১০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হুঁশিয়ারি বিরোধী জোটের

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকলে আন্দোলন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • ৭৪ Time View

অনলাইন ডেস্ক

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, ‘আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
আজ শনিবার রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমরা আজকে বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামীকাল যদি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অধিবেশন না ডাকে, তাহলে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হবো। শীর্ষ নেতারা বৈঠক ডেকে কর্মসূচি দেবেন।’
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বিরোধী লগুলো। এ বিষয়ে শিগগিরই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।’
আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানান ড. হামিদুর রহমান আজাদ।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ দুই জায়গাতেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’
এ সময় জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
এসময় মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজের অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন ঈদের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরো ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
এদিকে ঈদ সামগ্রী পেয়ে উপকৃত পরিবারগুলো সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের জন্য ঈদের বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই সহায়তা তাদের ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

হুঁশিয়ারি বিরোধী জোটের

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকলে আন্দোলন

Update Time : ০২:৩৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, ‘আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
আজ শনিবার রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমরা আজকে বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামীকাল যদি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অধিবেশন না ডাকে, তাহলে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হবো। শীর্ষ নেতারা বৈঠক ডেকে কর্মসূচি দেবেন।’
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বিরোধী লগুলো। এ বিষয়ে শিগগিরই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।’
আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানান ড. হামিদুর রহমান আজাদ।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ দুই জায়গাতেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’
এ সময় জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
এসময় মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজের অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন ঈদের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরো ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
এদিকে ঈদ সামগ্রী পেয়ে উপকৃত পরিবারগুলো সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের জন্য ঈদের বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই সহায়তা তাদের ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।