০৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তাকারী এক অভিযুক্ত আটক: সিএমপি কমিশনার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৪ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

চট্টগ্রাম নগরে নিজ বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে হেনস্তা ও জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ দুপুর ১২টার দিকে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ক্রিকেটার নাঈম হাসানের চট্টগ্রাম শহরের বাসভবনে যান। তিনি নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুলিশের এমন আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

ক্রিকেটার নাঈমের বাসভবনে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে চাই। পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সিএমপি কমিশনার আরও বলেন, অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যেই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছি। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর থেকে গাড়িযোগে নিজ বাসায় ফিরছিলেন জাতীয় দলের এই অফস্পিনার। পথিমধ্যে সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তার গাড়ি থামায়। স্বর্ণ চোরাকারবারি সন্দেহে নাঈমকে গাড়ি থেকে নামতে বাধ্য করা হয় এবং তার সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করা হয়।

একপর্যায়ে নাঈম নিজের পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা তা কর্ণপাত করেননি। উল্টো তাকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও দীর্ঘক্ষণ হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে পুলিশের এমন অশোভন আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সিএমপি সূত্র জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে এবং দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্রিকেটার নাঈমের পরিবারের সদস্যরা জানায়, সিএমপি কমিশনার নিজে বাসায় এসে দুঃখ প্রকাশ করায় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা আপাতত আশ্বস্ত। তবে তারা চান যেন তদন্তের মাধ্যমে দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিল–মরক্কো ম্যাচে কার পাল্লা ভারী? যা বলছে পরিসংখ্যান

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তাকারী এক অভিযুক্ত আটক: সিএমপি কমিশনার

Update Time : ০২:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

চট্টগ্রাম নগরে নিজ বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে হেনস্তা ও জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ দুপুর ১২টার দিকে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ক্রিকেটার নাঈম হাসানের চট্টগ্রাম শহরের বাসভবনে যান। তিনি নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুলিশের এমন আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

ক্রিকেটার নাঈমের বাসভবনে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে চাই। পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সিএমপি কমিশনার আরও বলেন, অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যেই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছি। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর থেকে গাড়িযোগে নিজ বাসায় ফিরছিলেন জাতীয় দলের এই অফস্পিনার। পথিমধ্যে সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তার গাড়ি থামায়। স্বর্ণ চোরাকারবারি সন্দেহে নাঈমকে গাড়ি থেকে নামতে বাধ্য করা হয় এবং তার সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করা হয়।

একপর্যায়ে নাঈম নিজের পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা তা কর্ণপাত করেননি। উল্টো তাকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও দীর্ঘক্ষণ হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে পুলিশের এমন অশোভন আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সিএমপি সূত্র জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে এবং দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্রিকেটার নাঈমের পরিবারের সদস্যরা জানায়, সিএমপি কমিশনার নিজে বাসায় এসে দুঃখ প্রকাশ করায় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা আপাতত আশ্বস্ত। তবে তারা চান যেন তদন্তের মাধ্যমে দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।