০২:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বনদস্যু ‘দুলাভাই’ বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ১

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ২২ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘দুলাভাই’ বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধে এক দস্যু নিহত হয়েছেন। এ সময় বাহিনীর প্রধানসহ দুই দস্যুকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম।

শনিবার বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ‘দুলাভাই’ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের গহীন এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে টানা দুই দিন সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের একাধিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে দস্যুদের ব্যবহৃত দুটি ট্রলারকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে তারা তা অমান্য করে কোস্ট গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে দস্যুদের একটি ট্রলারে আগুন ধরে যায় এবং অপরটি ডুবে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই’ বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ও তার সহযোগী শওকত সরদারকে উদ্ধার করে আটক করা হয়। তাদেরকে দ্রুত খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে অভিযান চলাকালে পালিয়ে যাওয়া দস্যুদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে ইসরাফিল হাওলাদার নামে আরও এক দস্যুকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অভিযানে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ৬টি একনালা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত শওকত সরদার (৫৫) খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া আটক ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত শওকত সরদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সহায়তায় চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন: পানিসম্পদমন্ত্রী

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বনদস্যু ‘দুলাভাই’ বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ১

Update Time : ০৭:২২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘দুলাভাই’ বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধে এক দস্যু নিহত হয়েছেন। এ সময় বাহিনীর প্রধানসহ দুই দস্যুকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম।

শনিবার বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ‘দুলাভাই’ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের গহীন এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে টানা দুই দিন সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের একাধিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে দস্যুদের ব্যবহৃত দুটি ট্রলারকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে তারা তা অমান্য করে কোস্ট গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে দস্যুদের একটি ট্রলারে আগুন ধরে যায় এবং অপরটি ডুবে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই’ বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ও তার সহযোগী শওকত সরদারকে উদ্ধার করে আটক করা হয়। তাদেরকে দ্রুত খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে অভিযান চলাকালে পালিয়ে যাওয়া দস্যুদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে ইসরাফিল হাওলাদার নামে আরও এক দস্যুকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অভিযানে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ৬টি একনালা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত শওকত সরদার (৫৫) খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া আটক ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত শওকত সরদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।