নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় ১ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সারওয়ার জাহান উজ্জল (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজু মেম্বার ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ঘণ্টাব্যাপি নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের উত্তরা ডিগ্রি কলেজ মোড় এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
আহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সারওয়ার জাহান উজ্জল উপজেলার চকভালাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রায় একবছর আগে কির্তলী গ্রামের প্রসাদ কুমার ও তাপস কুমারের কাছ থেকে তাদের বসতবাড়ি কিনে নেন। বাড়ি কেনার বেশ কিছুদিন পর থেকে উজ্জলের কাছে কালীগ্রাম গ্রামের ইমাজ উদ্দিনের ছেলে ও নুরুল্লাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অভিযুক্ত রাজু আহমেদ ও তার সহযোগীদের নিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।
রোববার (২২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজু আহমেদ ও তার ১০-১২ জন সহযোগী নিয়ে উজ্জলকেআটক করে কালীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে নিয়ে গিয়ে মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে থেতলে দেয়। পরে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে কালীগ্রাম কাচারি মাঠে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে উত্তরা ডিগ্রি কলেজ মোড়ে গিয়ে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপি চলা এ অবরোধে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সমাবেশ থেকে বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে পুলিশকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
আহত সারওয়ার জাহান উজ্জলের স্ত্রী সাথী আক্তার জানান, প্রায় একবছর আগে বাড়ি কেনার পর থেকে স্বামীর কাছে মেম্বার রাজু আহমেদ ও তাদের সাঙ্গ-পাঙ্গরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল। একই দাবীতে ঈদের আগেরদিন বিকেলে রাজু আহমেদের নেতৃত্বে তার লোকজন আমাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। পরে স্থানীয় লোকজনে চাপের মুখে তারা পিছু হটে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে একই দাবিতে স্বামীকে আটক করে রাজু আহমেদ ও শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী কালীগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে থেতলে দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল নেওয়া হয়। বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অভিযুক্ত রাজু আহমেদ গা ঢাকা দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে মান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল গণি বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। খুব শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
Reporter Name 
























