স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিহুয়ানায় পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বৈরিতার কারণে ইরানি প্রতিনিধিদলের বেশ কয়েকজন সদস্য ভিসা না পাওয়ায় দলটি শেষ মুহূর্তে নিজেদের প্রস্তুতি শিবিরের স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
তুরস্কে প্রায় তিন সপ্তাহের অনুশীলন ক্যাম্প শেষ করে স্থানীয় সময় ভোরে তিহুয়ানায় পৌঁছায় ইরান দল। আগে তাদের শিবির যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় হওয়ার কথা থাকলেও ভিসা অনিশ্চয়তার কারণে তা সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়া হয়।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের দাবি, খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত ভিসা পেলেও দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ভিসা পাননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটির মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে মেক্সিকো। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ইরান মেক্সিকোতেই অবস্থান করবে, যদিও তাদের গ্রুপপর্বের সব ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে আয়োজক দেশকে এমন একটি দলের আতিথ্য দিতে হচ্ছে যার দেশের সঙ্গে তাদের সরাসরি বৈরিতা চলছে।
ইরান দল তুরস্কের আনতালিয়ায় অবস্থানকালে তিনটি আয়োজক দেশের ভিসার জন্য আবেদন করে। যাত্রার ঠিক আগের দিন খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেও ইরানের দূতাবাস জানিয়েছে, ১৫ জন প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ভিসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ইরানের দূতাবাস তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, জাতীয় দলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে ইরানের মেক্সিকোস্থ রাষ্ট্রদূতের একটি বক্তব্য। তিনি জানান, দলকে জানানো হয়েছে যে ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও দেশত্যাগ করতে হবে। অর্থাৎ সকালে প্রবেশ করে ম্যাচ শেষে সেদিনই ফিরে আসতে হবে।
তবে জাতীয় দলের মুখপাত্র এ তথ্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁর দাবি, দলকে একাধিকবার প্রবেশের অনুমতিসহ ভিসা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ম্যাচের এক বা দুই দিন আগে খেলোয়াড়রা ম্যাচ ভেন্যুতে যেতে পারবেন।
বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন কোচকে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে হয়। ফলে ভিসা সংক্রান্ত এই জটিলতা নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজও ভিসা না পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফেডারেশন এই ঘটনাকে খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় ও অপরিহার্য সহায়ক কর্মীদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনীর বিশেষ ইউনিটের সম্পর্ক থাকতে পারে, যা নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে।
বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে খেলবে ইরান। তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে ইরান।
Reporter Name 





















