১২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের উদ্বেগ সত্ত্বেও তিস্তা প্রকল্পে ঢাকাকে সমর্থন চীনের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ৭ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ভারতের তীব্র উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের প্রতি নিজেদের জোরালো সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে দেশটি স্পষ্ট করে বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা যেকোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা উচিত।

সোমবার (২৯ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিংয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ওই মন্তব্য করেছেন। মূলত তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের একেবারে কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ঢাকা-বেইজিং যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ রয়েছে।

ভারতের সেই উদ্বেগের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা উচিত।

চীন এই প্রকল্পটিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করেছে; যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিয়াকুন বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প; যার প্রতি বাংলাদেশ পক্ষ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। এই প্রকল্পে নিজের যথাসাধ্য সহযোগিতা করতে চীন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কৌশলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও বৃহত্তর সমন্বয় সাধনে চীন প্রস্তুত এবং বাণিজ্য, অর্থনীতি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়াতে ইচ্ছুক।

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্পের ওপর প্রথমবারের মতো একটি কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষই এই বিষয়ে একমত হয়েছে, যা গতবার এই পর্যায়ে ছিল না। চীন জানিয়েছে, সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনের যৌক্তিকতার ওপর ভিত্তি করে তারা এই প্রকল্পে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে।

মূলত তিস্তাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে তিস্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত যেকোনো ঘোষণার দিকে ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ারচায়না’ একটি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বৃদ্ধি করে চুক্তি স্বাক্ষর করে; যা তিস্তা প্রকল্পকে আরও এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের উদ্বেগ সত্ত্বেও তিস্তা প্রকল্পে ঢাকাকে সমর্থন চীনের

ভারতের উদ্বেগ সত্ত্বেও তিস্তা প্রকল্পে ঢাকাকে সমর্থন চীনের

Update Time : ০৯:২০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ভারতের তীব্র উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের প্রতি নিজেদের জোরালো সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে দেশটি স্পষ্ট করে বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা যেকোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা উচিত।

সোমবার (২৯ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিংয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ওই মন্তব্য করেছেন। মূলত তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের একেবারে কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ঢাকা-বেইজিং যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ রয়েছে।

ভারতের সেই উদ্বেগের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা উচিত।

চীন এই প্রকল্পটিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করেছে; যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিয়াকুন বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প; যার প্রতি বাংলাদেশ পক্ষ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। এই প্রকল্পে নিজের যথাসাধ্য সহযোগিতা করতে চীন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কৌশলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও বৃহত্তর সমন্বয় সাধনে চীন প্রস্তুত এবং বাণিজ্য, অর্থনীতি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়াতে ইচ্ছুক।

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্পের ওপর প্রথমবারের মতো একটি কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষই এই বিষয়ে একমত হয়েছে, যা গতবার এই পর্যায়ে ছিল না। চীন জানিয়েছে, সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনের যৌক্তিকতার ওপর ভিত্তি করে তারা এই প্রকল্পে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে।

মূলত তিস্তাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে তিস্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত যেকোনো ঘোষণার দিকে ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ারচায়না’ একটি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বৃদ্ধি করে চুক্তি স্বাক্ষর করে; যা তিস্তা প্রকল্পকে আরও এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।