০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন দেশেই হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, থাকছে যেসব চমক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ৬ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে থাকছে আরও একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন—তিনটি ভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
এতদিন বিশ্বকাপ মানেই ছিল একটি দেশ ও একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এমনকি ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে আসর আয়োজন করলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল শুধুমাত্র সিউলে। তবে এবার সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয় তুলে ধরতে আলাদা আয়োজন করেছে তিন আয়োজক দেশ।
মেক্সিকোতেই প্রথম উৎসবের শুরু

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। তার ৯০ মিনিট আগে, রাত ১১টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মেক্সিকোর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে সাজানো অনুষ্ঠানে থাকছে আদিবাসী শিল্পীদের পরিবেশনা, লোকসংগীত এবং ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্পের প্রদর্শনী। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ডাই ডাই (লেটস গো)’ পরিবেশন করবেন শাকিরা ও বার্না বয়।

এ ছাড়া বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের শিল্পীদের মধ্যে আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস, মানা ও টাইলা মঞ্চ মাতাবেন।

বিশ্বকাপের উদ্বোধন ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। এ উপলক্ষে স্কুল বন্ধ রাখা, সরকারি কর্মীদের জন্য বাসা থেকে কাজের সুযোগ এবং বিশেষ ছুটির ব্যবস্থাও করেছে মেক্সিকো সরকার।

কানাডার মঞ্চে নোরা ফাতেহি

কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে টরন্টো স্টেডিয়ামে। সেখানে স্বাগতিক কানাডা খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে অনুষ্ঠান, আর ম্যাচ মাঠে গড়াবে রাত ১টায়।

দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গৌরবময় মুহূর্তগুলো তুলে ধরতে বিশেষ কাউন্টডাউনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আয়োজন। পারফর্ম করবেন অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয়, ভেজেড্রিম ও উইলিয়াম প্রিন্সসহ আরও অনেকে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে তারকাদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। এরপর সকাল ৭টায় মাঠে নামবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।

বৃহৎ ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মঞ্চায়ন এবং গল্পভিত্তিক পরিবেশনার পাশাপাশি গান পরিবেশন করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা ও টাইলারের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।

ভিন্ন আয়োজন, একই বার্তা

মেক্সিকো সিটি, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেস—তিন শহরের অনুষ্ঠান হবে ভিন্ন ভিন্ন আবহ ও উপস্থাপনায়। তবে তিন আয়োজনের মূল বার্তা একটাই—সংস্কৃতি, সংগীত ও ফুটবলের শক্তিতে বিশ্বের মানুষকে এক সুতোয় গাঁথা।

বিশ্বকাপের তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযোজক মার্কো বালিচ। অলিম্পিকসহ একাধিক বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করা বালিচ জানিয়েছেন, প্রতিটি আয়োজনের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকবে, তবে সবগুলোই ফুটবলের ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তাকে সামনে নিয়ে আসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন দেশেই হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, থাকছে যেসব চমক

Update Time : ১২:২১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে থাকছে আরও একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন—তিনটি ভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
এতদিন বিশ্বকাপ মানেই ছিল একটি দেশ ও একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এমনকি ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে আসর আয়োজন করলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল শুধুমাত্র সিউলে। তবে এবার সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয় তুলে ধরতে আলাদা আয়োজন করেছে তিন আয়োজক দেশ।
মেক্সিকোতেই প্রথম উৎসবের শুরু

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। তার ৯০ মিনিট আগে, রাত ১১টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মেক্সিকোর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে সাজানো অনুষ্ঠানে থাকছে আদিবাসী শিল্পীদের পরিবেশনা, লোকসংগীত এবং ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্পের প্রদর্শনী। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ডাই ডাই (লেটস গো)’ পরিবেশন করবেন শাকিরা ও বার্না বয়।

এ ছাড়া বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের শিল্পীদের মধ্যে আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস, মানা ও টাইলা মঞ্চ মাতাবেন।

বিশ্বকাপের উদ্বোধন ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। এ উপলক্ষে স্কুল বন্ধ রাখা, সরকারি কর্মীদের জন্য বাসা থেকে কাজের সুযোগ এবং বিশেষ ছুটির ব্যবস্থাও করেছে মেক্সিকো সরকার।

কানাডার মঞ্চে নোরা ফাতেহি

কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে টরন্টো স্টেডিয়ামে। সেখানে স্বাগতিক কানাডা খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে অনুষ্ঠান, আর ম্যাচ মাঠে গড়াবে রাত ১টায়।

দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গৌরবময় মুহূর্তগুলো তুলে ধরতে বিশেষ কাউন্টডাউনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আয়োজন। পারফর্ম করবেন অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয়, ভেজেড্রিম ও উইলিয়াম প্রিন্সসহ আরও অনেকে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে তারকাদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। এরপর সকাল ৭টায় মাঠে নামবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।

বৃহৎ ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মঞ্চায়ন এবং গল্পভিত্তিক পরিবেশনার পাশাপাশি গান পরিবেশন করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা ও টাইলারের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।

ভিন্ন আয়োজন, একই বার্তা

মেক্সিকো সিটি, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেস—তিন শহরের অনুষ্ঠান হবে ভিন্ন ভিন্ন আবহ ও উপস্থাপনায়। তবে তিন আয়োজনের মূল বার্তা একটাই—সংস্কৃতি, সংগীত ও ফুটবলের শক্তিতে বিশ্বের মানুষকে এক সুতোয় গাঁথা।

বিশ্বকাপের তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযোজক মার্কো বালিচ। অলিম্পিকসহ একাধিক বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করা বালিচ জানিয়েছেন, প্রতিটি আয়োজনের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকবে, তবে সবগুলোই ফুটবলের ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তাকে সামনে নিয়ে আসবে।