০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সুপার এইট

স্যামসনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেমিফাইনালে ভারত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • ৩০৮ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাঞ্জু স্যামসনের পথচলা কখনোই সরলরৈখিক ছিল না। কখনও ওপেনিং জুটির বিস্ফোরক অংশ, কখনও শুভমান গিলের প্রত্যাবর্তনে একাদশের বাইরে, আবার কখনও ইশান কিষানের কারণে জায়গা হারানো—দলে থাকলেও অবস্থান ছিল অনিশ্চিত।
কিন্তু যখন টুর্নামেন্টে ভারতের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত এলো—ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কার্যত কোয়ার্টারফাইনাল, ভেন্যু ইডেন গার্ডেন্স—তখন স্যামসন ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন অটল হয়ে।
৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস শুধু টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রানতাড়ায় কোনো ভারতীয়ের সর্বোচ্চ স্কোরই নয়, এটি এনে দেয় ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সফল রানতাড়া। এর ফলে সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
১৯৫ রানের লক্ষ্য তাত্ত্বিকভাবে বাস্তব মনে হলেও চাপ ছিল তীব্র। টুর্নামেন্টজুড়ে ভারত প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। হার মানেই বিদায়—এই বাস্তবতা নিয়ে শুরুটা ছিল ধীরগতির।
পাওয়ারপ্লেতে বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনের বিপক্ষে তুলনামূলক দুর্বল ম্যাচআপ থাকা সত্ত্বেও স্যামসন পাল্টে দেন চিত্রনাট্য—একটি কাটে চার, ফুল লেংথ বল সীমানার বাইরে ছক্কা, এরপর ব্যাকফুট পুল। যদিও হোসেন ফেরান অভিষেক শর্মাকে
জেসন হোল্ডারের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে শিমরন হেটমায়ারের হাতে ধরা পড়েন ইশান কিশান। তবু স্যামসনের ১৩ বলে ২৪ রানে পাওয়ারপ্লে শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৫৩/২।
পাওয়ারপ্লের পর চার ওভারে ভারত তোলে ৪৫ রান। হোল্ডারকে মিড-অফ দিয়ে পাঞ্চ, গুদাকেশ মোতিকে ফ্ল্যাট ব্যাটে ছক্কা, রোমারিও শেফার্ডের ওভারে চার-ছক্কা—২৬ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন স্যামসন।
অন্য প্রান্তে সূয কুমার যাদব স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। শামার জোসেফের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। কিছুটা চাপে পড়লেও তিলক বর্মা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের সমীকরণ নামিয়ে আনেন সহজ লক্ষ্যে।
শেষদিকে তিলক ও হার্দিক পান্ডিয়া আউট হলেও স্যামসন অবিচল থেকে চার বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করেন। এরপর হাঁটু গেড়ে নীরব উদযাপন—একটি দীর্ঘ অপেক্ষার প্রতীক।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ধীর। অধিনায়ক শাই হোপ ২৫ বলে ২৫ রান করেন। রোস্টন চেজ কিছুটা আক্রমণাত্মক ছিলেন, তবে পাওয়ারপ্লেতে আসে মাত্র ৪৫ রান।

ফিল্ডিং নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর বরুণ চক্রবর্তী বোলিংয়ে এসে হোপকে বোল্ড করেন। এরপর হেটমায়ার ঝড় তোলেন—এক ওভারে দুটি ছক্কা, টুর্নামেন্টে এক আসরে সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড (১৯) পুনরুদ্ধার করেন।
তবে জসপ্রিত বুমরাহর ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাচের মোড় ঘোরান। হেটমায়ারকে আউট করার পর একই ওভারে চেজকেও ফেরান। শেষ পাঁচ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে ৭০ রান—রোভম্যান পাওয়েল ও হোল্ডারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্কোর পৌঁছে ১৯৫/৪।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯৫/৪ (২০ ওভার)
রোস্টন চেজ ৪০, জেসন হোল্ডার ৩৭*
জসপ্রিত বুমরাহ ২/৩৬
ভারত: ১৯৯/৫ (১৯.২ ওভার)
সঞ্জু স্যামসন ৯৭*, তিলক ভার্মা ২৭
জেসন হোল্ডার ২/৩৮
ভারত জিতেছে ৫ উইকেটে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মালদ্বীপ পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সুপার এইট

স্যামসনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেমিফাইনালে ভারত

Update Time : ০৩:২৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাঞ্জু স্যামসনের পথচলা কখনোই সরলরৈখিক ছিল না। কখনও ওপেনিং জুটির বিস্ফোরক অংশ, কখনও শুভমান গিলের প্রত্যাবর্তনে একাদশের বাইরে, আবার কখনও ইশান কিষানের কারণে জায়গা হারানো—দলে থাকলেও অবস্থান ছিল অনিশ্চিত।
কিন্তু যখন টুর্নামেন্টে ভারতের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত এলো—ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কার্যত কোয়ার্টারফাইনাল, ভেন্যু ইডেন গার্ডেন্স—তখন স্যামসন ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন অটল হয়ে।
৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস শুধু টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রানতাড়ায় কোনো ভারতীয়ের সর্বোচ্চ স্কোরই নয়, এটি এনে দেয় ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সফল রানতাড়া। এর ফলে সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
১৯৫ রানের লক্ষ্য তাত্ত্বিকভাবে বাস্তব মনে হলেও চাপ ছিল তীব্র। টুর্নামেন্টজুড়ে ভারত প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। হার মানেই বিদায়—এই বাস্তবতা নিয়ে শুরুটা ছিল ধীরগতির।
পাওয়ারপ্লেতে বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনের বিপক্ষে তুলনামূলক দুর্বল ম্যাচআপ থাকা সত্ত্বেও স্যামসন পাল্টে দেন চিত্রনাট্য—একটি কাটে চার, ফুল লেংথ বল সীমানার বাইরে ছক্কা, এরপর ব্যাকফুট পুল। যদিও হোসেন ফেরান অভিষেক শর্মাকে
জেসন হোল্ডারের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে শিমরন হেটমায়ারের হাতে ধরা পড়েন ইশান কিশান। তবু স্যামসনের ১৩ বলে ২৪ রানে পাওয়ারপ্লে শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৫৩/২।
পাওয়ারপ্লের পর চার ওভারে ভারত তোলে ৪৫ রান। হোল্ডারকে মিড-অফ দিয়ে পাঞ্চ, গুদাকেশ মোতিকে ফ্ল্যাট ব্যাটে ছক্কা, রোমারিও শেফার্ডের ওভারে চার-ছক্কা—২৬ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন স্যামসন।
অন্য প্রান্তে সূয কুমার যাদব স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। শামার জোসেফের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। কিছুটা চাপে পড়লেও তিলক বর্মা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের সমীকরণ নামিয়ে আনেন সহজ লক্ষ্যে।
শেষদিকে তিলক ও হার্দিক পান্ডিয়া আউট হলেও স্যামসন অবিচল থেকে চার বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করেন। এরপর হাঁটু গেড়ে নীরব উদযাপন—একটি দীর্ঘ অপেক্ষার প্রতীক।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ধীর। অধিনায়ক শাই হোপ ২৫ বলে ২৫ রান করেন। রোস্টন চেজ কিছুটা আক্রমণাত্মক ছিলেন, তবে পাওয়ারপ্লেতে আসে মাত্র ৪৫ রান।

ফিল্ডিং নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর বরুণ চক্রবর্তী বোলিংয়ে এসে হোপকে বোল্ড করেন। এরপর হেটমায়ার ঝড় তোলেন—এক ওভারে দুটি ছক্কা, টুর্নামেন্টে এক আসরে সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড (১৯) পুনরুদ্ধার করেন।
তবে জসপ্রিত বুমরাহর ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাচের মোড় ঘোরান। হেটমায়ারকে আউট করার পর একই ওভারে চেজকেও ফেরান। শেষ পাঁচ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে ৭০ রান—রোভম্যান পাওয়েল ও হোল্ডারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্কোর পৌঁছে ১৯৫/৪।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯৫/৪ (২০ ওভার)
রোস্টন চেজ ৪০, জেসন হোল্ডার ৩৭*
জসপ্রিত বুমরাহ ২/৩৬
ভারত: ১৯৯/৫ (১৯.২ ওভার)
সঞ্জু স্যামসন ৯৭*, তিলক ভার্মা ২৭
জেসন হোল্ডার ২/৩৮
ভারত জিতেছে ৫ উইকেটে।