১২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতি বছর বাজেটে আমরা স্বপ্ন দেখি, সারা বছর সেই স্বপ্নভঙ্গের ফল ভোগ করতে হয়: সংসদে রুমিন ফারহানা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ৫ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় সরকার নানা প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্ন দেখালেও বাস্তবে তার সুফল না পেয়ে জনগণকে উল্টো ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতা এবং অর্থনীতির বিদ্যমান সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থবিলের সংশোধনীর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, আর সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

রুমিন ফারহানা বলেন, শুধু ঘোষিত ঘাটতিই নয়, প্রতি বছর রাজস্ব আদায়ের যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, বাস্তবে তা অর্জিত হয় না। এতে প্রকৃত বাজেট ঘাটতি আরও বেড়ে যায় এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানতে চান, ওই সফরে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না। পেয়ে থাকলে তার পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না—সরকারের কাছে সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। বরং তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা কি শুধু ভিক্ষার ঝুলি হাতে চাইতে গেছি?’ তবে রুমিন ফারহানার মতে, এমন মন্তব্যের পাশাপাশি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের ঘোষিত বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতাসহ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেট ঘোষণার সময় জনগণের সামনে যে প্রত্যাশার চিত্র তুলে ধরা হয়, বছর শেষে তার সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের ব্যবধান দেখা যায়। সেই ব্যবধানের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের উদ্বেগ সত্ত্বেও তিস্তা প্রকল্পে ঢাকাকে সমর্থন চীনের

প্রতি বছর বাজেটে আমরা স্বপ্ন দেখি, সারা বছর সেই স্বপ্নভঙ্গের ফল ভোগ করতে হয়: সংসদে রুমিন ফারহানা

Update Time : ০৮:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় সরকার নানা প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্ন দেখালেও বাস্তবে তার সুফল না পেয়ে জনগণকে উল্টো ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতা এবং অর্থনীতির বিদ্যমান সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থবিলের সংশোধনীর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, আর সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

রুমিন ফারহানা বলেন, শুধু ঘোষিত ঘাটতিই নয়, প্রতি বছর রাজস্ব আদায়ের যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, বাস্তবে তা অর্জিত হয় না। এতে প্রকৃত বাজেট ঘাটতি আরও বেড়ে যায় এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানতে চান, ওই সফরে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না। পেয়ে থাকলে তার পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না—সরকারের কাছে সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। বরং তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা কি শুধু ভিক্ষার ঝুলি হাতে চাইতে গেছি?’ তবে রুমিন ফারহানার মতে, এমন মন্তব্যের পাশাপাশি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের ঘোষিত বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতাসহ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেট ঘোষণার সময় জনগণের সামনে যে প্রত্যাশার চিত্র তুলে ধরা হয়, বছর শেষে তার সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের ব্যবধান দেখা যায়। সেই ব্যবধানের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়।