০২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
থামছে না স্ত্রী-সন্তানদের আহাজারি

সৌদি আরবে বজ্রপাতে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ১১৪ Time View

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

‎সৌদি আরবে বজ্রপাতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের মো. রাসেল মিয়া (৪১) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত মো. রাসেল মিয়া হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মাটিকাটা শ্রমিক লিয়াকত আলীর ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে তার স্ত্রী ও চার সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে সৌদি আরবে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই রাসেল মিয়ার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছাতেই তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া।
‎জানা গেছে, দারিদ্র্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন রাসেল মিয়া। নিজ এলাকায় মাটিকাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। স্ত্রী-সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় ধার-দেনা করে গত বছরের নভেম্বর মাসে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে মাজা আল আরাবিয়া কোম্পানির অধীনে কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই বজ্রপাত কেড়ে নিল তার জীবন।
‎মঙ্গলবার দুপুরে মোবাইল ফোনে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই রাসেল মিয়ার বাড়িতে শুরু হয় আহাজারি। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। খবর পেয়ে শত শত মানুষ ছুটে আসেন তার বাড়িতে। এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয় সেখানে।
‎নিহত রাসেল মিয়ার নিজস্ব কোনো জমি-জমা নেই। মাত্র তিন শতক জায়গায় ছোট্ট একটি বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। সংসারে রয়েছে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে নির্বাক হয়ে পড়েছেন স্ত্রী। বারবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলছিলেন, ‘এখন আমি কি করে চারটা বাচ্চা নিয়ে বাঁচব? কীভাবে সংসার চালাব? ধার-দেনার টাকা কিভাবে শোধ করব?’
রাসেলের বৃদ্ধ বাবা লিয়াকত আলী ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। স্বজনরা তাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
‎নিহতের বড় মেয়ে, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান সাথী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমাদের ঈদের জামা-কাপড় কে কিনে দেবে? আমরা এখন কীভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যাব?’
‎প্রতিবেশী মো. মতি মিয়া বলেন, ‘রাসেল খুবই পরিশ্রমী মানুষ ছিল। পরিবারের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত।’
‎হোসেনপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মিছবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, ‘রাসেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এবং তার অসহায় পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মালদ্বীপ পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

থামছে না স্ত্রী-সন্তানদের আহাজারি

সৌদি আরবে বজ্রপাতে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

Update Time : ০৫:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

‎সৌদি আরবে বজ্রপাতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের মো. রাসেল মিয়া (৪১) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত মো. রাসেল মিয়া হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মাটিকাটা শ্রমিক লিয়াকত আলীর ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে তার স্ত্রী ও চার সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে সৌদি আরবে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই রাসেল মিয়ার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছাতেই তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া।
‎জানা গেছে, দারিদ্র্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন রাসেল মিয়া। নিজ এলাকায় মাটিকাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। স্ত্রী-সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় ধার-দেনা করে গত বছরের নভেম্বর মাসে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে মাজা আল আরাবিয়া কোম্পানির অধীনে কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই বজ্রপাত কেড়ে নিল তার জীবন।
‎মঙ্গলবার দুপুরে মোবাইল ফোনে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই রাসেল মিয়ার বাড়িতে শুরু হয় আহাজারি। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। খবর পেয়ে শত শত মানুষ ছুটে আসেন তার বাড়িতে। এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয় সেখানে।
‎নিহত রাসেল মিয়ার নিজস্ব কোনো জমি-জমা নেই। মাত্র তিন শতক জায়গায় ছোট্ট একটি বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। সংসারে রয়েছে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে নির্বাক হয়ে পড়েছেন স্ত্রী। বারবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলছিলেন, ‘এখন আমি কি করে চারটা বাচ্চা নিয়ে বাঁচব? কীভাবে সংসার চালাব? ধার-দেনার টাকা কিভাবে শোধ করব?’
রাসেলের বৃদ্ধ বাবা লিয়াকত আলী ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। স্বজনরা তাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
‎নিহতের বড় মেয়ে, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান সাথী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমাদের ঈদের জামা-কাপড় কে কিনে দেবে? আমরা এখন কীভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যাব?’
‎প্রতিবেশী মো. মতি মিয়া বলেন, ‘রাসেল খুবই পরিশ্রমী মানুষ ছিল। পরিবারের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত।’
‎হোসেনপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মিছবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, ‘রাসেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এবং তার অসহায় পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’