আলী আজীম, মোংলা (বাগেরহাট)
মোংলায় টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শুক্রবারেও (১০ জুলাই) অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে নৌ-সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
একটানা বর্ষণে ভ্যাপসা গরম কমলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, রাস্তাঘাট জলমগ্ন এবং জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক ও মৎস্যজীবীসহ দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
বৃষ্টি মৌসুমের আগে রাস্তা মেরামত না করাসহ নানান কারণে হালকা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের। কেবল প্রবল বৃষ্টিতে না, বরং সামান্য বৃষ্টিতেও পৌর ১নং ওয়ার্ডসহ নানান জায়গায় এই দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি সহজেই লক্ষণীয়। কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত স্থায়ীভাবে পদক্ষেপ না নেবে, ততক্ষণ পৌরবাসীর ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে। এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।
ব্যস্ত বাজার ও সড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে এক ধরনের নীরবতা। তার উপর বৃষ্টির পানিতে আবার বিভিন্ন কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে কৃষিকাজ, নির্মাণকাজ এবং খোলা আকাশের নিচে অধিকাংশ শ্রমনির্ভর কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমজীবী মানুষ।
দিনমজুর কবিরুল বলেন, টানা বৃষ্টিতে কোনো কাজ করতে পারিনি। সংসারের বাজার কীভাবে করব, সেটাই এখন বড় চিন্তা। ভ্যানচালক নজরুল জানান, যাত্রীসংখ্যা অনেক কমে যাওয়ায় সারাদিন ভিজে থেকেও কাক্সিক্ষত আয় হচ্ছে না।
একই ধরনের সংকটের কথা জানান দৈনিক শ্রমিক রেজাউল। তিনি বলেন, একদিন কাজ না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না। সেখানে এত দিনের বৃষ্টিতে কাজ নেই। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বৃষ্টিতে কাঁচা সড়কগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী স্বপ্না জানান, স্কুল-কলেজে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী ও মৎস্যঘেরে স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এমদাদুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে বাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে। কেনাবেচা অনেক কমে গেছে।
তবে কৃষকদের একাংশের মতে, আষাঢ়ের এই বৃষ্টি আমন চাষের জন্য উপকারী। যদিও অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে আমনের বীজতলা ও কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কোথাও যাতে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
Reporter Name 





















