১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ক্রিকেটার নাঈম হাসান

সাধারণ মানুষ পাশে না থাকলে ঘটনা অন্য রকম হতে পারত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৩ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক

চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসান বলেছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ তার পাশে না দাঁড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।

শনিবার (১৩ জুন) বিকাল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর চাঁদগাঁও বহদ্দারহাট এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাঈম বলেন, আমি এখানে এসেছি মূলত ওই ভাইদের ধন্যবাদ জানানোর জন্য। প্রায় ১০০-১২০ জন মানুষ সেখানে ছিল। তারা আমার সঙ্গে থানায় গেছে। তারা না থাকলে ঘটনাটা অন্যরকম হতে পারত।

নাঈমের দাবি, কোনো ধরনের তল্লাশি ছাড়াই তাকে একটি সিএনজিতে তোলার চেষ্টা করা হয়, যা তাকে আতঙ্কিত করে তোলে। তিনি বলেন, আমি সিএনজি থেকে নামছিলাম। তখন আমাকে বলা হলো সিএনজিতে উঠতে। আমি ভেবেছিলাম চলে যাওয়ার জন্য উঠতে বলছে। কিন্তু আমি উঠার সঙ্গে সঙ্গে একজন এসে আমার গলা চেপে ধরে। তখন আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে তার ব্যাগ বা অন্যান্য মালামাল পরীক্ষা করা হয়নি। পরে সেগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তার ভাষ্য মতে, তারা আমার ব্যাগ চেকই করেনি। ব্যাগগুলো সারারাত থানায় ছিল। পরে ডিসি স্যারের সামনেই আমি একে একে সব জিনিস বের করে দেখিয়েছি। গ্লাভস, ব্যাট, হেলমেট, কাপড়—সব। সিএনজিও চেক করা হয়েছে। কিছুই পাওয়া যায়নি।

থানায় নেওয়ার পর নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাঈম। তার ভাষায়, আমি পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আমাকে বলছিলেন, ‘চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল’। পরে তার মোবাইলে একটা ফোন আসে। এরপর আচরণ বদলে যায়। প্রথমে একরকম ছিল, পরে অন্যরকম।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযানে অংশ নেওয়া এক এসআই তার সঙ্গে শারীরিক দুর্ব্যবহার করেছেন।

ঘটনার মানসিক প্রভাবের কথা তুলে ধরে নাঈম বলেন, আমি এখন একটু একা থাকতে চাই। কাল রাত থেকে ঘুমাইনি। বিষয়টা মানসিকভাবে আমাকে অনেক প্রভাবিত করেছে।

এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান জাতীয় দলের এ ক্রিকেটার।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মানুষের সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে। আমি যদি আজকে এটার বিরুদ্ধে না দাঁড়াই, তাহলে কালকে কোনো সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলেও হয়তো কেউ জানবে না।

নাঈম জানান, মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়ার পর তিনি প্রথমেই জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করেন।

নাঈম বলেন, তামিম ভাইকে ফোন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রিসিভ করেন। তিনি ওসির সঙ্গে কথা বলেন। পরে যখন আমার পরিচিতজনরা থানায় আসে, তখন সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার বর্ণনার মিল নেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জেতায় ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা

ক্রিকেটার নাঈম হাসান

সাধারণ মানুষ পাশে না থাকলে ঘটনা অন্য রকম হতে পারত

Update Time : ০৮:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসান বলেছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ তার পাশে না দাঁড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।

শনিবার (১৩ জুন) বিকাল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর চাঁদগাঁও বহদ্দারহাট এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাঈম বলেন, আমি এখানে এসেছি মূলত ওই ভাইদের ধন্যবাদ জানানোর জন্য। প্রায় ১০০-১২০ জন মানুষ সেখানে ছিল। তারা আমার সঙ্গে থানায় গেছে। তারা না থাকলে ঘটনাটা অন্যরকম হতে পারত।

নাঈমের দাবি, কোনো ধরনের তল্লাশি ছাড়াই তাকে একটি সিএনজিতে তোলার চেষ্টা করা হয়, যা তাকে আতঙ্কিত করে তোলে। তিনি বলেন, আমি সিএনজি থেকে নামছিলাম। তখন আমাকে বলা হলো সিএনজিতে উঠতে। আমি ভেবেছিলাম চলে যাওয়ার জন্য উঠতে বলছে। কিন্তু আমি উঠার সঙ্গে সঙ্গে একজন এসে আমার গলা চেপে ধরে। তখন আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে তার ব্যাগ বা অন্যান্য মালামাল পরীক্ষা করা হয়নি। পরে সেগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তার ভাষ্য মতে, তারা আমার ব্যাগ চেকই করেনি। ব্যাগগুলো সারারাত থানায় ছিল। পরে ডিসি স্যারের সামনেই আমি একে একে সব জিনিস বের করে দেখিয়েছি। গ্লাভস, ব্যাট, হেলমেট, কাপড়—সব। সিএনজিও চেক করা হয়েছে। কিছুই পাওয়া যায়নি।

থানায় নেওয়ার পর নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাঈম। তার ভাষায়, আমি পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আমাকে বলছিলেন, ‘চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল’। পরে তার মোবাইলে একটা ফোন আসে। এরপর আচরণ বদলে যায়। প্রথমে একরকম ছিল, পরে অন্যরকম।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযানে অংশ নেওয়া এক এসআই তার সঙ্গে শারীরিক দুর্ব্যবহার করেছেন।

ঘটনার মানসিক প্রভাবের কথা তুলে ধরে নাঈম বলেন, আমি এখন একটু একা থাকতে চাই। কাল রাত থেকে ঘুমাইনি। বিষয়টা মানসিকভাবে আমাকে অনেক প্রভাবিত করেছে।

এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান জাতীয় দলের এ ক্রিকেটার।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মানুষের সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে। আমি যদি আজকে এটার বিরুদ্ধে না দাঁড়াই, তাহলে কালকে কোনো সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলেও হয়তো কেউ জানবে না।

নাঈম জানান, মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়ার পর তিনি প্রথমেই জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করেন।

নাঈম বলেন, তামিম ভাইকে ফোন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রিসিভ করেন। তিনি ওসির সঙ্গে কথা বলেন। পরে যখন আমার পরিচিতজনরা থানায় আসে, তখন সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার বর্ণনার মিল নেই।