাসির-তামিমার দ্বিতীয় বিয়ে করতে আইনগত কোনো বাধা নাই। আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অন্যান্য ধারাও বাদী প্রমাণ করতে পারেননি। সেহেতু আসামি তামিমা ও নাসির হোসেনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।

গত ৬ মে বাদী ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছিলেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান। সেদিন আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের প্রার্থনা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন। রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের করে নিয়েছেন নাসির।

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক (নি.) শেখ মো. মিজানুর রহমান তিনজনকে দোষী উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

পরের বছরে ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে এ মামলার অপর আসামি তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।