০৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন, মার্চের পর সর্বনিম্নে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৯ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। এতে তেলের দাম মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৫ জুন) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে।

একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ০১ ডলার বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে। এর আগে শুক্রবারও দুই ধরনের তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাকিস্তানের দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করবে। এদিকে ট্রাম্প রোববার বলেন, হরমুজ প্রণালীকে ‘টোলমুক্ত’ করা হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর জানিয়েছে, খসড়া চুক্তিতে ইরানের তত্ত্বাবধানে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির অতিরিক্ত মূল্য এখন দ্রুত কমে যাচ্ছে। কারণ ব্যবসায়ীরা তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে এখন বাজারদরে হিসাবের মধ্যে আনছেন।

এদিকে, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদক দেশগুলো কত দ্রুত উৎপাদন ও রফতানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে এবং এ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল কত দ্রুত বাড়ে, সেদিকে।

কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার পণ্য কৌশলবিদ বিবেক ধর এক নোটে বলেন, এসব অনিশ্চয়তা বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। তবে যুদ্ধের আগের অতিরিক্ত সরবরাহ পরিস্থিতিতে বাজারকে ফিরিয়ে আনতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ আগের মাত্রার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছালেই যথেষ্ট হবে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী জানিয়েছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় আরও বিস্তৃত একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিসহ ই-৪ দেশগুলো রোববার জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অগ্রগতি হলে তারা দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত।

তবে আইজি’র বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর মনে করেন, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে এখনও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই অদূর ভবিষ্যতে তেলের দাম বর্তমান অবস্থান থেকে খুব বেশি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন, মার্চের পর সর্বনিম্নে

Update Time : ১১:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। এতে তেলের দাম মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৫ জুন) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে।

একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ০১ ডলার বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে। এর আগে শুক্রবারও দুই ধরনের তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাকিস্তানের দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করবে। এদিকে ট্রাম্প রোববার বলেন, হরমুজ প্রণালীকে ‘টোলমুক্ত’ করা হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর জানিয়েছে, খসড়া চুক্তিতে ইরানের তত্ত্বাবধানে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির অতিরিক্ত মূল্য এখন দ্রুত কমে যাচ্ছে। কারণ ব্যবসায়ীরা তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে এখন বাজারদরে হিসাবের মধ্যে আনছেন।

এদিকে, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদক দেশগুলো কত দ্রুত উৎপাদন ও রফতানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে এবং এ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল কত দ্রুত বাড়ে, সেদিকে।

কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার পণ্য কৌশলবিদ বিবেক ধর এক নোটে বলেন, এসব অনিশ্চয়তা বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। তবে যুদ্ধের আগের অতিরিক্ত সরবরাহ পরিস্থিতিতে বাজারকে ফিরিয়ে আনতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ আগের মাত্রার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছালেই যথেষ্ট হবে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী জানিয়েছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় আরও বিস্তৃত একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিসহ ই-৪ দেশগুলো রোববার জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অগ্রগতি হলে তারা দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত।

তবে আইজি’র বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর মনে করেন, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে এখনও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই অদূর ভবিষ্যতে তেলের দাম বর্তমান অবস্থান থেকে খুব বেশি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।