০৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টিতে ভেজায় আসতে পারে জ্বর সর্দি-কাশি, নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ২ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক

চলছে আষাঢ় মাস। চলছে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা— এই বৃষ্টি এই রোদ। এর মাঝেই বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দের শেষ নেই। অনেক গরমের পর বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেই আপনার যেন ভেজার আকুতি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমনটি দেখা যায়। আর এই শখ পূরণ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যান আপনি কিংবা আপনার শিশুসন্তান। জ্বর, সর্দি, কাশি লেগে যায়। আবার অনেকে প্রয়োজনের তাগিদে বের হয়ে ভিজে ফিরলেন এবং জ্বর এসে গেল।

যদিও বৃষ্টিতে ভিজলে সরাসরি জ্বর আসে না। মূলত বৃষ্টির ঠান্ডা আবহাওয়ায় আপনার শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়। ফলে বাতাসে ভেসে থাকা বা আশপাশে থাকা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই আপনার শরীরে আক্রমণ করতে পারে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় জ্বর বা সর্দি-কাশি দেখা দেয়।

বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসার অন্যতম কারণ হতে পারে— ভেজা কাপড় গায়ে শুকিয়ে যাওয়া। কারণ বৃষ্টির পানিতে প্রতিদিন ভেজা হয় না বলে শরীর অভ্যস্ত থাকে না। আর বৃষ্টির পানি কিছুটা ঠান্ডা হয়। প্রতিদিনের গোসলের পানির সঙ্গে এর ভিন্নতা রয়েছে। হঠাৎ করে গায়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পড়লে আপনার শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তন আসে, যেটা খুব কম সময়ের মধ্যে নার্ভাস সিস্টেমের কাছে একটি ইলেকট্রিক শকের মতো। ফলে উত্তেজনায় শরীরের ছোট ছোট শিরাগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং তাপমাত্রা কমানো বা বের করে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সে কারণে আপনার শরীরের ভেতর তাপমাত্রা আটকে যাওয়ায় তার বহির্প্রকাশ ঘটে জ্বরের মাধ্যমে। ফলে হঠাৎ ভিজলে জ্বর আসার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি।

আর বৃষ্টির কারণে অসুস্থ হওয়ার পেছনের মূল কারণ হচ্ছে— রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়ায় আপনার শরীর শুকিয়ে গেলে এবং ভেজা কাপড় গায়ে থাকলে তাপ দ্রুত শরীর থেকে বের হয়ে যায়, যা শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।

আর বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে পরিবেশে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ অন্যান্য অণুজীবের বংশ বৃদ্ধি ঘটে। দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে এ জীবাণুগুলো সহজেই শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। ভিজে যাওয়ার পর সুস্থ থাকতে যত দ্রুত সম্ভব গা মুছে শুকনো কাপড় পরে নেওয়া উচিত। এ ছাড়া সতর্কতা হিসেবে প্রচুর তরল, ডাবের পানি কিংবা ভিটামিন ‘সি’যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।

অন্যদিকে কেউ যদি প্রতিদিন বাসায় গোসল করেন এবং হঠাৎ একদিন পুকুরের পানিতে গোসল করেন, তারও এ সমস্যা হতে পারে। সে কারণে বৃষ্টির পানিতে মাথার চুল ভিজে যাওয়ার পরপর তা দ্রুত পানি মুছে না ফেললে ঠান্ডা লেগে জ্বর আসতে পারে। সাধারণত বৃষ্টিতে ভেজার সঙ্গে সঙ্গে কাপড় পাল্টে ফেললে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা কম থাকে।

তবে জ্বর এসে গেলেও ভয়ের কোনো কারণ নেই। এ জ্বর তেমন মারাত্মক নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এই ঠান্ডা-জ্বর সেরে যায় অনায়াসেই। এ ক্ষেত্রে প্রচুর পানি ও স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কারিকুলামসহ শিক্ষার ৪ স্তম্ভে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

বৃষ্টিতে ভেজায় আসতে পারে জ্বর সর্দি-কাশি, নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

Update Time : ১২:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক

চলছে আষাঢ় মাস। চলছে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা— এই বৃষ্টি এই রোদ। এর মাঝেই বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দের শেষ নেই। অনেক গরমের পর বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেই আপনার যেন ভেজার আকুতি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমনটি দেখা যায়। আর এই শখ পূরণ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যান আপনি কিংবা আপনার শিশুসন্তান। জ্বর, সর্দি, কাশি লেগে যায়। আবার অনেকে প্রয়োজনের তাগিদে বের হয়ে ভিজে ফিরলেন এবং জ্বর এসে গেল।

যদিও বৃষ্টিতে ভিজলে সরাসরি জ্বর আসে না। মূলত বৃষ্টির ঠান্ডা আবহাওয়ায় আপনার শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়। ফলে বাতাসে ভেসে থাকা বা আশপাশে থাকা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই আপনার শরীরে আক্রমণ করতে পারে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় জ্বর বা সর্দি-কাশি দেখা দেয়।

বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসার অন্যতম কারণ হতে পারে— ভেজা কাপড় গায়ে শুকিয়ে যাওয়া। কারণ বৃষ্টির পানিতে প্রতিদিন ভেজা হয় না বলে শরীর অভ্যস্ত থাকে না। আর বৃষ্টির পানি কিছুটা ঠান্ডা হয়। প্রতিদিনের গোসলের পানির সঙ্গে এর ভিন্নতা রয়েছে। হঠাৎ করে গায়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পড়লে আপনার শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তন আসে, যেটা খুব কম সময়ের মধ্যে নার্ভাস সিস্টেমের কাছে একটি ইলেকট্রিক শকের মতো। ফলে উত্তেজনায় শরীরের ছোট ছোট শিরাগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং তাপমাত্রা কমানো বা বের করে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সে কারণে আপনার শরীরের ভেতর তাপমাত্রা আটকে যাওয়ায় তার বহির্প্রকাশ ঘটে জ্বরের মাধ্যমে। ফলে হঠাৎ ভিজলে জ্বর আসার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি।

আর বৃষ্টির কারণে অসুস্থ হওয়ার পেছনের মূল কারণ হচ্ছে— রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়ায় আপনার শরীর শুকিয়ে গেলে এবং ভেজা কাপড় গায়ে থাকলে তাপ দ্রুত শরীর থেকে বের হয়ে যায়, যা শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।

আর বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে পরিবেশে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ অন্যান্য অণুজীবের বংশ বৃদ্ধি ঘটে। দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে এ জীবাণুগুলো সহজেই শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। ভিজে যাওয়ার পর সুস্থ থাকতে যত দ্রুত সম্ভব গা মুছে শুকনো কাপড় পরে নেওয়া উচিত। এ ছাড়া সতর্কতা হিসেবে প্রচুর তরল, ডাবের পানি কিংবা ভিটামিন ‘সি’যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।

অন্যদিকে কেউ যদি প্রতিদিন বাসায় গোসল করেন এবং হঠাৎ একদিন পুকুরের পানিতে গোসল করেন, তারও এ সমস্যা হতে পারে। সে কারণে বৃষ্টির পানিতে মাথার চুল ভিজে যাওয়ার পরপর তা দ্রুত পানি মুছে না ফেললে ঠান্ডা লেগে জ্বর আসতে পারে। সাধারণত বৃষ্টিতে ভেজার সঙ্গে সঙ্গে কাপড় পাল্টে ফেললে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা কম থাকে।

তবে জ্বর এসে গেলেও ভয়ের কোনো কারণ নেই। এ জ্বর তেমন মারাত্মক নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এই ঠান্ডা-জ্বর সেরে যায় অনায়াসেই। এ ক্ষেত্রে প্রচুর পানি ও স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে।