১১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রচলিত ফল আমঝুম শোভা ছড়াচ্ছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ৮ Time View

প্রকাশ ঘোষ বিধান (খুলনা) পাইকগাছা

রাস্তার পাশে বাহারি রং ছড়াচ্ছে আমঝুম ফল। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে আমঝুম। দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। এ ফলটি কাঁচা অবস্থায় সবুজ বর্ণের। আধাপাকা হলে গোলাপি-লাল এবং পরিপূর্ণ পাকলে লালচে কালো রঙ ধারণ করে। আধা পাকা এ ফল খেতে কষযুক্ত। আমঝুম ফল পাকলে কষভাব অনেকটা কমে যায়। স্বাদে কষ হওয়ায় এ ফলটিকে কষটি ফলও বলা হয়।

পাইকগাছার মেইন সড়কের গদাইপুর ও নতুন বাজারের পাশের গাছে শোভা ছড়াচ্ছে আমঝুম। কাচা, হলুদ,কমলা ও কালো রংয়ের বাহারি আমঝুম থোকায় থো্কায় ঝুলছে। এটি অপ্রচলিত একটি গাছ, নানা নামে প্রচলিত। এলাকায় ভিত্তিক নাম ভিন্ন ভিন্ন। খুলনা অঞ্চলে আমঝুম, নিনজিল ও কাউয়াঠুটি নামে পরিচিত। অঞ্চলভেদে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমঝুম ফল, ছাগলবড়ই, ছেরাবেরা, ছাগলনেদি, টাটই, কাউয়াঠুটি, খেজুরজাম, ভূতিজাম ইত্যাদি নামেও পরিচিত। ভারতের পূর্ব-মেদিনীপুর, হুগলি ও হাওড়ার গ্ৰামাঞ্চলে এটিকে রাখালফলও বলা হয়। ফলটি জিভ ও মুখের ঘা এবং রক্তহীণতা দূর করে। প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ এই ফলটি দেহের রোগ প্রতিরোধ-ক্ষমতাও বাড়ায় বলে জানা গেছে।

খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঝোপঝাড়, বসতবাড়ি, বাগান এবং রাস্তার ধারে প্রায়ই দেখা যেত। তবে বর্তমানে এটি বিলুপ্তির পথে। গাছের আকার মধ্যাকৃতির, পাতার গড়ন আম পাতার মতো। তবে পাতা অনেক নরম। এর বৈজ্ঞানিক নাম লেপিস্যান্থেস রুবিগিনোসা শেপিনডেসি।

বুনো গাছ বলে পরিচিত। রাস্তার ধারে, ঝোপঝাড়,বনেবাদাড়ে জন্মায় এই গাছ। অবহেলা অনাদরে বড় হয়। গাছ চির সবুজ। পাতা বড় এবং মসৃণ ও খসখসে। গাছ প্রায় ত্রিশ ফুট পর্যন্ত বড় হয়।ছোট গাছে ফল ধরে। গাছে মার্চে ফুল ধরে এবং মে মাসে ফল পাকা শুরু হয়। পল্লবের ডোগা থেকে ঝুরি নামে এবং থোবায় থোকায় ফল ধরে। ফল কাচা অবস্থায় সবুজ,আধা পাকা অবস্থায় হলুদ বা কমলা রঙের আর পাকলে কালো রং হয়।স্বাদে কিছুটা বুনো গন্ধযুক্ত মিস্ট,তবে মুখরোচক। ছোট ছেলে মেয়েদের কাছে খুব প্রিয় ফল। এইগুলো পাখিদের প্রিয় ফল, পাকা ফল পেলে গাছ সাবাড় করে দেয় পাখি।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩০ রকম ফলের সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে প্রায় ৭০টি ফল অপ্রচলিত বা স্বল্প পরিচিত।এর মধ্যে রয়েছে কাউফল, নোয়াল, উড়িআম, লুকলুকি, বৈচি ইত্যাদি। দেশি প্রজাতির অনেক গাছ বিলুপ্ত হচ্ছে সংরক্ষের অভাবে।

পাইকগাছা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, দিন দিন বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে যাচ্ছে। আমঝুম ফলে ঔষধিগুণ রয়েছে। প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নাম না জানা নানা গাছ। এসব গাছ সংরক্ষন করা প্রযোজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

২ ব্যাংক থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

অপ্রচলিত ফল আমঝুম শোভা ছড়াচ্ছে

Update Time : ০১:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

প্রকাশ ঘোষ বিধান (খুলনা) পাইকগাছা

রাস্তার পাশে বাহারি রং ছড়াচ্ছে আমঝুম ফল। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে আমঝুম। দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। এ ফলটি কাঁচা অবস্থায় সবুজ বর্ণের। আধাপাকা হলে গোলাপি-লাল এবং পরিপূর্ণ পাকলে লালচে কালো রঙ ধারণ করে। আধা পাকা এ ফল খেতে কষযুক্ত। আমঝুম ফল পাকলে কষভাব অনেকটা কমে যায়। স্বাদে কষ হওয়ায় এ ফলটিকে কষটি ফলও বলা হয়।

পাইকগাছার মেইন সড়কের গদাইপুর ও নতুন বাজারের পাশের গাছে শোভা ছড়াচ্ছে আমঝুম। কাচা, হলুদ,কমলা ও কালো রংয়ের বাহারি আমঝুম থোকায় থো্কায় ঝুলছে। এটি অপ্রচলিত একটি গাছ, নানা নামে প্রচলিত। এলাকায় ভিত্তিক নাম ভিন্ন ভিন্ন। খুলনা অঞ্চলে আমঝুম, নিনজিল ও কাউয়াঠুটি নামে পরিচিত। অঞ্চলভেদে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমঝুম ফল, ছাগলবড়ই, ছেরাবেরা, ছাগলনেদি, টাটই, কাউয়াঠুটি, খেজুরজাম, ভূতিজাম ইত্যাদি নামেও পরিচিত। ভারতের পূর্ব-মেদিনীপুর, হুগলি ও হাওড়ার গ্ৰামাঞ্চলে এটিকে রাখালফলও বলা হয়। ফলটি জিভ ও মুখের ঘা এবং রক্তহীণতা দূর করে। প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ এই ফলটি দেহের রোগ প্রতিরোধ-ক্ষমতাও বাড়ায় বলে জানা গেছে।

খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঝোপঝাড়, বসতবাড়ি, বাগান এবং রাস্তার ধারে প্রায়ই দেখা যেত। তবে বর্তমানে এটি বিলুপ্তির পথে। গাছের আকার মধ্যাকৃতির, পাতার গড়ন আম পাতার মতো। তবে পাতা অনেক নরম। এর বৈজ্ঞানিক নাম লেপিস্যান্থেস রুবিগিনোসা শেপিনডেসি।

বুনো গাছ বলে পরিচিত। রাস্তার ধারে, ঝোপঝাড়,বনেবাদাড়ে জন্মায় এই গাছ। অবহেলা অনাদরে বড় হয়। গাছ চির সবুজ। পাতা বড় এবং মসৃণ ও খসখসে। গাছ প্রায় ত্রিশ ফুট পর্যন্ত বড় হয়।ছোট গাছে ফল ধরে। গাছে মার্চে ফুল ধরে এবং মে মাসে ফল পাকা শুরু হয়। পল্লবের ডোগা থেকে ঝুরি নামে এবং থোবায় থোকায় ফল ধরে। ফল কাচা অবস্থায় সবুজ,আধা পাকা অবস্থায় হলুদ বা কমলা রঙের আর পাকলে কালো রং হয়।স্বাদে কিছুটা বুনো গন্ধযুক্ত মিস্ট,তবে মুখরোচক। ছোট ছেলে মেয়েদের কাছে খুব প্রিয় ফল। এইগুলো পাখিদের প্রিয় ফল, পাকা ফল পেলে গাছ সাবাড় করে দেয় পাখি।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩০ রকম ফলের সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে প্রায় ৭০টি ফল অপ্রচলিত বা স্বল্প পরিচিত।এর মধ্যে রয়েছে কাউফল, নোয়াল, উড়িআম, লুকলুকি, বৈচি ইত্যাদি। দেশি প্রজাতির অনেক গাছ বিলুপ্ত হচ্ছে সংরক্ষের অভাবে।

পাইকগাছা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, দিন দিন বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে যাচ্ছে। আমঝুম ফলে ঔষধিগুণ রয়েছে। প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নাম না জানা নানা গাছ। এসব গাছ সংরক্ষন করা প্রযোজন।