১২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাসের বাক্সে তীব্র গরমে দম বন্ধ হয়ে অর্ধশতাধিক ছাগলের মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ১১০ Time View

সবুজদিন ডেস্ক

লালমনিরহাট থেকে যাত্রীবাহী বাসের বাক্সের ভেতরে আনা নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের দুই ব্যবসায়ীর ৫৫টি ছাগল দম বন্ধ হয়ে মারা গেছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তীব্র গরম ও পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে ছাগলগুলো দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।
এই ঘটনায় ছাগল মালিক ও বাসের সুপারভাইজারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এ তথ্য জানান।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, লালমনিরহাট জেলার সাপটানা এলাকার মৃত খায়ের উল্যার ছেলে মো. আবুল হাশেম ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের মো. খোকনের ছেলে মো. ফারুক। হাসেম বাসের সুপারভাইজার এবং ফারুক ছাগল ব্যবসায়ী।
ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, লালমনিরহাট থেকে শুক্রবার রাতে ‘অনিন্দ্য’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের বাক্সের ভেতর গাদাগাদি করে ফারুক ৪৭টি ছাগল লক্ষ্মীপুরে নিয়ে আসেন। একইসঙ্গে নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর আটটি ছাগলও আনা হয়। ৫৫টি ছাগল বাসের বাক্সে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তীব্র গরম ও পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে ছাগলগুলো দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় ফারুক বাস চালক ও সুপারভাইজারের ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে ফারুক বিষয়টি লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশকে জানান।

পরে পুলিশ দুই পক্ষকেই ইউএনওর কাছে পাঠান। ছাগলের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের দায়ে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে হাসেম ও ফারুককে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ছাগল ব্যবসায়ী মো. ফারুক বলেন, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থেকে আমার বাবা ছাগলগুলো কিনে বাসে করে লক্ষ্মীপুরে পাঠিয়েছেন। প্রায় দুই বছর ধরেই এভাবে বাসের বাক্সে করে আমরা ছাগল নিয়ে আসছি। প্রতি ছাগলের জন্য ৩০০ টাকা ভাড়া নেয় বাস কর্তৃপক্ষ। কখনো ছাগল মারা যায়নি। কিন্তু এবার বাস চালক ও সুপারভাইজারের অবহেলার কারণে ছাগলগুলো মারা গেছে। এতে আমাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
বাসের সুপারভাইজার আবুল হাসেম বলেন, ৫৫টি ছাগল লালমনিরহাট থেকে এনেছি। এর মধ্যে ফারুকের ৪৭টি এবং নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর আটটি ছাগল ছিল। পথে ছাগলগুলো ভালোই ছিল। কিন্তু নোয়াখালীর চৌরাস্তায় এসে আটটি ছাগল নামানোর সময় দেখি সবগুলো মরে পড়ে আছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন সোহেল রানা বলেন, পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে গরমে দমবন্ধ হয়ে সবগুলো ছাগল মারা গেছে। ছাগলগুলোর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। মৃত ছাগলগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মালদ্বীপ পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

বাসের বাক্সে তীব্র গরমে দম বন্ধ হয়ে অর্ধশতাধিক ছাগলের মৃত্যু

Update Time : ০৪:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

সবুজদিন ডেস্ক

লালমনিরহাট থেকে যাত্রীবাহী বাসের বাক্সের ভেতরে আনা নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের দুই ব্যবসায়ীর ৫৫টি ছাগল দম বন্ধ হয়ে মারা গেছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তীব্র গরম ও পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে ছাগলগুলো দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।
এই ঘটনায় ছাগল মালিক ও বাসের সুপারভাইজারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এ তথ্য জানান।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, লালমনিরহাট জেলার সাপটানা এলাকার মৃত খায়ের উল্যার ছেলে মো. আবুল হাশেম ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের মো. খোকনের ছেলে মো. ফারুক। হাসেম বাসের সুপারভাইজার এবং ফারুক ছাগল ব্যবসায়ী।
ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, লালমনিরহাট থেকে শুক্রবার রাতে ‘অনিন্দ্য’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের বাক্সের ভেতর গাদাগাদি করে ফারুক ৪৭টি ছাগল লক্ষ্মীপুরে নিয়ে আসেন। একইসঙ্গে নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর আটটি ছাগলও আনা হয়। ৫৫টি ছাগল বাসের বাক্সে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তীব্র গরম ও পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে ছাগলগুলো দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় ফারুক বাস চালক ও সুপারভাইজারের ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে ফারুক বিষয়টি লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশকে জানান।

পরে পুলিশ দুই পক্ষকেই ইউএনওর কাছে পাঠান। ছাগলের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের দায়ে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে হাসেম ও ফারুককে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ছাগল ব্যবসায়ী মো. ফারুক বলেন, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থেকে আমার বাবা ছাগলগুলো কিনে বাসে করে লক্ষ্মীপুরে পাঠিয়েছেন। প্রায় দুই বছর ধরেই এভাবে বাসের বাক্সে করে আমরা ছাগল নিয়ে আসছি। প্রতি ছাগলের জন্য ৩০০ টাকা ভাড়া নেয় বাস কর্তৃপক্ষ। কখনো ছাগল মারা যায়নি। কিন্তু এবার বাস চালক ও সুপারভাইজারের অবহেলার কারণে ছাগলগুলো মারা গেছে। এতে আমাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
বাসের সুপারভাইজার আবুল হাসেম বলেন, ৫৫টি ছাগল লালমনিরহাট থেকে এনেছি। এর মধ্যে ফারুকের ৪৭টি এবং নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর আটটি ছাগল ছিল। পথে ছাগলগুলো ভালোই ছিল। কিন্তু নোয়াখালীর চৌরাস্তায় এসে আটটি ছাগল নামানোর সময় দেখি সবগুলো মরে পড়ে আছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন সোহেল রানা বলেন, পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে গরমে দমবন্ধ হয়ে সবগুলো ছাগল মারা গেছে। ছাগলগুলোর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। মৃত ছাগলগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।