০৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা, সমাধানের আশ্বাস গভর্নরের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ৯ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে ঘিরে চলমান অস্থিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা। তাদের মতে, দেশের মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ব্যাংকারদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) -এর চেয়ারম্যান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাংকাররা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে শুধু একটি ব্যাংক নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। আমানত প্রত্যাহার, গ্রাহকদের উদ্বেগ এবং বাজারে নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা প্রয়োজন বলে মত দেন ব্যাংকাররা।

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, বৈঠকের শেষ অংশে দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী ব্যাংকের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। গভর্নর ব্যাংকারদের সামনে সেখানে কী ঘটছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং অত্যন্ত খোলামেলা ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন

তিনি জানান, গভর্নর দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার দ্রুত সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। কারণ, ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হওয়ায় এর অস্থিরতা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করছে।

এবিবি চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, গভর্নরও স্বীকার করেছেন যে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকট এখন শুধু ব্যাংকিং খাতের বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, এটি রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে। সে কারণে বিষয়টির সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, গভর্নরকে এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে দেখা গেছে এবং তিনি আশাবাদী যে দ্রুত একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে।

বৈঠকে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের আলোচিত ১৮(ক) ধারা নিয়েও আলোচনা হয়। এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে সাবেক পরিচালকদের পুনরায় ব্যাংকে ফেরার যে সুযোগ রাখা হয়েছিল, সেটি বাতিলের পথে রয়েছে এবং এ বিষয়ে গভর্নর তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি ওই বিধানের পক্ষে নন বলেও জানিয়েছেন।

এ সময় তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর। বৈঠকে তিনি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সিআইবিতে তথ্য হালনাগাদ না হওয়ার কারণ জানতে চান এবং কোনো চাপ এলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর নির্দেশ দেন।

তবে ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক চাপের মুখে ঋণ দিতে হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমনটি বিশ্বাস করেন না।

একই বৈঠকে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ প্যাকেজ নিয়েও আলোচনা হয়। এবিবি চেয়ারম্যান জানান, রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ তহবিলের মাধ্যমে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা অর্থায়ন পাবেন। তাঁর মতে, খেলাপি ঋণের পর বর্তমানে ব্যাংক খাতের দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঋণ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা এবং নতুন এই প্যাকেজ সে ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে ব্যাংকাররা সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন পর এটি ছিল একটি ফলপ্রসূ ও প্রাণবন্ত ব্যাংকার্স সভা, যেখানে খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় এই ব্যাংকের পরিস্থিতি এখন পুরো ব্যাংকিং শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় সংকট দ্রুত সমাধানে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা, সমাধানের আশ্বাস গভর্নরের

Update Time : ০৪:২১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে ঘিরে চলমান অস্থিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা। তাদের মতে, দেশের মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ব্যাংকারদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) -এর চেয়ারম্যান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাংকাররা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে শুধু একটি ব্যাংক নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। আমানত প্রত্যাহার, গ্রাহকদের উদ্বেগ এবং বাজারে নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা প্রয়োজন বলে মত দেন ব্যাংকাররা।

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, বৈঠকের শেষ অংশে দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী ব্যাংকের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। গভর্নর ব্যাংকারদের সামনে সেখানে কী ঘটছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং অত্যন্ত খোলামেলা ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন

তিনি জানান, গভর্নর দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার দ্রুত সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। কারণ, ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হওয়ায় এর অস্থিরতা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করছে।

এবিবি চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, গভর্নরও স্বীকার করেছেন যে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকট এখন শুধু ব্যাংকিং খাতের বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, এটি রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে। সে কারণে বিষয়টির সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, গভর্নরকে এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে দেখা গেছে এবং তিনি আশাবাদী যে দ্রুত একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে।

বৈঠকে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের আলোচিত ১৮(ক) ধারা নিয়েও আলোচনা হয়। এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে সাবেক পরিচালকদের পুনরায় ব্যাংকে ফেরার যে সুযোগ রাখা হয়েছিল, সেটি বাতিলের পথে রয়েছে এবং এ বিষয়ে গভর্নর তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি ওই বিধানের পক্ষে নন বলেও জানিয়েছেন।

এ সময় তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর। বৈঠকে তিনি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সিআইবিতে তথ্য হালনাগাদ না হওয়ার কারণ জানতে চান এবং কোনো চাপ এলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর নির্দেশ দেন।

তবে ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক চাপের মুখে ঋণ দিতে হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমনটি বিশ্বাস করেন না।

একই বৈঠকে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ প্যাকেজ নিয়েও আলোচনা হয়। এবিবি চেয়ারম্যান জানান, রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ তহবিলের মাধ্যমে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা অর্থায়ন পাবেন। তাঁর মতে, খেলাপি ঋণের পর বর্তমানে ব্যাংক খাতের দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঋণ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা এবং নতুন এই প্যাকেজ সে ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে ব্যাংকাররা সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন পর এটি ছিল একটি ফলপ্রসূ ও প্রাণবন্ত ব্যাংকার্স সভা, যেখানে খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় এই ব্যাংকের পরিস্থিতি এখন পুরো ব্যাংকিং শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় সংকট দ্রুত সমাধানে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।