সবুজদিন রিপোর্ট।।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডি লেককে কোনোভাবেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ধানমণ্ডি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হকার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নাগরিক সেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত গণশুনানি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএসসিসির অঞ্চল-১-এর আওতাধীন বিষয়াবলি নিয়ে ধানমণ্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। গণশুনানিতে অঞ্চল-১-এর অন্তর্ভুক্ত ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও শাহবাগসহ সংলগ্ন এলাকার নাগরিক, সুধীসমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। ওই সময় নাগরিকরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিয়ে তাঁদের মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে সরকার জনগণের অংশীদারভিত্তিক জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ডিএসসিসির এই গণশুনানি। নগর ব্যবস্থাপনায় সরকার, সিটি করপোরেশন এবং জনগণ, সবারই নিজ নিজ দায়িত্ব রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদেরও নিয়ম মেনে চলতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
ধানমণ্ডি লেকের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, লেকটিকে আরো নান্দনিক, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এখানে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না। হকার ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, নির্ধারিত স্থানে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে।
পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার বিষয়ে তাঁদের সচেতন করা হবে, যেন সিটি করপোরেশন সহজে তা অপসারণ করতে পারে। তিনি আরো জানান, নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকা শহরের রিকশাচালক ও হকারদের নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যথাযথ নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া কেউ ঢাকা শহরে এসে তাৎক্ষণিকভাবে হকারি বা রিকশা চালানোর সুযোগ পাবে না।
Reporter Name 




















