১১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডায়াবেটিস রোগীরা কি আম-লিচু খেতে পারবেন?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ১০ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক

গরমকাল মানেই রসালো ফলের মৌসুম। বাজারে এখন উঠতে শুরু করেছে আম ও লিচু। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এই দুই ফল পছন্দ করেন প্রায় সবাই। শুধু সুস্বাদুই নয়, আম ও লিচুতে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণও।

আমে রয়েছে পর্যাপ্ত ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং পটাশিয়াম। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে ছোট্ট রসালো ফল লিচুর প্রায় ৮১ শতাংশই পানি, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেটসহ নানা উপকারী উপাদান। লিচুতে থাকা ফাইটোকেমিক্যালসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— স্যাপোনিন, স্টিগমারস্টেরল, এপিটিকন, লিউকোসায়ানডিন, মালভিডিন, গ্লাইকোসাইডস, প্রোকায়ানডিনস এ-২ ও বি-২।

তবে আম ও লিচু মিষ্টিজাতীয় ফল হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে এগুলো খাওয়া নিয়ে অনেক দ্বিধা কাজ করে। অনেকেই মনে করেন, ডায়াবেটিস থাকলে এই ফল একেবারেই খাওয়া যাবে না। কি ন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা।

পুষ্টিবিদরা জানান, আমে পুষ্টিগুণ থাকলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬-৬০ এবং গ্লাইসেমিক লোড ১৮-১৯ হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্ক থাকতে হয়। তবে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে মাসে কয়েকবার পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। যেমন— দিনে মোট কত ক্যালোরি গ্রহণ করা হচ্ছে তা হিসাব রাখা, একবেলা আম খেলে অন্য খাবার থেকে সমপরিমাণ কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে দেওয়া। দুপুর বা রাতের খাবারের সঙ্গে আম না খেয়ে সকালের নাশতায় খাওয়া তুলনামূলক ভালো। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আম খাওয়া উচিত।

চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা লিচুও খেতে পারেন, তবে তা হতে হবে পরিমিত। ডায়াবেটিসের মাত্রা বিবেচনা করে ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে লিচু খাওয়াই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ডায়াবেটিস রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল থাকে। লিচু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, লিচুর বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ ম্যাক্রোফেজ উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া লিচুতে থাকা ফাইবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। এতে কোলেস্টেরলও নেই। মানসিক চাপ কমানো এবং ইনসুলিন উৎপাদন উন্নত করতেও লিচু ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।

তাই আম, লিচু কিংবা অন্য যেকোনো মিষ্টিজাতীয় ফল খেতে হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

ডায়াবেটিস রোগীরা কি আম-লিচু খেতে পারবেন?

Update Time : ১১:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক

গরমকাল মানেই রসালো ফলের মৌসুম। বাজারে এখন উঠতে শুরু করেছে আম ও লিচু। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এই দুই ফল পছন্দ করেন প্রায় সবাই। শুধু সুস্বাদুই নয়, আম ও লিচুতে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণও।

আমে রয়েছে পর্যাপ্ত ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং পটাশিয়াম। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে ছোট্ট রসালো ফল লিচুর প্রায় ৮১ শতাংশই পানি, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেটসহ নানা উপকারী উপাদান। লিচুতে থাকা ফাইটোকেমিক্যালসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— স্যাপোনিন, স্টিগমারস্টেরল, এপিটিকন, লিউকোসায়ানডিন, মালভিডিন, গ্লাইকোসাইডস, প্রোকায়ানডিনস এ-২ ও বি-২।

তবে আম ও লিচু মিষ্টিজাতীয় ফল হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে এগুলো খাওয়া নিয়ে অনেক দ্বিধা কাজ করে। অনেকেই মনে করেন, ডায়াবেটিস থাকলে এই ফল একেবারেই খাওয়া যাবে না। কি ন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা।

পুষ্টিবিদরা জানান, আমে পুষ্টিগুণ থাকলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬-৬০ এবং গ্লাইসেমিক লোড ১৮-১৯ হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্ক থাকতে হয়। তবে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে মাসে কয়েকবার পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। যেমন— দিনে মোট কত ক্যালোরি গ্রহণ করা হচ্ছে তা হিসাব রাখা, একবেলা আম খেলে অন্য খাবার থেকে সমপরিমাণ কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে দেওয়া। দুপুর বা রাতের খাবারের সঙ্গে আম না খেয়ে সকালের নাশতায় খাওয়া তুলনামূলক ভালো। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আম খাওয়া উচিত।

চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা লিচুও খেতে পারেন, তবে তা হতে হবে পরিমিত। ডায়াবেটিসের মাত্রা বিবেচনা করে ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে লিচু খাওয়াই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ডায়াবেটিস রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল থাকে। লিচু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, লিচুর বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ ম্যাক্রোফেজ উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া লিচুতে থাকা ফাইবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। এতে কোলেস্টেরলও নেই। মানসিক চাপ কমানো এবং ইনসুলিন উৎপাদন উন্নত করতেও লিচু ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।

তাই আম, লিচু কিংবা অন্য যেকোনো মিষ্টিজাতীয় ফল খেতে হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।