০৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় অনৈতিক কাজে আটক ইমাম ও মাদ্রাসার চাকরিচ্যুতির দাবিতে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৫ Time View

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছায় পরস্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকা অবস্থায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মোস্তাকুল মোড়ল (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তকে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। ১৪ জুন রোববার দুপুরে উপজেলার শান্তা বাজারে শিবসা সামাজিক যুব উন্নয়ন সংগঠনের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, তাজমুল শেখ, শরিফুল শেখ, লোকমান গাজী, কলিম শেখ, সোহেল শেখ, লাভলু গাজী, পির আলী সরদার, আজিজুল সরকার, হাফিজুর শেখ ও তরিকুল গাজীসহ আরও অনেকে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জানান, অভিযুক্ত মাওলানা মোস্তাকুল মোড়ল আলমশাহী মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে কর্মরত। একই সাথে তিনি শান্তা আলহাজ্ব নুরুল হক দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। একজন হাফেজ ও মুফতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি শান্তা গ্রামের আনসার সদস্য বাপ্পী শেখের স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন চরিত্রহীন ব্যক্তিকে আমরা পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসায় দেখতে চাই না। তাকে অবিলম্বে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করতে হবে; অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে সমাজে এমন অপরাধ আরও বাড়বে এবং আমরা আমাদের সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠাতে নিরাপদ বোধ করছি না।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয়রা জানান, ১১ জুন বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পরকীয়ার সুত্র ধরে মাওলানা মোস্তাকুল বাপ্পী শেখের স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় আপত্তিকর অবস্থায় বাপ্পির মেঝ ভাই তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে উত্তেজিত জনতা দুজনকে আটক করে স্থানীয় ক্যাম্প পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তাক ও বাপ্পির স্ত্রী পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, বিগত ৪ বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা একে অপরকে বিয়ে করবেন। এই ঘটনার পর গত শুক্রবার সকালে পুলিশ তাদের শর্ত সাপেক্ষে ছেলের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করে। একই দিন সকালে বাপ্পির স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ফকিরাবাদ শান্তা আলহাজ্ব নুরুল হক দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত মোস্তাকুল মোড়লকে ইতিমধ্যে সাময়িক শোকজ করা হয়েছে এবং আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাকে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক পরবর্তী চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত মাওলানা মোস্তাকুল মোড়ল মুঠোফোনে জানান, তারা বর্তমানে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন। ১৩ জুন শনিবার নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তারা আইনগতভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে ইইউর সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণমন্ত্রী

পাইকগাছায় অনৈতিক কাজে আটক ইমাম ও মাদ্রাসার চাকরিচ্যুতির দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : ০১:০০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছায় পরস্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকা অবস্থায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মোস্তাকুল মোড়ল (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তকে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। ১৪ জুন রোববার দুপুরে উপজেলার শান্তা বাজারে শিবসা সামাজিক যুব উন্নয়ন সংগঠনের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, তাজমুল শেখ, শরিফুল শেখ, লোকমান গাজী, কলিম শেখ, সোহেল শেখ, লাভলু গাজী, পির আলী সরদার, আজিজুল সরকার, হাফিজুর শেখ ও তরিকুল গাজীসহ আরও অনেকে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জানান, অভিযুক্ত মাওলানা মোস্তাকুল মোড়ল আলমশাহী মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে কর্মরত। একই সাথে তিনি শান্তা আলহাজ্ব নুরুল হক দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। একজন হাফেজ ও মুফতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি শান্তা গ্রামের আনসার সদস্য বাপ্পী শেখের স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন চরিত্রহীন ব্যক্তিকে আমরা পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসায় দেখতে চাই না। তাকে অবিলম্বে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করতে হবে; অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে সমাজে এমন অপরাধ আরও বাড়বে এবং আমরা আমাদের সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠাতে নিরাপদ বোধ করছি না।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয়রা জানান, ১১ জুন বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পরকীয়ার সুত্র ধরে মাওলানা মোস্তাকুল বাপ্পী শেখের স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় আপত্তিকর অবস্থায় বাপ্পির মেঝ ভাই তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে উত্তেজিত জনতা দুজনকে আটক করে স্থানীয় ক্যাম্প পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তাক ও বাপ্পির স্ত্রী পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, বিগত ৪ বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা একে অপরকে বিয়ে করবেন। এই ঘটনার পর গত শুক্রবার সকালে পুলিশ তাদের শর্ত সাপেক্ষে ছেলের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করে। একই দিন সকালে বাপ্পির স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ফকিরাবাদ শান্তা আলহাজ্ব নুরুল হক দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত মোস্তাকুল মোড়লকে ইতিমধ্যে সাময়িক শোকজ করা হয়েছে এবং আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাকে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক পরবর্তী চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত মাওলানা মোস্তাকুল মোড়ল মুঠোফোনে জানান, তারা বর্তমানে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন। ১৩ জুন শনিবার নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তারা আইনগতভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।