১১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কঠিন প্রশ্ন করায় কেন্দ্রে হামলা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৩ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

আইসিটি প্রশ্ন কঠিন হওয়ার অভিযোগে ভোলার চরফ্যাশনে ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্র ভাঙচুর করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে এই হামলা হয়। হামলায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। এদের মধ্যে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হুমায়ুন শিকদার কবির ও ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম রাসেল রয়েছেন।

শিক্ষার্থী সাধারণ পথচারীরাও আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কলেজের গেইট, সাইনবোর্ড, দরজা জানালা ভাংচুর করে শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষায় অসধুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ায় হামলা করা হয়, এমনটা জানান ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু। তিনি জানান এক দিকে প্রশ্নপত্র কিছুটা কঠিন হয়েছে। তার উপর কক্ষ পরির্দশকরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার শুরুর পর থেকে কক্ষে পরির্দশকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। পরীক্ষা শেষে

ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। গেইট ভেঙে ফেলে। লোহার পাইপ নিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা কক্ষে হামলা করে। শিক্ষক কক্ষে হামলা করে। হামলাকারীদের মধ্যে ৪/৫শ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা ছিল। ওই

কেন্দ্রে সরকারি চরফ্যাশন কলেজের ৭৮৪ জন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছিল।

শনিবার ছিল এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে পরীক্ষা।

পরীক্ষার্থীরা জানায়, প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে। এক দিকে কমন পড়েনি । অপরদিকে পরীক্ষার হলের

কক্ষ পরিদর্শকরা রূঢ় আচরণ করেন। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ জানান, খবর শুনে থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত

ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়।

চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, একদল পরীক্ষার্থী চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা চালায়। খবর শুনে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কয়েক রাউন্ড

টিআরসেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষ দর্শী সোহেব হোসেন জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজ গেইটের

সামনে অবস্থান নিয়ে ভুয়া ভুয়া ম্লোগান দিতে থাকে। পরে উত্তর ও পশ্চিম পাশের দুটি গেই ভেঙে

ভেতরে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষকরা আতঙ্কিত হয়ে একটি কক্ষে আশ্রয় নেয়। পরীক্ষার্থীরা

লাঠিসোটা নিয়ে তাদের তাড়া করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ দ্রুত ছুটে এসে প্রশাসনের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষার্থীদের সরে যেতে বলে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্বাবধানে পুলিশ পরীক্ষার উত্তরপত্র পোষ্ট অফিসে জমা দেয়। ওসি জানান

পুলিশ টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে। পরীক্ষা কমিটি অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা চলছে

কঠিন প্রশ্ন করায় কেন্দ্রে হামলা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের

Update Time : ০৭:২৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

আইসিটি প্রশ্ন কঠিন হওয়ার অভিযোগে ভোলার চরফ্যাশনে ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্র ভাঙচুর করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে এই হামলা হয়। হামলায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। এদের মধ্যে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হুমায়ুন শিকদার কবির ও ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম রাসেল রয়েছেন।

শিক্ষার্থী সাধারণ পথচারীরাও আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কলেজের গেইট, সাইনবোর্ড, দরজা জানালা ভাংচুর করে শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষায় অসধুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ায় হামলা করা হয়, এমনটা জানান ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু। তিনি জানান এক দিকে প্রশ্নপত্র কিছুটা কঠিন হয়েছে। তার উপর কক্ষ পরির্দশকরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার শুরুর পর থেকে কক্ষে পরির্দশকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। পরীক্ষা শেষে

ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। গেইট ভেঙে ফেলে। লোহার পাইপ নিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা কক্ষে হামলা করে। শিক্ষক কক্ষে হামলা করে। হামলাকারীদের মধ্যে ৪/৫শ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা ছিল। ওই

কেন্দ্রে সরকারি চরফ্যাশন কলেজের ৭৮৪ জন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছিল।

শনিবার ছিল এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে পরীক্ষা।

পরীক্ষার্থীরা জানায়, প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে। এক দিকে কমন পড়েনি । অপরদিকে পরীক্ষার হলের

কক্ষ পরিদর্শকরা রূঢ় আচরণ করেন। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ জানান, খবর শুনে থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত

ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়।

চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, একদল পরীক্ষার্থী চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা চালায়। খবর শুনে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কয়েক রাউন্ড

টিআরসেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষ দর্শী সোহেব হোসেন জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজ গেইটের

সামনে অবস্থান নিয়ে ভুয়া ভুয়া ম্লোগান দিতে থাকে। পরে উত্তর ও পশ্চিম পাশের দুটি গেই ভেঙে

ভেতরে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষকরা আতঙ্কিত হয়ে একটি কক্ষে আশ্রয় নেয়। পরীক্ষার্থীরা

লাঠিসোটা নিয়ে তাদের তাড়া করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ দ্রুত ছুটে এসে প্রশাসনের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষার্থীদের সরে যেতে বলে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্বাবধানে পুলিশ পরীক্ষার উত্তরপত্র পোষ্ট অফিসে জমা দেয়। ওসি জানান

পুলিশ টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে। পরীক্ষা কমিটি অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়া হয়েছে।