০৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গন্ধর্বপুর প্রকল্প চালু হলে দিনে ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকায় সরবরাহ করা যাবে: মির্জা ফখরুল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ৯ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবংবিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মেঘনা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু হলে দিনে ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকা শহরে সরবরাহ করা যাবে।

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলক ও আংশিক পানি সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করে ঢাকা ওয়াসার মাধ্যমে রাজধানীতে নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনুরূপ আরো একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তাতে রাজধানীর দীর্ঘমেয়াদী পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সোমবার (৮ জুন) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার গন্ধর্বপুরে ঢাকা ওয়াসার বাস্তবায়নাধীন এনভায়রনমেন্টালী সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সেজান পয়েন্টে এ প্রকল্পের পানির উৎস পাইপলাইন স্থাপন কাজ (পিকে-১৭ অংশ) এবং শোধনাগারের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা শহরের পানির চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা ছিল। ফলে পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছিল। ভবিষ্যতে ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মেঘনা নদীর আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ পয়েন্ট থেকে পানি নিয়ে তা শোধন করে রাজধানীতে সরবরাহের লক্ষ্যে ওয়াসা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ওয়াসা।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পুর্ণ চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারের প্রথম ধাপে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ সম্পন্ন হলে আরও ৫০ কোটি লিটার পানি প্রকল্পে যুক্ত হবে। ফলে দুই ধাপ মিলিয়ে প্রকল্পটির দৈনিক পানি সরবরাহ সক্ষমতা দাঁড়াবে ১০০ কোটি লিটারে, যা রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

এসময় মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী একান্ত সচিব কৃষিবিদ মো. ইউনুস আলী, জনসংযোগ কর্মকর্তা হৃদয় মাহমুদ চয়ন, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাজহারুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, প্রকল্প পরিচালক ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্পটির প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। সংশোধিত ব্যয় বাড়িয়ে ৮ হাজার ১৫১ কোটি টাকায় করা হয়েছে। এ প্রকল্পটির মেয়াদকাল ২০২২ এর জুন মাস পর্যন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। যে কারনে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দেবিদ্বারের শিক্ষার্থীদের সংসদ অ‌ধি‌বেশন ও সামরিক জাদুঘরে নি‌য়ে গে‌লেন হাসনাত

গন্ধর্বপুর প্রকল্প চালু হলে দিনে ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকায় সরবরাহ করা যাবে: মির্জা ফখরুল

Update Time : ০৪:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবংবিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মেঘনা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু হলে দিনে ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকা শহরে সরবরাহ করা যাবে।

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলক ও আংশিক পানি সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করে ঢাকা ওয়াসার মাধ্যমে রাজধানীতে নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনুরূপ আরো একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তাতে রাজধানীর দীর্ঘমেয়াদী পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সোমবার (৮ জুন) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার গন্ধর্বপুরে ঢাকা ওয়াসার বাস্তবায়নাধীন এনভায়রনমেন্টালী সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সেজান পয়েন্টে এ প্রকল্পের পানির উৎস পাইপলাইন স্থাপন কাজ (পিকে-১৭ অংশ) এবং শোধনাগারের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা শহরের পানির চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা ছিল। ফলে পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছিল। ভবিষ্যতে ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মেঘনা নদীর আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ পয়েন্ট থেকে পানি নিয়ে তা শোধন করে রাজধানীতে সরবরাহের লক্ষ্যে ওয়াসা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ওয়াসা।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পুর্ণ চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারের প্রথম ধাপে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ সম্পন্ন হলে আরও ৫০ কোটি লিটার পানি প্রকল্পে যুক্ত হবে। ফলে দুই ধাপ মিলিয়ে প্রকল্পটির দৈনিক পানি সরবরাহ সক্ষমতা দাঁড়াবে ১০০ কোটি লিটারে, যা রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

এসময় মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী একান্ত সচিব কৃষিবিদ মো. ইউনুস আলী, জনসংযোগ কর্মকর্তা হৃদয় মাহমুদ চয়ন, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাজহারুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, প্রকল্প পরিচালক ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্পটির প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। সংশোধিত ব্যয় বাড়িয়ে ৮ হাজার ১৫১ কোটি টাকায় করা হয়েছে। এ প্রকল্পটির মেয়াদকাল ২০২২ এর জুন মাস পর্যন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। যে কারনে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।