১১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাফ নদী থেকে নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ‘আরাকান আর্মি’

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ৩৪ Time View

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র (এএ) সদস্যরা কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর মোহনা থেকে তিনটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে।
শনিবার সকালে সাগর থেকে মাছ শিকার শেষে টেকনাফ ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া নামক এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায়।
জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম।
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের ( ৪০), মো. আবদুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪)। তারা সবাই টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
নৌকার মালিকরা হলেন, মো. কালু ওরফে মলা হালু, মো. মুস্তাফিজ ও মীর কাশিম। তারা তিনজনই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, জেলেদের ধরে নিয়ে বিষয়টি শুনেছি। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি জানার চেষ্টা চলছে। আর জেলেদের বিষয়ে আমাদের সীমান্তে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে করে তাদের ফেরত আনার প্রচেষ্টা চালানো হবে।

শাহপরীর দ্বীপে বাসিন্দা মো. ইবনে আমিন বলেন, আজকেও তিনটি নৌকার ১৩ জন মাঝিকে ধরে নিয়ে গেছে ‘আরাকান আর্মি’। সেখানে আমাদের পরিবারের সদস্যও রয়েছে। এই ঘটনায় ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের পরিবারের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, আবারও ৩ নৌকার ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় জেলেপল্লীতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনটি কতৃপক্ষকেকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় জেলেদের মতে, গত দুই বছরে অন্তত পাঁচ শতাধিক জেলেকে নানা সময় ‘আরাকান আর্মি’ ধরে নিয়ে গেছে। এদের মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক জেলেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সবশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেরত আসেন ৭৩ জেলে। আরও দুইশ জন জেলে আরাকান আর্মি হেফাজতে আটকা রয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশ্নফাঁসের প্রচারণাটি স্রেফ গুজব: শিক্ষামন্ত্রী

নাফ নদী থেকে নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ‘আরাকান আর্মি’

Update Time : ০৪:১৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র (এএ) সদস্যরা কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর মোহনা থেকে তিনটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে।
শনিবার সকালে সাগর থেকে মাছ শিকার শেষে টেকনাফ ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া নামক এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায়।
জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম।
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের ( ৪০), মো. আবদুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪)। তারা সবাই টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
নৌকার মালিকরা হলেন, মো. কালু ওরফে মলা হালু, মো. মুস্তাফিজ ও মীর কাশিম। তারা তিনজনই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, জেলেদের ধরে নিয়ে বিষয়টি শুনেছি। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি জানার চেষ্টা চলছে। আর জেলেদের বিষয়ে আমাদের সীমান্তে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে করে তাদের ফেরত আনার প্রচেষ্টা চালানো হবে।

শাহপরীর দ্বীপে বাসিন্দা মো. ইবনে আমিন বলেন, আজকেও তিনটি নৌকার ১৩ জন মাঝিকে ধরে নিয়ে গেছে ‘আরাকান আর্মি’। সেখানে আমাদের পরিবারের সদস্যও রয়েছে। এই ঘটনায় ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের পরিবারের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, আবারও ৩ নৌকার ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় জেলেপল্লীতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনটি কতৃপক্ষকেকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় জেলেদের মতে, গত দুই বছরে অন্তত পাঁচ শতাধিক জেলেকে নানা সময় ‘আরাকান আর্মি’ ধরে নিয়ে গেছে। এদের মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক জেলেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সবশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেরত আসেন ৭৩ জেলে। আরও দুইশ জন জেলে আরাকান আর্মি হেফাজতে আটকা রয়েছেন।