০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশনে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি আজ অথবা দু-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন, তা নিয়ে সরকার ও রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে হিসাব-নিকাশ চলছে।

সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। বর্তমানে সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন বসার প্রস্তুতি রয়েছে এবং ওই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে সূত্রগুলো জানায়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও প্রায় সম্পন্ন। সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হবে। চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দেশে ফিরেছেন। তার দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। স্পিকার দেশের বাইরে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছিল বলে তারা দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি মনোনীত কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত মালামাল গুছিয়ে নিয়েছেন। কয়েক দিন আগে রাষ্ট্রপতি অধস্তন কর্মকর্তাদের চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার মৌখিক নির্দেশনাও দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন এবং পরে চিকিৎসা ও বিশ্রামের জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গুঞ্জন রয়েছে, লন্ডনে অবস্থানকালে অতি গোপনীয়তা রক্ষা করে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন তিনি। ১৮ মে দেশে ফেরার পর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এ তথ্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে। সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পেছনে মূলত দুটি বিষয় কাজ করতে পারে। একটি হচ্ছে, লন্ডনে উল্লিখিত গোপন আলাপ, অন্যটি এ বছরের ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়া। সব মিলিয়ে সরকারও মনে করছে রাষ্ট্রপতিকে এই পদে আর রাখা সমীচীন হবে না। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অফিশিয়াল বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময় তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সর্বশেষ তিনি বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ আগস্ট খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশনে

Update Time : ০২:২২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি আজ অথবা দু-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন, তা নিয়ে সরকার ও রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে হিসাব-নিকাশ চলছে।

সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। বর্তমানে সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন বসার প্রস্তুতি রয়েছে এবং ওই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে সূত্রগুলো জানায়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও প্রায় সম্পন্ন। সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হবে। চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দেশে ফিরেছেন। তার দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। স্পিকার দেশের বাইরে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছিল বলে তারা দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি মনোনীত কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত মালামাল গুছিয়ে নিয়েছেন। কয়েক দিন আগে রাষ্ট্রপতি অধস্তন কর্মকর্তাদের চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার মৌখিক নির্দেশনাও দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন এবং পরে চিকিৎসা ও বিশ্রামের জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গুঞ্জন রয়েছে, লন্ডনে অবস্থানকালে অতি গোপনীয়তা রক্ষা করে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন তিনি। ১৮ মে দেশে ফেরার পর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এ তথ্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে। সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পেছনে মূলত দুটি বিষয় কাজ করতে পারে। একটি হচ্ছে, লন্ডনে উল্লিখিত গোপন আলাপ, অন্যটি এ বছরের ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়া। সব মিলিয়ে সরকারও মনে করছে রাষ্ট্রপতিকে এই পদে আর রাখা সমীচীন হবে না। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অফিশিয়াল বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময় তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সর্বশেষ তিনি বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।