০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উড়ে এসে জুড়ে বসা কে এই আনিকা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ১১২ Time View

স্পোর্টস রিপোর্টার

এশিয়া কাপ নারী ফুটবলে বাংলাদেশ জাতীয় দলে সুইডেন থেকে আসা একজন খেলোয়াড় খেলেছেন। নাম আনিকা রাইনা সিদ্দিকি। তিনি সরসারি জাতীয় দলে খেলেছেন। প্রথমে সরাসরি ট্রায়াল ক্যাম্পে হোটেলে উঠেছিলেন। তারপর চূড়ান্ত দলে। জাতীয় দলে প্রবেশ করা কতটা সহজ ছিল। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে আনিকা চীনের বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে মাঠে নেমেছেন, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৪৬ মিনিটে মাঠে নেমেছেন এবং বাঁচা-মরার শেষ খেলায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে রাখা হয়েছিল।
কিন্তু তার কারণে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ১০ জন নিয়ে খেলছে। ৬৪ মিনিটে আনিকাকে মাঠ থেকে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। তিন ম্যাচের মধ্যে কোনো ম্যাচেই নিজের প্রতিভা দেখাতে পারেননি। দর্শক নজর কাড়তে পারেননি। অথচ তার মাঠে নামার ধারাবাহিকতা দেখে মনে হয়েছে পর্যায়ক্রমে ভালো খেলেছেন, গেম টাইম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ আনিকার পারফরম্যান্স বিরক্তির কারণ জুগিয়েছে।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের আক্রমণ নষ্ট করেছেন আনিকা। বল পেয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে তুলে দিয়েছেন বারবার। মনিকা বল দিয়েছে, আনিকা বাইরে মেরেছেন। আনিকা বল পেয়ে ভুল করে উজবেকিস্তানের দিওরা বখতিয়ারোভার পায়ে তুলে দিয়েছেন, একবার নয়, কয়েকবার। উইংয়ের ফুটবলার, আক্রমণ করে প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলা তো দূরের কথা, উলটো ভুল পাস দিয়ে নার্ভাস আনিকা নিজের দলকে বিপদে ফেলেছেন। খেলা দেখে মনে হয়েছে এত বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা নেই। খেলার ভেতরে একই ভুল করতে করতে প্রশ্ন উঠছে কীভাবে আনিকা জাতীয় দলে ঢুকেছেন।
সুইডেনে আনিকা কোথায় খেলেছেন কেউ জানেন না। বাংলাদেশে যখন আসেন তখন নারী লিগ চলছিল। আনিকা ঢাকায় এসে লিগের খেলাও দেখেননি। পিটারের সঙ্গে দেখা করে ঘুরে বেড়িয়েছেন। অথচ চাইলে তাকে আগে থেকে ঢাকায় এনে মানিয়ে নিতে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যেত। নিজেকে তৈরি করতে পারতেন আনিকা। তা না করে সরাসরি মূল দলে নেওয়া হয়। পিটারও ছিলেন না তখন।
কোচিং স্টাফ সূত্রে জানা গিয়েছিল আনিকা ভালো করবে, প্রমাণ হয়নি। ট্রায়ালে টিকলে তখনই ক্যাম্পে উঠবেন কিন্তু আনিকা এতই ভাগ্যবান যে, ট্রায়ালের নামে সরাসরি চূড়ান্ত দলে জায়গা করে দেওয়ায় ক্যারিয়ারের ক্ষতি না ভালো হয়েছে, সেটা সময় বলবে। সানজিদা খাতুন, মাসুরা পারভিন, কৃষ্ণার রানীর মতো দক্ষ ফুটবলার বাইরে বসে ছিলেন। ট্রায়ালেও ঢোকার সুযোগই দেওয়া হয়নি। আনিকা ফিরে যাবেন সুইডেন, পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবেন।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক দিন আগেই একটা রেওয়াজ চালু হয়েছে। ফুটবলার জামাল ভুঁইয়া বাংলাদেশে সেটেল হওয়ার পর প্রবাসী বাংলাদেশিরা এদেশে খেলতে আসতে শুরু করে। সেই সুবাদে বিভিন্ন ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের আত্মীয়স্বজনরাও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দিয়েছেন। এশিয়ান গেমস খেলেছেন। আনিকা তেমন কি না কেউ জানেন না। তবে কোচ পিটার বাটলার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বাফুফের একজন সহ-সভাপতির নামটা বলেছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মালদ্বীপ পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

উড়ে এসে জুড়ে বসা কে এই আনিকা

Update Time : ০৩:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

স্পোর্টস রিপোর্টার

এশিয়া কাপ নারী ফুটবলে বাংলাদেশ জাতীয় দলে সুইডেন থেকে আসা একজন খেলোয়াড় খেলেছেন। নাম আনিকা রাইনা সিদ্দিকি। তিনি সরসারি জাতীয় দলে খেলেছেন। প্রথমে সরাসরি ট্রায়াল ক্যাম্পে হোটেলে উঠেছিলেন। তারপর চূড়ান্ত দলে। জাতীয় দলে প্রবেশ করা কতটা সহজ ছিল। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে আনিকা চীনের বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে মাঠে নেমেছেন, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৪৬ মিনিটে মাঠে নেমেছেন এবং বাঁচা-মরার শেষ খেলায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে রাখা হয়েছিল।
কিন্তু তার কারণে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ১০ জন নিয়ে খেলছে। ৬৪ মিনিটে আনিকাকে মাঠ থেকে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। তিন ম্যাচের মধ্যে কোনো ম্যাচেই নিজের প্রতিভা দেখাতে পারেননি। দর্শক নজর কাড়তে পারেননি। অথচ তার মাঠে নামার ধারাবাহিকতা দেখে মনে হয়েছে পর্যায়ক্রমে ভালো খেলেছেন, গেম টাইম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ আনিকার পারফরম্যান্স বিরক্তির কারণ জুগিয়েছে।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের আক্রমণ নষ্ট করেছেন আনিকা। বল পেয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে তুলে দিয়েছেন বারবার। মনিকা বল দিয়েছে, আনিকা বাইরে মেরেছেন। আনিকা বল পেয়ে ভুল করে উজবেকিস্তানের দিওরা বখতিয়ারোভার পায়ে তুলে দিয়েছেন, একবার নয়, কয়েকবার। উইংয়ের ফুটবলার, আক্রমণ করে প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলা তো দূরের কথা, উলটো ভুল পাস দিয়ে নার্ভাস আনিকা নিজের দলকে বিপদে ফেলেছেন। খেলা দেখে মনে হয়েছে এত বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা নেই। খেলার ভেতরে একই ভুল করতে করতে প্রশ্ন উঠছে কীভাবে আনিকা জাতীয় দলে ঢুকেছেন।
সুইডেনে আনিকা কোথায় খেলেছেন কেউ জানেন না। বাংলাদেশে যখন আসেন তখন নারী লিগ চলছিল। আনিকা ঢাকায় এসে লিগের খেলাও দেখেননি। পিটারের সঙ্গে দেখা করে ঘুরে বেড়িয়েছেন। অথচ চাইলে তাকে আগে থেকে ঢাকায় এনে মানিয়ে নিতে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যেত। নিজেকে তৈরি করতে পারতেন আনিকা। তা না করে সরাসরি মূল দলে নেওয়া হয়। পিটারও ছিলেন না তখন।
কোচিং স্টাফ সূত্রে জানা গিয়েছিল আনিকা ভালো করবে, প্রমাণ হয়নি। ট্রায়ালে টিকলে তখনই ক্যাম্পে উঠবেন কিন্তু আনিকা এতই ভাগ্যবান যে, ট্রায়ালের নামে সরাসরি চূড়ান্ত দলে জায়গা করে দেওয়ায় ক্যারিয়ারের ক্ষতি না ভালো হয়েছে, সেটা সময় বলবে। সানজিদা খাতুন, মাসুরা পারভিন, কৃষ্ণার রানীর মতো দক্ষ ফুটবলার বাইরে বসে ছিলেন। ট্রায়ালেও ঢোকার সুযোগই দেওয়া হয়নি। আনিকা ফিরে যাবেন সুইডেন, পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবেন।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক দিন আগেই একটা রেওয়াজ চালু হয়েছে। ফুটবলার জামাল ভুঁইয়া বাংলাদেশে সেটেল হওয়ার পর প্রবাসী বাংলাদেশিরা এদেশে খেলতে আসতে শুরু করে। সেই সুবাদে বিভিন্ন ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের আত্মীয়স্বজনরাও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দিয়েছেন। এশিয়ান গেমস খেলেছেন। আনিকা তেমন কি না কেউ জানেন না। তবে কোচ পিটার বাটলার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বাফুফের একজন সহ-সভাপতির নামটা বলেছিলেন।