১০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লবণাক্ত জমিতে গমের বাম্পার ফলন, গবেষণা শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • ৭৩ Time View

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

সাগর থেকে খুব বেশি দূরে নয় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারসংলগ্ন আমিরাবাদ গ্রাম। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অনেক কৃষকের জমি পতিত পড়ে থাকত। তাই এবার লবণাক্ত ও পতিত জমিতে লবণ সহিষ্ণু জাতের গম উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন জাত উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় অন্তত ৩০ জন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে গম চাষ করেছেন। প্রথমবারেই তারা পেয়েছেন বাম্পার ফলন। শুধু ভালোই নয়, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। নামমাত্র খরচে পতিত জমিতে গম উৎপাদন করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চান তারা।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে কৃষকদের গবেষণা কার্যক্রম ও গমক্ষেত পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন। এ সময় কৃষক গোলাম সরোয়ারের বাড়ির উঠানে কৃষকদের অংশগ্রহণে গমের জাত নির্বাচন গবেষণার অগ্রবর্তী লাইনসমূহের মাঠ মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গম চাষে সফল কৃষক গোলাম সরোয়ার জানান, লবণাক্ততার কারণে বছরে প্রায় ছয় মাস তার জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের পরামর্শে ১০ বিঘা জমিতে গম চাষ করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। প্রথমবার গম চাষ করে সফল হওয়ায় তার ক্ষেত দেখতে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা আসছেন।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে আমন ধান কাটার পর অধিকাংশ জমি পতিত থাকে। লবণ সহিষ্ণু গম চাষাবাদের মাধ্যমে এসব জমি চাষের আওতায় আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ সাফল্য দেখে অন্যান্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন।
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কলাপাড়া উপজেলায় লবণাক্ত ও পতিত জমিতে গম চাষ করে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। লবণাক্ত এলাকায় লবণ সহিষ্ণু গমের জাত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ল্যাবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং করে বাছাই করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এখানকার কৃষকরা লবণ সহিষ্ণু আটটি জাতের গমের বীজ চাষ করেছেন। যে জাতটির ফলন ভালো হবে, সেটিই উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাষাবাদের জন্য নির্বাচন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

লবণাক্ত জমিতে গমের বাম্পার ফলন, গবেষণা শুরু

Update Time : ০৪:০৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

সাগর থেকে খুব বেশি দূরে নয় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারসংলগ্ন আমিরাবাদ গ্রাম। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অনেক কৃষকের জমি পতিত পড়ে থাকত। তাই এবার লবণাক্ত ও পতিত জমিতে লবণ সহিষ্ণু জাতের গম উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন জাত উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় অন্তত ৩০ জন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে গম চাষ করেছেন। প্রথমবারেই তারা পেয়েছেন বাম্পার ফলন। শুধু ভালোই নয়, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। নামমাত্র খরচে পতিত জমিতে গম উৎপাদন করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চান তারা।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে কৃষকদের গবেষণা কার্যক্রম ও গমক্ষেত পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন। এ সময় কৃষক গোলাম সরোয়ারের বাড়ির উঠানে কৃষকদের অংশগ্রহণে গমের জাত নির্বাচন গবেষণার অগ্রবর্তী লাইনসমূহের মাঠ মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গম চাষে সফল কৃষক গোলাম সরোয়ার জানান, লবণাক্ততার কারণে বছরে প্রায় ছয় মাস তার জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের পরামর্শে ১০ বিঘা জমিতে গম চাষ করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। প্রথমবার গম চাষ করে সফল হওয়ায় তার ক্ষেত দেখতে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা আসছেন।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে আমন ধান কাটার পর অধিকাংশ জমি পতিত থাকে। লবণ সহিষ্ণু গম চাষাবাদের মাধ্যমে এসব জমি চাষের আওতায় আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ সাফল্য দেখে অন্যান্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন।
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কলাপাড়া উপজেলায় লবণাক্ত ও পতিত জমিতে গম চাষ করে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। লবণাক্ত এলাকায় লবণ সহিষ্ণু গমের জাত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ল্যাবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং করে বাছাই করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এখানকার কৃষকরা লবণ সহিষ্ণু আটটি জাতের গমের বীজ চাষ করেছেন। যে জাতটির ফলন ভালো হবে, সেটিই উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাষাবাদের জন্য নির্বাচন করা হবে।