১১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারের ৩ উপজেলায় বন্যার উন্নতি, কাটেনি দুর্ভোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৫ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামলেও শেষ হয়নি মানুষের দুর্ভোগ। হাজারো পরিবার এখনো পানিবন্দি, অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ আংশিক বিচ্ছিন্ন এবং কৃষি, মৎস্য ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। নদীর পানি কমলেও ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে এখনো প্লাবিত এলাকায় পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশন অব্যাহত রয়েছে। চকরিয়ার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা এবং মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, কোনাখালী, ঢেমুশিয়াসহ পেকুয়া পৌরসভা, বারবাকিয়া, রাজাখালী, টইটং ও মগনামা ইউনিয়নের অনেক মানুষ এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি।

পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, টানা ছয়দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের অধিকাংশ স্লুইসগেট অকার্যকর হয়ে পড়ায় লোকালয় থেকে পানি বের হতে পারেনি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বারবাকিয়া বাজারের পূর্ব ও পশ্চিম পাশ এবং বোদামাঝির ঘোনা এলাকায় বেড়িবাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে।

বারবাকিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদ বলেন, গত চারদিন ধরে বাড়িতে রান্না হয়নি। শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটছে। বেড়িবাঁধ কেটে দেওয়ার পর আমাদের এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে।

মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির নেতা ইমরুল হাসান হান্নান জানান, বন্যায় হাজার হাজার একর আমনের বীজতলা, সবজিখেত, মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা ও আধাপাকা অসংখ্য বসতঘর ক্ষতির মুখে পড়েছে। গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো ব্যাহত রয়েছে।

দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী পরিবারগুলোর পাশাপাশি নিজ বাড়িতে আটকে থাকা মানুষও সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পানি কমতে শুরু করায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, মাছচাষী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, সরকারিভাবে চকরিয়া উপজেলার জন্য ১১৫ টন চাল ও সাড়ে ছয় লাখ টাকা এবং মাতামুহুরী উপজেলার জন্য ৪০ টন চাল ও তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দুই উপজেলায় ২০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে। এসব সহায়তা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও সামাজিক সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ এবং ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা চলছে

কক্সবাজারের ৩ উপজেলায় বন্যার উন্নতি, কাটেনি দুর্ভোগ

Update Time : ০৪:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামলেও শেষ হয়নি মানুষের দুর্ভোগ। হাজারো পরিবার এখনো পানিবন্দি, অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ আংশিক বিচ্ছিন্ন এবং কৃষি, মৎস্য ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। নদীর পানি কমলেও ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে এখনো প্লাবিত এলাকায় পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশন অব্যাহত রয়েছে। চকরিয়ার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা এবং মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, কোনাখালী, ঢেমুশিয়াসহ পেকুয়া পৌরসভা, বারবাকিয়া, রাজাখালী, টইটং ও মগনামা ইউনিয়নের অনেক মানুষ এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি।

পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, টানা ছয়দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের অধিকাংশ স্লুইসগেট অকার্যকর হয়ে পড়ায় লোকালয় থেকে পানি বের হতে পারেনি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বারবাকিয়া বাজারের পূর্ব ও পশ্চিম পাশ এবং বোদামাঝির ঘোনা এলাকায় বেড়িবাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে।

বারবাকিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদ বলেন, গত চারদিন ধরে বাড়িতে রান্না হয়নি। শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটছে। বেড়িবাঁধ কেটে দেওয়ার পর আমাদের এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে।

মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির নেতা ইমরুল হাসান হান্নান জানান, বন্যায় হাজার হাজার একর আমনের বীজতলা, সবজিখেত, মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা ও আধাপাকা অসংখ্য বসতঘর ক্ষতির মুখে পড়েছে। গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো ব্যাহত রয়েছে।

দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী পরিবারগুলোর পাশাপাশি নিজ বাড়িতে আটকে থাকা মানুষও সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পানি কমতে শুরু করায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, মাছচাষী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, সরকারিভাবে চকরিয়া উপজেলার জন্য ১১৫ টন চাল ও সাড়ে ছয় লাখ টাকা এবং মাতামুহুরী উপজেলার জন্য ৪০ টন চাল ও তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দুই উপজেলায় ২০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে। এসব সহায়তা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও সামাজিক সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ এবং ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।