০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে দুজনকে বিশ্বকাপ উৎসর্গ করলেন গম্ভীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ১১৭ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনেকটাই গৌতম গম্ভীরের জন্য স্বীকৃতির মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এর আগে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হারার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই ক্রিকেটার। তবে রোববারের পর সেই সমালোচকদের অনেকেই হয়তো পিছিয়ে যাবেন।
নিজস্ব সোজাসাপ্টা ভঙ্গিতে গম্ভীর জানিয়েছেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানুষের কাছে নয়, ড্রেসিংরুমে থাকা খেলোয়াড়দের কাছেই জবাবদিহি করেন।
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে ভারত ইতিহাস গড়েছে। এর মাধ্যমে তারা তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে (২০০৭, ২০২৪ ও ২০২৬)। পাশাপাশি প্রথম দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখা এবং নিজেদের মাটিতে এই সাফল্য অর্জনের কৃতিত্বও পেয়েছে ভারত।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানুষের কাছে আমার জবাবদিহি নেই। ড্রেসিংরুমে থাকা ওই ৩০ জন মানুষের কাছেই আমি দায়বদ্ধ। একজন কোচ তার দলের মতোই ভালো। খেলোয়াড়রাই আমাকে আজকের কোচ বানিয়েছে।’
গৌরবের মুহূর্তেও তিনি ভুলে যাননি রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণকে। গম্ভীর বলেন, ‘এই ট্রফি আমি উৎসর্গ করতে চাই রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণকে। রাহুল ভাই ভারতীয় দলকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন, আর লক্ষ্মণ সেন্টার অব এক্সেলেন্সে ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার তৈরির পথ তৈরি করেছেন।’
তিনি প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সাবেক বোর্ড সচিব জয় শাহকেও ধন্যবাদ জানান।
গম্ভীর বলেন, ‘অজিত আগারকার অনেক সমালোচনা সহ্য করেছেন, কিন্তু সততার সঙ্গে কাজ করেছেন। আর জয় ভাই—নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হারার পর আমার সময়টা খুব খারাপ ছিল, তখন তিনিই আমাকে ফোন করেছিলেন।’
ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ভারত পাঁচ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে নিউজিল্যান্ডকে ১৫৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে সহজ জয় পায় তারা।
দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতার কথাও তুলে ধরেন গম্ভীর। তিনি বলেন, ‘হারার ভয় কাটিয়ে উঠতে হবে। রক্ষণাত্মক ক্রিকেট খেলার চেয়ে ১২০ রানে আউট হয়ে যাওয়াও মেনে নেওয়া যায়। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ২৫০ রান করার সাহসটাই আমাদের শক্তি।’
অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের প্রশংসা করতেও ভোলেননি প্রধান কোচ।
তিনি বলেন, ‘সূর্য আমার কাজ সহজ করে দিয়েছে। সে এমন এক নেতা, যাকে দলের সবাই অভিভাবকের মতো দেখে। আমাদের বড় লক্ষ্য ট্রফি জেতা, ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়। অনেক বছর আমরা ব্যক্তিগত রেকর্ড উদযাপন করেছি, এখন সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
সূর্যকুমারও গম্ভীরের কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘কলকাতা নাইট রাইডার্সে চার বছর গম্ভীরের অধিনায়কত্বে খেলেছি। আমাদের মধ্যে কখনও তর্ক হয়নি, কারণ লক্ষ্য ছিল একটাই—দলকে জেতানো। আমাদের বোঝাপড়া দারুণ।’
তিনি আরও জানান, দলের পরবর্তী লক্ষ্য ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতা।
ব্যাটিংয়ে ভারতের হয়ে সঞ্জু স্যামসন ৮৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এছাড়া অভিষেক শর্মা ৫২ এবং ইশান কিশান ৫৪ রান করে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন।
বল হাতে জসপ্রিত বুমরাহ চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। অক্ষর প্যাটেলও তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মালদ্বীপ পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

যে দুজনকে বিশ্বকাপ উৎসর্গ করলেন গম্ভীর

Update Time : ০২:০১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনেকটাই গৌতম গম্ভীরের জন্য স্বীকৃতির মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এর আগে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হারার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই ক্রিকেটার। তবে রোববারের পর সেই সমালোচকদের অনেকেই হয়তো পিছিয়ে যাবেন।
নিজস্ব সোজাসাপ্টা ভঙ্গিতে গম্ভীর জানিয়েছেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানুষের কাছে নয়, ড্রেসিংরুমে থাকা খেলোয়াড়দের কাছেই জবাবদিহি করেন।
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে ভারত ইতিহাস গড়েছে। এর মাধ্যমে তারা তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে (২০০৭, ২০২৪ ও ২০২৬)। পাশাপাশি প্রথম দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখা এবং নিজেদের মাটিতে এই সাফল্য অর্জনের কৃতিত্বও পেয়েছে ভারত।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানুষের কাছে আমার জবাবদিহি নেই। ড্রেসিংরুমে থাকা ওই ৩০ জন মানুষের কাছেই আমি দায়বদ্ধ। একজন কোচ তার দলের মতোই ভালো। খেলোয়াড়রাই আমাকে আজকের কোচ বানিয়েছে।’
গৌরবের মুহূর্তেও তিনি ভুলে যাননি রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণকে। গম্ভীর বলেন, ‘এই ট্রফি আমি উৎসর্গ করতে চাই রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণকে। রাহুল ভাই ভারতীয় দলকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন, আর লক্ষ্মণ সেন্টার অব এক্সেলেন্সে ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার তৈরির পথ তৈরি করেছেন।’
তিনি প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সাবেক বোর্ড সচিব জয় শাহকেও ধন্যবাদ জানান।
গম্ভীর বলেন, ‘অজিত আগারকার অনেক সমালোচনা সহ্য করেছেন, কিন্তু সততার সঙ্গে কাজ করেছেন। আর জয় ভাই—নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হারার পর আমার সময়টা খুব খারাপ ছিল, তখন তিনিই আমাকে ফোন করেছিলেন।’
ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ভারত পাঁচ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে নিউজিল্যান্ডকে ১৫৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে সহজ জয় পায় তারা।
দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতার কথাও তুলে ধরেন গম্ভীর। তিনি বলেন, ‘হারার ভয় কাটিয়ে উঠতে হবে। রক্ষণাত্মক ক্রিকেট খেলার চেয়ে ১২০ রানে আউট হয়ে যাওয়াও মেনে নেওয়া যায়। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ২৫০ রান করার সাহসটাই আমাদের শক্তি।’
অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের প্রশংসা করতেও ভোলেননি প্রধান কোচ।
তিনি বলেন, ‘সূর্য আমার কাজ সহজ করে দিয়েছে। সে এমন এক নেতা, যাকে দলের সবাই অভিভাবকের মতো দেখে। আমাদের বড় লক্ষ্য ট্রফি জেতা, ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়। অনেক বছর আমরা ব্যক্তিগত রেকর্ড উদযাপন করেছি, এখন সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
সূর্যকুমারও গম্ভীরের কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘কলকাতা নাইট রাইডার্সে চার বছর গম্ভীরের অধিনায়কত্বে খেলেছি। আমাদের মধ্যে কখনও তর্ক হয়নি, কারণ লক্ষ্য ছিল একটাই—দলকে জেতানো। আমাদের বোঝাপড়া দারুণ।’
তিনি আরও জানান, দলের পরবর্তী লক্ষ্য ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতা।
ব্যাটিংয়ে ভারতের হয়ে সঞ্জু স্যামসন ৮৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এছাড়া অভিষেক শর্মা ৫২ এবং ইশান কিশান ৫৪ রান করে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন।
বল হাতে জসপ্রিত বুমরাহ চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। অক্ষর প্যাটেলও তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।