০১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • ১২ Time View

সবুজদিন ডেস্ক।।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দেশীয় খুনিদের চিহ্নিতকরণ, পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি টিএসসির রাজু ভাস্কর্য প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন ওসমান হাদির সমাধির সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘বাংলাদেশের আজাদি, ওসমান হাদি’, ‘জানতে চায় জনতা, নাম বলো মমতা’, ‘ইনকিলাবের পতাকায়, হাদি তোমায় দেখা যায়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা উচিত ছিল। কিন্তু পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘হারা প্রার্থীর কোনো কথা আমরা আমলে নিচ্ছি না।’ আমরা জানতে চাই, আপনারা কত দিনের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার করবেন।

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে আর কোনো দফা দেব না। এখন দফা দেবে সরকার।আমাদের দফা ও আল্টিমেটাম দেওয়া শেষ। সামনে যদি আর কোনো আল্টিমেটাম দিতে হয়, সেটি হবে চূড়ান্ত আন্দোলনের আল্টিমেটাম। এর বাইরে আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।

বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই যারা শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে নামে, তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আগে মনে করতাম এসব শুধু বট অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়। এখন দেখি সরকারের ছাত্রসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এসব বক্তব্য দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এদের থামান। যদি থামাতে না পারেন, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ মনে করবে আপনারা নিজেদের সংগঠন ও বাহিনী দিয়ে এসব প্রচার চালাচ্ছেন।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে জাবের বলেন, জানাজার মাঠেই আমরা বলেছিলাম, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার পেছনে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত থাকতে পারে। তদন্ত করে দেখুন। কিন্তু তদন্তের নামে এমন ব্যক্তিদের যুক্ত করা হচ্ছে, যাদের কোনো যোগসূত্র তদন্ত প্রতিবেদনে নেই।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মমতা ব্যানার্জি বক্তব্য কী ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যান করা হলো, তা আমরা জানতে চাই। আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দুটি সুনির্দিষ্ট বিষয় জানতে চাই। প্রথমত, জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘকে চিঠি দেওয়ার কথা বলেছিল। এরপর সেই উদ্যোগের কী অগ্রগতি হয়েছে, তা আমরা জানতে চাই।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, মমতা ব্যানার্জি বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের কিছু পক্ষের যোগসূত্র রয়েছে।ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে বাংলাদেশি এজেন্টরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। ফলে এটি এখন শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ কারণে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রয়োজন।

দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে বলা হয়, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।তবে তাদের ভেতরে থাকা কিছু ব্যক্তির কারণে তদন্ত কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোচ্ছে না। অধিকাংশ কর্মকর্তা ভালো কাজ করলেও কিছু লোকের কারণে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চাই। কিন্তু মমতার যে বিবরণ দিয়েছেন, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। আমরা সরকারকে অনুরোধ করছি, দ্রুত শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করুন এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল

Update Time : ০৪:২১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

সবুজদিন ডেস্ক।।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দেশীয় খুনিদের চিহ্নিতকরণ, পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি টিএসসির রাজু ভাস্কর্য প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন ওসমান হাদির সমাধির সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘বাংলাদেশের আজাদি, ওসমান হাদি’, ‘জানতে চায় জনতা, নাম বলো মমতা’, ‘ইনকিলাবের পতাকায়, হাদি তোমায় দেখা যায়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা উচিত ছিল। কিন্তু পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘হারা প্রার্থীর কোনো কথা আমরা আমলে নিচ্ছি না।’ আমরা জানতে চাই, আপনারা কত দিনের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার করবেন।

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে আর কোনো দফা দেব না। এখন দফা দেবে সরকার।আমাদের দফা ও আল্টিমেটাম দেওয়া শেষ। সামনে যদি আর কোনো আল্টিমেটাম দিতে হয়, সেটি হবে চূড়ান্ত আন্দোলনের আল্টিমেটাম। এর বাইরে আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।

বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই যারা শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে নামে, তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আগে মনে করতাম এসব শুধু বট অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়। এখন দেখি সরকারের ছাত্রসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এসব বক্তব্য দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এদের থামান। যদি থামাতে না পারেন, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ মনে করবে আপনারা নিজেদের সংগঠন ও বাহিনী দিয়ে এসব প্রচার চালাচ্ছেন।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে জাবের বলেন, জানাজার মাঠেই আমরা বলেছিলাম, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার পেছনে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত থাকতে পারে। তদন্ত করে দেখুন। কিন্তু তদন্তের নামে এমন ব্যক্তিদের যুক্ত করা হচ্ছে, যাদের কোনো যোগসূত্র তদন্ত প্রতিবেদনে নেই।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মমতা ব্যানার্জি বক্তব্য কী ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যান করা হলো, তা আমরা জানতে চাই। আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দুটি সুনির্দিষ্ট বিষয় জানতে চাই। প্রথমত, জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘকে চিঠি দেওয়ার কথা বলেছিল। এরপর সেই উদ্যোগের কী অগ্রগতি হয়েছে, তা আমরা জানতে চাই।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, মমতা ব্যানার্জি বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের কিছু পক্ষের যোগসূত্র রয়েছে।ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে বাংলাদেশি এজেন্টরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। ফলে এটি এখন শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ কারণে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রয়োজন।

দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে বলা হয়, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।তবে তাদের ভেতরে থাকা কিছু ব্যক্তির কারণে তদন্ত কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোচ্ছে না। অধিকাংশ কর্মকর্তা ভালো কাজ করলেও কিছু লোকের কারণে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চাই। কিন্তু মমতার যে বিবরণ দিয়েছেন, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। আমরা সরকারকে অনুরোধ করছি, দ্রুত শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করুন এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।