১১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে হবু স্ত্রীকে সহায়তা, এনসিপি নেতাকে মারধর-অবরুদ্ধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ৩ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আশরাফ শেখকে মারধর করে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। একপর্যায়ে এনসিপির নেতাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ধাওয়া দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় দৌড়ে পালিয়ে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে ঢুকে আশ্রয় নেন এনসিপি নেতা আশরাফ শেখ।

এ ঘটনায় ভাঙ্গা কাজী সামসুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত, শিক্ষক, এনসিপি নেতা, পরীক্ষার্থীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষকদের কক্ষে অবরুদ্ধ থাকা এনসিপির আহ্বায়ককে উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানায় নিয়ে আসে।

শিক্ষার্থীরা কয়েকজন জানায়, সকালে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই এনসিপি নেতা আশরাফ শেখ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তার হবু স্ত্রীকে সহায়তা করছিলেন। তিনি কেন্দ্রে ঢুকে প্রতি পরীক্ষায় তার হবু স্ত্রীকে সহায়তা করে আসছেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে এনসিপি নেতা আশরাফ তার হবু স্ত্রীকে সহায়তা করার সময় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেন।

ভাঙ্গা কাজী সামসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। আমি পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে একপর্যায়ে ইটের আঘাতে আমি ও এনসিপি নেতাসহ কয়েকজন আহত হই। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ আশরাফকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়। এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করবেন বলে জানান তিনি।

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এনসিপি নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। কোনো অভিযোগ না থাকায় এনসিপি নেতা আশরাফকে তার অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফ বলেন, আমার স্ত্রীকে কয়েকজন ইভটিজিং করে। আমি এর প্রতিবাদ করায় তারা আমার ওপর হামলা করে এবং অবরুদ্ধ করে রাখে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে হবু স্ত্রীকে সহায়তা, এনসিপি নেতাকে মারধর-অবরুদ্ধ

এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে হবু স্ত্রীকে সহায়তা, এনসিপি নেতাকে মারধর-অবরুদ্ধ

Update Time : ০৯:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আশরাফ শেখকে মারধর করে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। একপর্যায়ে এনসিপির নেতাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ধাওয়া দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় দৌড়ে পালিয়ে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে ঢুকে আশ্রয় নেন এনসিপি নেতা আশরাফ শেখ।

এ ঘটনায় ভাঙ্গা কাজী সামসুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত, শিক্ষক, এনসিপি নেতা, পরীক্ষার্থীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষকদের কক্ষে অবরুদ্ধ থাকা এনসিপির আহ্বায়ককে উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানায় নিয়ে আসে।

শিক্ষার্থীরা কয়েকজন জানায়, সকালে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই এনসিপি নেতা আশরাফ শেখ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তার হবু স্ত্রীকে সহায়তা করছিলেন। তিনি কেন্দ্রে ঢুকে প্রতি পরীক্ষায় তার হবু স্ত্রীকে সহায়তা করে আসছেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে এনসিপি নেতা আশরাফ তার হবু স্ত্রীকে সহায়তা করার সময় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেন।

ভাঙ্গা কাজী সামসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। আমি পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে একপর্যায়ে ইটের আঘাতে আমি ও এনসিপি নেতাসহ কয়েকজন আহত হই। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ আশরাফকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়। এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করবেন বলে জানান তিনি।

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এনসিপি নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। কোনো অভিযোগ না থাকায় এনসিপি নেতা আশরাফকে তার অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফ বলেন, আমার স্ত্রীকে কয়েকজন ইভটিজিং করে। আমি এর প্রতিবাদ করায় তারা আমার ওপর হামলা করে এবং অবরুদ্ধ করে রাখে।