ফুলবাড়ী প্রতিনিধি
দ্রুত বুদ্ধি আর অসাধারণ সাহসিকতায় বড় ধরনের রেল দুর্ঘটনা থেকে শত শত যাত্রীর জীবন রক্ষা করলেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর একজন দিনমজুর। লাঠিতে কলার মোচার লাল পাপড়ি (মোচার অংশ) বেঁধে সংকেত দিয়ে আন্তঃনগর ট্রেন থামিয়ে দেন এনামুল হক (৬৫)।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলপথের ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ কিলোমিটারের মাঝামাঝি স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে ওই স্থানে রেললাইনের প্রায় এক ফুট অংশ ভাঙা দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি আশপাশের লোকজনকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দিতে বলেন। একই সঙ্গে সামনে ট্রেন আসার আশঙ্কায় নিজেই ঝুঁকি নিয়ে লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে যান।
এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাশের কলাবাগান থেকে কলার মোচা এনে তার লাল পাপড়ি লাঠিতে বেঁধে সতর্ক সংকেত তৈরি করেন। এর ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে থেমে যায়। এনামুলের লাল সংকেত দেখে চালক দ্রুত ট্রেন থামিয়ে দেন। ফলে সম্ভাব্য ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান ট্রেনের শত শত যাত্রী।
এদিকে এনামুলের ডাকে সাড়া দিয়ে একই গ্রামের একরামুল হকের ছেলে শাহিনুর পার্বতীপুর রেলওয়ে অফিসে ফোন করে বিষয়টি জানান। প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে রেলওয়ের প্রকৌশলী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি মেরামত কাজ সম্পন্ন করে। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার পর এনামুল হককে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি কাজের সন্ধানে ফরিদপুর জেলায় চলে গেছেন।
স্থানীয়দের মতে, এনামুলের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতা না থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তার এই মানবিক উদ্যোগে রক্ষা পেয়েছে অসংখ্য প্রাণ।
জানতে চাইলে ফুলবাড়ী রেল স্টেশন মাস্টার শওকত আলী জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ মধ্যে রেল ভেঙে যাওয়ার খবর তারা পেয়েছেন এবং প্রকৌশলী টিম রেললাইন মেরামত করেছেন। বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনার সময় আধা ঘণ্টার অধিক সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
স্টেশন মাস্টার আরও জানান, ওই এলাকাবাসীর সচেতনতার কারণেই আজ একটি ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলো অনেক প্রাণ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একই রেলপথের শান্তাহার এলাকায় রেল দুর্ঘটনায় আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সেপ্রেস ট্রেনের প্রায় ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা রেল যোগযোগ বন্ধ ছিল। এতে করে ঈদে ঘরমুখো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন।
Reporter Name 





















