০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক থেকে সোয়া লাখ কোটি টাকা ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে: আইসিএবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ১২ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার সরকারি পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সহজলভ্যতা কমিয়ে দিতে পারে এবং বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর সিএ ভবনে আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এর উপর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন আইসিএবি নেতারা।

আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমন্বিত সংস্কার ও কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সীমিত করতে পারে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’

আইসিএবি কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির ওপর সরকারের গুরুত্বারোপকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সংস্থাটি জানায়, তাদের দেওয়া বেশ কয়েকটি প্রাক-বাজেট সুপারিশ এবারের অর্থবিলে প্রতিফলিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম কর বিধান বিলোপ, আগামী পাঁচ বছরের জন্য করহার নির্ধারণ, নিবন্ধিত স্টার্টআপের জন্য কর প্রণোদনা, কর ফেরতের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং কর আপিলের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক জমার পরিমাণ কমানো। এসব পদক্ষেপ ব্যবসা পরিচালনা সহজ করবে এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করবে বলে মনে করে আইসিএবি।

এ ছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি, স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যের ভ্যাট ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং কাস্টমস আইনে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল-সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করাকেও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

তবে কয়েকটি বিষয়ে সরকারকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে আইসিএবি। তাদের মতে, উৎপাদক, আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরাসরি বিক্রয়ের ওপর ০.২ শতাংশ অগ্রিম কর আদায়ের বিধান মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।

একই সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা ক্ষুদ্র ও উদীয়মান ব্যবসার জন্য বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

আইসিএবি কর নির্ধারণ, আপিল ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমে অনলাইন শুনানি চালু, কর প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং সরকারি ব্যয়ের ওপর কঠোর নজরদারি ও নিরীক্ষা জোরদারেরও সুপারিশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে এন কে এ মবিন বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও আইসিএবির যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামালসহ কাউন্সিল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আইসিএবি’র কাউন্সিল সদস্য ও ট্যাক্সেশন অ্যান্ড করপোরেট লজ কমিটির চেয়ারম্যান এম বিএম লুৎফুল হুদা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএবি’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল এবং প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সরকার নাহিদুল ইসলাম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শাশুড়ি–জামাইয়ের ‘অবৈধ সম্পর্ক’ দেখে ফেলায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

ব্যাংক থেকে সোয়া লাখ কোটি টাকা ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে: আইসিএবি

Update Time : ০১:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার সরকারি পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সহজলভ্যতা কমিয়ে দিতে পারে এবং বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর সিএ ভবনে আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এর উপর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন আইসিএবি নেতারা।

আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমন্বিত সংস্কার ও কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সীমিত করতে পারে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’

আইসিএবি কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির ওপর সরকারের গুরুত্বারোপকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সংস্থাটি জানায়, তাদের দেওয়া বেশ কয়েকটি প্রাক-বাজেট সুপারিশ এবারের অর্থবিলে প্রতিফলিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম কর বিধান বিলোপ, আগামী পাঁচ বছরের জন্য করহার নির্ধারণ, নিবন্ধিত স্টার্টআপের জন্য কর প্রণোদনা, কর ফেরতের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং কর আপিলের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক জমার পরিমাণ কমানো। এসব পদক্ষেপ ব্যবসা পরিচালনা সহজ করবে এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করবে বলে মনে করে আইসিএবি।

এ ছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি, স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যের ভ্যাট ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং কাস্টমস আইনে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল-সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করাকেও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

তবে কয়েকটি বিষয়ে সরকারকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে আইসিএবি। তাদের মতে, উৎপাদক, আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরাসরি বিক্রয়ের ওপর ০.২ শতাংশ অগ্রিম কর আদায়ের বিধান মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।

একই সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা ক্ষুদ্র ও উদীয়মান ব্যবসার জন্য বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

আইসিএবি কর নির্ধারণ, আপিল ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমে অনলাইন শুনানি চালু, কর প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং সরকারি ব্যয়ের ওপর কঠোর নজরদারি ও নিরীক্ষা জোরদারেরও সুপারিশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে এন কে এ মবিন বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও আইসিএবির যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামালসহ কাউন্সিল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আইসিএবি’র কাউন্সিল সদস্য ও ট্যাক্সেশন অ্যান্ড করপোরেট লজ কমিটির চেয়ারম্যান এম বিএম লুৎফুল হুদা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএবি’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল এবং প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সরকার নাহিদুল ইসলাম।