১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করছেন? সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক

সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই দিনের শুরু করেন এক কাপ গরম ব্ল্যাক কফি দিয়ে। তবে খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করার এই অভ্যাস উদ্বেগ, অস্থিরতা এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে কফি পান করলে এতে থাকা ক্যাফেইন শরীরে অনেক দ্রুত শোষিত হয়। ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র হঠাৎ করেই অতিরিক্ত উদ্দীপিত হয়ে পড়ে, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
দ্রুত শোষিত হয় ক্যাফেইন
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলে ক্যাফেইন খুব দ্রুত রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে। এতে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীরে এক ধরনের অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এর ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত কাঁপা, অস্থিরতা, অযথা দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যারা স্বাভাবিকভাবেই ক্যাফেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।

সকালে কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকে
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ঘুম থেকে ওঠার প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই কর্টিসল বা ‘স্ট্রেস হরমোন’-এর মাত্রা সর্বোচ্চ অবস্থায় থাকে।

এ সময় খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলে ক্যাফেইন কর্টিসলের কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও স্নায়ুবিক অস্থিরতার অনুভূতি তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

খাবার না থাকলে বাড়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি
চিকিৎসকদের মতে, খালি পেটে কোনও খাবার না থাকলে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি বা জটিল শর্করার মতো উপাদান ক্যাফেইনের শোষণ ধীর করতে পারে না।

ফলে ক্যাফেইন খুব দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছে এমন রাসায়নিক উপাদানের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যা শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এতে একদিকে সতর্কতা ও কর্মক্ষমতা বাড়লেও অন্যদিকে হাত কাঁপা, অস্থিরতা ও উদ্বেগের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কফি ছাড়ার প্রয়োজন নেই
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ কারণে কফি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

বরং সকালের নাশতা খাওয়ার পর কফি পান করা সবচেয়ে ভালো। যদি পূর্ণাঙ্গ নাশতা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত হালকা কোনও খাবার- যেমন: ফল, বাদাম, দই বা একটি টোস্ট- খেয়ে তারপর কফি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এতে ক্যাফেইন ধীরে ধীরে শরীরে শোষিত হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমে আসে।

উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, যারা আগে থেকেই উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপে ভুগছেন, তাদের খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করা এড়িয়ে চলা উচিত।

কারণ, এসব ব্যক্তির শরীর ক্যাফেইনের প্রতি তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হতে পারে এবং তাদের ক্ষেত্রে উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি ও অস্থিরতার মতো উপসর্গ আরও বেশি দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়
চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, এসব তথ্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনও ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

যদি কারও দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা অন্য কোনও স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

অবসরের গুঞ্জনের মাঝেই রহস্যময় বার্তা পর্তুগিজ মহাতারকার

খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করছেন? সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

Update Time : ০৭:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক

সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই দিনের শুরু করেন এক কাপ গরম ব্ল্যাক কফি দিয়ে। তবে খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করার এই অভ্যাস উদ্বেগ, অস্থিরতা এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে কফি পান করলে এতে থাকা ক্যাফেইন শরীরে অনেক দ্রুত শোষিত হয়। ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র হঠাৎ করেই অতিরিক্ত উদ্দীপিত হয়ে পড়ে, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
দ্রুত শোষিত হয় ক্যাফেইন
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলে ক্যাফেইন খুব দ্রুত রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে। এতে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীরে এক ধরনের অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এর ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত কাঁপা, অস্থিরতা, অযথা দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যারা স্বাভাবিকভাবেই ক্যাফেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।

সকালে কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকে
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ঘুম থেকে ওঠার প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই কর্টিসল বা ‘স্ট্রেস হরমোন’-এর মাত্রা সর্বোচ্চ অবস্থায় থাকে।

এ সময় খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলে ক্যাফেইন কর্টিসলের কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও স্নায়ুবিক অস্থিরতার অনুভূতি তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

খাবার না থাকলে বাড়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি
চিকিৎসকদের মতে, খালি পেটে কোনও খাবার না থাকলে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি বা জটিল শর্করার মতো উপাদান ক্যাফেইনের শোষণ ধীর করতে পারে না।

ফলে ক্যাফেইন খুব দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছে এমন রাসায়নিক উপাদানের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যা শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এতে একদিকে সতর্কতা ও কর্মক্ষমতা বাড়লেও অন্যদিকে হাত কাঁপা, অস্থিরতা ও উদ্বেগের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কফি ছাড়ার প্রয়োজন নেই
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ কারণে কফি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

বরং সকালের নাশতা খাওয়ার পর কফি পান করা সবচেয়ে ভালো। যদি পূর্ণাঙ্গ নাশতা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত হালকা কোনও খাবার- যেমন: ফল, বাদাম, দই বা একটি টোস্ট- খেয়ে তারপর কফি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এতে ক্যাফেইন ধীরে ধীরে শরীরে শোষিত হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমে আসে।

উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, যারা আগে থেকেই উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপে ভুগছেন, তাদের খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করা এড়িয়ে চলা উচিত।

কারণ, এসব ব্যক্তির শরীর ক্যাফেইনের প্রতি তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হতে পারে এবং তাদের ক্ষেত্রে উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি ও অস্থিরতার মতো উপসর্গ আরও বেশি দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়
চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, এসব তথ্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনও ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

যদি কারও দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা অন্য কোনও স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।