০১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আষাঢ়ের শেষে টানা বৃষ্টিতে পাইগাছার জনজীবন বিপর্যস্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ১৪ Time View

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা)

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে আষাঢ়ের টানা বর্ষণে খুলনার পাইকগাছার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌর সদরসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু ও কাঁচা রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন।

আষাঢ়ের শেষ প্রান্তে এসে টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলের পাইকগাছার জনজীবন। বৃষ্টির প্রভাব ও জনদুর্ভোগে দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও মৎস্যজীবীরা টানা কয়েকদিন পুরোপুরি বেকার বসে আছেন। রাস্তায় যাত্রী ও লোকজনের উপস্থিতি না থাকায় এবং শ্রমনির্ভর কাজ বন্ধ থাকায় এসব পরিবার তীব্র অর্থনৈতিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি অনেক কম। টানা বর্ষণে রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না, যার ফলে চিরচেনা ব্যস্ত সড়কগুলোতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান ও কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের সমাগম নেই বললেই চলে। কেনাবেচা বন্ধ থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমন মৌসুমের জন্য বৃষ্টির পানি ইতিবাচক হলেও, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আমন বীজতলা ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা।

টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েন ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ। ছাতা নিয়ে বের হলেও বিস্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। উপকূলের নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নিচু এলাকার বাড়ির উঠানে পানিতে ডুবে গেছে। রান্না করা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে গৃহবধূরা, উনুনে পানি উঠছে। শ্রমজীবী মানুষ যারা দিন এনে দিন খায়। এমন নির্মাণ শ্রমিক, রিকশা-ভ্যানচালক, হোটেল সহকারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবার জীবিকা নির্ভর করে প্রতিদিনকার আয়-রোজগারের ওপর। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে থমকে গেছে তাদের জীবনের চাকা।

টানা বৃষ্টিতে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এতে করে নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব পড়তে পারে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টিতে পাইকারি বাজার থেকে পণ্য আনতে সমস্যা হচ্ছে। চাহিদা বাড়লে দামও বাড়বে।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানান, ক্ষেতে পাট ছাড়া তেমন কোন ফসল নেই। যে সকল ক্ষেতে সবজী মাটিতে রয়েছে তার কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া এ বৃস্টিতে ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশ্নফাঁস বিতর্কে শিক্ষার্থীদের পাশে কমল হাসান ও আলিয়া ভাট

আষাঢ়ের শেষে টানা বৃষ্টিতে পাইগাছার জনজীবন বিপর্যস্ত

Update Time : ০৩:৪১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা)

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে আষাঢ়ের টানা বর্ষণে খুলনার পাইকগাছার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌর সদরসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু ও কাঁচা রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন।

আষাঢ়ের শেষ প্রান্তে এসে টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলের পাইকগাছার জনজীবন। বৃষ্টির প্রভাব ও জনদুর্ভোগে দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও মৎস্যজীবীরা টানা কয়েকদিন পুরোপুরি বেকার বসে আছেন। রাস্তায় যাত্রী ও লোকজনের উপস্থিতি না থাকায় এবং শ্রমনির্ভর কাজ বন্ধ থাকায় এসব পরিবার তীব্র অর্থনৈতিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি অনেক কম। টানা বর্ষণে রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না, যার ফলে চিরচেনা ব্যস্ত সড়কগুলোতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান ও কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের সমাগম নেই বললেই চলে। কেনাবেচা বন্ধ থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমন মৌসুমের জন্য বৃষ্টির পানি ইতিবাচক হলেও, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আমন বীজতলা ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা।

টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েন ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ। ছাতা নিয়ে বের হলেও বিস্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। উপকূলের নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নিচু এলাকার বাড়ির উঠানে পানিতে ডুবে গেছে। রান্না করা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে গৃহবধূরা, উনুনে পানি উঠছে। শ্রমজীবী মানুষ যারা দিন এনে দিন খায়। এমন নির্মাণ শ্রমিক, রিকশা-ভ্যানচালক, হোটেল সহকারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবার জীবিকা নির্ভর করে প্রতিদিনকার আয়-রোজগারের ওপর। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে থমকে গেছে তাদের জীবনের চাকা।

টানা বৃষ্টিতে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এতে করে নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব পড়তে পারে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টিতে পাইকারি বাজার থেকে পণ্য আনতে সমস্যা হচ্ছে। চাহিদা বাড়লে দামও বাড়বে।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানান, ক্ষেতে পাট ছাড়া তেমন কোন ফসল নেই। যে সকল ক্ষেতে সবজী মাটিতে রয়েছে তার কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া এ বৃস্টিতে ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হবে না।