০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিম্নমান পাওয়ায় ইফতার ও সেহরিতে ব্যবহৃত ৪৯টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • ৩০১ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। নিম্নমান পাওয়ায় ইফতার ও সেহরিতে ব্যবহৃত ৪৯টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিল্প সচিব মো. ওবাইদুর রহমান।
শিল্প সচিব জানান, রমজানে রোজাদাররা যেসব পণ্য বেশি ব্যবহার করেন—ফ্রুট ড্রিঙ্ক, ফ্রুট সিরাপ, মুড়ি, খেজুর, সফট ড্রিংকস পাউডার, পাস্তুরিত দুধ, ভোজ্য তেল, ঘি, নুডলস, সেমাই—এসব পণ্য বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
মোট ৭৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭০১টি মানসম্মত পাওয়া গেলেও ৪৯টি পণ্যে ভেজাল ধরা পড়ে। নিম্নমানের ভোজ্য তেল বাজারজাত করায় একটি কারখানা সিলগালা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভেজাল খাদ্য ও নিম্নমানের পণ্য বাজারজাতের অভিযোগে গত সাত মাসে ১০৩টি কারখানা ও পেট্রোল পাম্প সিলগালা করা হয়েছে। এক হাজার ৪৭০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানান সচিব।
রমজান উপলক্ষে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি রোধে মোবাইল কোর্ট ও সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলায় বিএসটিআইয়ের নিজস্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে প্রতিদিন ৩টি করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও জেলা কার্যালয় থেকেও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
র্যা ব এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর সঙ্গে যৌথভাবেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (প্রকৌশলী) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বাজারে নামী প্রতিষ্ঠানের পণ্য নকল করে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রাণ ও ইউনিলিভার–এর মতো প্রতিষ্ঠানের নামে নকল পণ্য বাজারে পাওয়া গেছে। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, এসব পণ্য তাদের উৎপাদিত নয়। শিল্প সচিব বলেন, নিম্নমানের বা নকল খাদ্যপণ্য বিক্রি করলে তা ধ্বংসের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরবরাহ চক্রও শনাক্ত করা হবে।
বিএসটিআই সারা বছর ভেজালবিরোধী অভিযান চালালেও রমজানে তা আরও জোরদার করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক পণ্য দেখলে বিএসটিআইকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট,পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

নিম্নমান পাওয়ায় ইফতার ও সেহরিতে ব্যবহৃত ৪৯টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার

Update Time : ০৫:২২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। নিম্নমান পাওয়ায় ইফতার ও সেহরিতে ব্যবহৃত ৪৯টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিল্প সচিব মো. ওবাইদুর রহমান।
শিল্প সচিব জানান, রমজানে রোজাদাররা যেসব পণ্য বেশি ব্যবহার করেন—ফ্রুট ড্রিঙ্ক, ফ্রুট সিরাপ, মুড়ি, খেজুর, সফট ড্রিংকস পাউডার, পাস্তুরিত দুধ, ভোজ্য তেল, ঘি, নুডলস, সেমাই—এসব পণ্য বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
মোট ৭৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭০১টি মানসম্মত পাওয়া গেলেও ৪৯টি পণ্যে ভেজাল ধরা পড়ে। নিম্নমানের ভোজ্য তেল বাজারজাত করায় একটি কারখানা সিলগালা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভেজাল খাদ্য ও নিম্নমানের পণ্য বাজারজাতের অভিযোগে গত সাত মাসে ১০৩টি কারখানা ও পেট্রোল পাম্প সিলগালা করা হয়েছে। এক হাজার ৪৭০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানান সচিব।
রমজান উপলক্ষে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি রোধে মোবাইল কোর্ট ও সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলায় বিএসটিআইয়ের নিজস্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে প্রতিদিন ৩টি করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও জেলা কার্যালয় থেকেও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
র্যা ব এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর সঙ্গে যৌথভাবেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (প্রকৌশলী) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বাজারে নামী প্রতিষ্ঠানের পণ্য নকল করে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রাণ ও ইউনিলিভার–এর মতো প্রতিষ্ঠানের নামে নকল পণ্য বাজারে পাওয়া গেছে। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, এসব পণ্য তাদের উৎপাদিত নয়। শিল্প সচিব বলেন, নিম্নমানের বা নকল খাদ্যপণ্য বিক্রি করলে তা ধ্বংসের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরবরাহ চক্রও শনাক্ত করা হবে।
বিএসটিআই সারা বছর ভেজালবিরোধী অভিযান চালালেও রমজানে তা আরও জোরদার করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক পণ্য দেখলে বিএসটিআইকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।