১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিগগিরই হরমুজ প্রণালির টোল ব্যবস্থা উন্মোচন করা হবে : ইরান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালির যান চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছে ইরান, যার মাধ্যমে সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে মাশুল বা টোল আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইরানি রাজনীতিবিদ ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনাটি শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

আন্তর্জাতিক এই জলপথ থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি যেন ‘জাহাজের জন্য একটি পার্কিং লটে’ পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রণালিটিতে এখন উত্তেজনা ও ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি নাকি জবরদস্তির পথ বেছে নেবে, ইরান এখন সেটাই দেখতে চাইছে। অস্ট্রেলিয়ান ইউনিভার্সিটির ইরানি অধ্যয়ন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার আলম সালেহ এই বিষয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। যুক্তরাজ্যের লিডস থেকে তিনি জানান, ট্রাম্প শিবিরের চরমপন্থি দাবির কারণেই মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই অচলাবস্থা বিরাজ করছে। সালেহ ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরানকে যদি তাদের সম্পূর্ণ পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে বলা হয়, তবে তা ভবিষ্যতে ইরানকে একটি অত্যন্ত ‘দুর্বল অবস্থানে’ ফেলে দেবে।

সালেহ বলেন, ‘ইরান এখন এটা বোঝার চেষ্টা করছে যে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই বিষয়টি একটি কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, নাকি জবরদস্তিমূলক উপায়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূর্বে পারমাণবিক পরিকল্পনা ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) থেকে ট্রাম্পের সরে আসা ও আলোচনা চলাকালীন ইরানের ওপর বোমা হামলার মতো ঘটনাগুলো ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের যেকোনো বিশ্বাসকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

বিশ্লেষক আলম সালেহ মনে করেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের হাতে থাকা সব তাস ব্যবহার করা ছাড়া ইরানের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালিকে শুধু একটি ‘ভৌগোলিক সত্তা’ হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে একটি রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক তাস হিসেবে বিবেচনা করে, যা তারা নিজেদের ইচ্ছামতো খেলতে পারে। তারা এখন বেছে নিতে পারে কে এই প্রণালি দিয়ে যেতে পারবে আর কে পারবে না; কিংবা এর জন্য কে অর্থ দেবে আর কে দেবে না।’

আলম সালেহ আরও বলেন, ‘নিরাপত্তার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানো থেকে বিরত রাখার জন্য এটিকে একটি প্রতিরোধক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ সালেহ উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষের অবরোধের কারণে এখন উভয়েরই ‘পারস্পরিক ক্ষতি’ হচ্ছে। এমনকি ইরান যদি এই মুহূর্তে প্রণালিটি পুরোপুরি খুলেও দেয়, তাহলেও এই নিশ্চয়তা নেই যে যুক্তরাষ্ট্র আবার তাদের ওপর হামলা চালাবে না।

ফলে তেলের দাম, গ্যাসের দাম ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি সচল রেখে বিশ্ববাজার তথা যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং এই মুহূর্তে হাতে থাকা সব তাস ব্যবহার করা ছাড়া ইরানের আর কোনো উপায় নেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শিগগিরই হরমুজ প্রণালির টোল ব্যবস্থা উন্মোচন করা হবে : ইরান

Update Time : ০১:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালির যান চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছে ইরান, যার মাধ্যমে সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে মাশুল বা টোল আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইরানি রাজনীতিবিদ ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনাটি শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

আন্তর্জাতিক এই জলপথ থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি যেন ‘জাহাজের জন্য একটি পার্কিং লটে’ পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রণালিটিতে এখন উত্তেজনা ও ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি নাকি জবরদস্তির পথ বেছে নেবে, ইরান এখন সেটাই দেখতে চাইছে। অস্ট্রেলিয়ান ইউনিভার্সিটির ইরানি অধ্যয়ন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার আলম সালেহ এই বিষয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। যুক্তরাজ্যের লিডস থেকে তিনি জানান, ট্রাম্প শিবিরের চরমপন্থি দাবির কারণেই মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই অচলাবস্থা বিরাজ করছে। সালেহ ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরানকে যদি তাদের সম্পূর্ণ পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে বলা হয়, তবে তা ভবিষ্যতে ইরানকে একটি অত্যন্ত ‘দুর্বল অবস্থানে’ ফেলে দেবে।

সালেহ বলেন, ‘ইরান এখন এটা বোঝার চেষ্টা করছে যে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই বিষয়টি একটি কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, নাকি জবরদস্তিমূলক উপায়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূর্বে পারমাণবিক পরিকল্পনা ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) থেকে ট্রাম্পের সরে আসা ও আলোচনা চলাকালীন ইরানের ওপর বোমা হামলার মতো ঘটনাগুলো ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের যেকোনো বিশ্বাসকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

বিশ্লেষক আলম সালেহ মনে করেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের হাতে থাকা সব তাস ব্যবহার করা ছাড়া ইরানের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালিকে শুধু একটি ‘ভৌগোলিক সত্তা’ হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে একটি রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক তাস হিসেবে বিবেচনা করে, যা তারা নিজেদের ইচ্ছামতো খেলতে পারে। তারা এখন বেছে নিতে পারে কে এই প্রণালি দিয়ে যেতে পারবে আর কে পারবে না; কিংবা এর জন্য কে অর্থ দেবে আর কে দেবে না।’

আলম সালেহ আরও বলেন, ‘নিরাপত্তার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানো থেকে বিরত রাখার জন্য এটিকে একটি প্রতিরোধক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ সালেহ উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষের অবরোধের কারণে এখন উভয়েরই ‘পারস্পরিক ক্ষতি’ হচ্ছে। এমনকি ইরান যদি এই মুহূর্তে প্রণালিটি পুরোপুরি খুলেও দেয়, তাহলেও এই নিশ্চয়তা নেই যে যুক্তরাষ্ট্র আবার তাদের ওপর হামলা চালাবে না।

ফলে তেলের দাম, গ্যাসের দাম ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি সচল রেখে বিশ্ববাজার তথা যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং এই মুহূর্তে হাতে থাকা সব তাস ব্যবহার করা ছাড়া ইরানের আর কোনো উপায় নেই।