রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দ্বাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এস এম এ ফয়েজ বলেন, মানুষ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এই পরিবর্তন সর্বপ্রথম নিজেকে দিয়ে শুরু করতে হবে। এই পরিবর্তনের সোপান তোমার বিশ্ববিদ্যালয়। যা তোমাকে গড়তে শিখিয়েছে। তোমার চিন্তার প্রসার ঘটিয়েছে। তোমার প্রত্যাশা পূরণে উপযোগী করেছে। দেশ-জাতি তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। সেভাবেই চিন্তা ভাবনা করে তোমার প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হবে। চারপাশে অনেক অস্থিরতা বিরাজমান। তবে পিছলে পড়লে চলবে না, বরং সবকিছু চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন লাইব্রেরিই কাজে আসেনি, যতক্ষণ জ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছে। এমনকি কোন ভালো শিক্ষকও কোন কাজে আসেনি, যতক্ষণ একজন শিক্ষার্থী ওই জ্ঞান আহরণে মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের কাজ শুধু জ্ঞান বিতরণ নয় বরং শিক্ষার্থীদের নিয় নতুন জ্ঞান তৈরি করা। তাই সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, নাগরিক সম্পৃক্ততা শুধু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এমনকি সমাজে তোমার ভূমিকা, কর্ম, পদ-পদবী বা শিরোনাম অথবা বেতনের মাত্রার মধ্যে শেষ হয় না; এটির অর্থ সততা, সমালোচনামূলক চিন্তা ও সাহসের সঙ্গে জনজীবনে অংশগ্রহণ করা। অতি নিকট ইতিহাস যেমন ভূমিকা রেখেছে জুলাই যোদ্ধারা। অতীতেও এ ক্যাম্পাসে এমন ত্যাগের দৃষ্টান্ত ছিলেন ড. শামসুজ্জোহা। যার আত্মবলিদান নাগরিক সম্পৃক্ততার অনন্য নজির।
তিনি বলেন, ড. জোহার এই ত্যাগ স্মরণ করে দেয় শিক্ষা নিরপেক্ষ নয় বরং দায়িত্বের সৃষ্টি করে। যখন সমাজ অন্যায়ের মুখোমুখি হয় তখন শিক্ষিতদের নিরবতা আপোষের সমতুল্য। এই নিরবতা একটি পরিত্যাগ। আমি কোন দল করি না, আমি কোন কিছুর মধ্যে জড়াবো না, আমি তো নিরপেক্ষ। অন্যায়ের সামনে এমন অবস্থা হতে পারে না। অবশ্যই একটি অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। সেটাই ড. জোহা জীবন উৎস্বর্গ করে দেখিয়েছিলেন। স্নাতকদের নাগরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ন্যায় ও কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মানে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, উপ-উপাচার্যদ্বয় ড. ফরিদ খান ও ড. মাঈন উদ্দিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সমাবর্তনে ৬০, ৬১ ও ৬২তম ব্যাচের ৫ হাজার ৯৬৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
Reporter Name 























